Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

খালেদা জিয়ার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নিউহোপ চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিনের সাক্ষাত্

« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে সঙ্কটাপন্ন ও বিপজ্জনক উল্লেখ করে বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে আইনের শাসনের অবসান ঘটিয়ে একদলীয় বাকশালী দুঃশাসন কায়েম করতে চাইছে। এব্যাপারে আন্তর্জাতিক মানবধিকার সংগঠনগুলোকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন নিউহোপের চেয়ারম্যান, বর্ণবৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটেনের রানী কর্তৃক এমবিই ( মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ অ্যাম্পায়ার) খেতাবপ্রাপ্ত মুহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় চেয়ারপার্সনের মধ্যপ্রাচ্য উপদেষ্টা মো. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, একান্ত সচিব সালেহ আহমেদ, মুহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই’র স্ত্রী ডা. সালেহা জেবা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ফয়েজ উদ্দিন এমবিই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, নজরুল ইসলাম খান ও ড. মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন। বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্কালে মুহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই মানবাধিকার সংগঠন নিউহোপের পক্ষ থেকে বেগম জিয়াকে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট এবং হিউম্যান রাইটস ভায়োলেট ইন বাংলাদেশ, ডিউরিং আওয়ামী লীগ ২০০৯-২০১২ শীর্ষক রিপোর্ট প্রদান করেন। এ সময় তিনি বেগম জিয়াকে নিউহোপের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
বেগম জিয়া নিউহোপের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে সেটা বিশ্বের কাছে পরিষ্কার। অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে নিউহোপ যে কাজ করছে সেটা দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত মঙ্গলজনক। বেগম জিয়া নিউহোপে যেসব বাংলাদেশী কাজ করছেন তাদের সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমিক শক্তির সহায়ক ও ভালো বন্ধু বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি ফয়েজ উদ্দিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে তিনি তাকে দেশপ্রেমিক জাতীয়তবাদে বিশ্বাসী শক্তির সঙ্গে দেখতে চান।
বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ইলিয়াস আলী গুম, চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুকের ওপর বর্বরোচিত পুলিশি হামলা, ছাত্রলীগ কর্তৃক নিরীহ যুবক বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের মানবতাবিরোধী কার্যক্রম বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত করেছে। কিন্তু এরপরও সরকার নির্লজ্জের মতো বলছে দেশে আইনের শাসন চলছে। বেগম জিয়া বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতির পুনর্বহালের মাধ্যমে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি নিয়ে আন্দোলন করায় আওয়ামী লীগ সরকার গুম, খুন ও জেল-জুলুমের পথ বেছে নিয়েছে। বিচারের নামে সরকারের প্রহসনের স্কাইপ দুর্নীতি প্রকাশ করায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে পত্রিকা অফিসে অবরুদ্ধ করে রেখেছে সরকার, বিএনপির দফতর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী আহমদ প্রায় ১ মাস ধরে দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ। তাদের আইনের আশ্রয় নিতে দিচ্ছে না। সাগর-রুনি নিয়ে সরকার তামাশা করছে। বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ দিয়ে বাধা দিচ্ছে।
বেগম জিয়া বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানে প্রকাশ্যে বিরোধী দলের লোকদের রাজপথে শায়েস্তা করতে তার দলের লোকদের নির্দেশ দিয়েছে সেখানে আইনের শাসনের কি নমুনা হতে পারে সেটা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে পরিষ্কার। সরকার সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রশাসনে দলীয় লোকদের সাজাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বেগম জিয়া মুহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিইকে সরকারের মানবতাবিরোধী কার্যক্রম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরতে বলেন। এ সময় মুহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই বেগম জিয়াকে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে নিউহোপের উদ্বেগের কথা জানান এবং বিষয়গুলো বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানান। বিজ্ঞপ্তি