Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ১৪ দলের শরিকরা

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা। জোটের বাম ঘরানার শরিকরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দলগতভাবে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও প্রধান শরিক আওয়ামী লীগকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। অবশ্য শরিকদের আন্দোলনে অনাপত্তি জানিয়ে আওয়ামী লীগ বলেছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে দলগতভাবে অবশ্যই তাদের আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো ইস্যুতে আন্দোলনে গেলে আওয়ামী লীগের কোনো আপত্তি থাকবে না। তবে, আন্দোলন-সংগ্রামকে কেন্দ্র করে জোটে কোনো ধরনের ফাটল ধরবে না এমনটাও মনে করে তারা।
গতকাল আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১৪ দলের মানববন্ধন
কর্মসূচি আগামী ২৪ জানুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল ৭ জানুয়ারি মানববন্ধন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত থাকলেও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলসহ বিভিন্ন কারণে প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেয়া হলো।
সূত্র জানিয়েছে, সভায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে শরিক দলের নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা সরকারের জন্য মোটেই সুখকর হয়নি। এর ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনবে। সামনে ইরি মৌসুম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে তেলের দাম বৃদ্ধিতে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব পড়বে। সুতরাং বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করাই মঙ্গলজনক। মেননের বক্তব্যের সমর্থন করে ১৪ দলের প্রায় সব নেতাই বক্তব্য রাখেন। মেনন দাবি করেন, বিদ্যুতের দাম যাতে না বাড়ানো হয় সে ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে।
সভায় রাশেদ খান আরও বলেন, নির্বাচনের এক বছর আগে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হয়নি। ভারতে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পর শরিকদের চাপে সরকার দাম কমিয়েছে। সরকার চাইলে এটা সম্ভব। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতারা নীরবতা পালন করেন। আওয়ামী লীগের নূরুর রহমান সেলিম নতুন জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানান। এর জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সরকারের কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকতে ৯ বার তেলের দাম বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সূত্র আরও জানায়, জ্বালানি তেল ইস্যুতে তাদের (বাম দলগুলোর) নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে এর প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা বলেন। এ সময় তিনি তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির আগামীকালের কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। মেনন খানের এই বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে কর্মসূচি দেয়া। আপনারা তো কর্মসূচি দিতেই পারেন। এ ধরনের কর্মসূচি জোটে কোনো ধরনের ফাটল ধরবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে বৈঠকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের বিএনপি-জামায়াতের ‘ষড়যন্ত্রে’র বিরুদ্ধে আগামী ২৪ জানুয়ারি দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচির আগে সারাদেশে গণসংযোগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন, মোহাম্মদ নাসিম, রাশেদ খান মেনন, দিলীপ বড়ুয়া, শরীফ নুরুল আম্বিয়া।
মানববন্ধনে ব্যাপক লোকসমাগমের লক্ষ্যে ২৪ তারিখের আগ পর্যন্ত ১৪ দলের নেতারা জেলায় জেলায় গণসংযোগ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। সূত্র জানায়, সভায় ১৪ দলের কর্মসূচি ঘোষণা হলেও বাস্তবায়নে জোটের নেতাদের ধীরগতির সমালোচনা করে বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক। তিনি বলেন, আমাদের ৭ জানুয়ারির মানববন্ধন বাতিল করা হয়েছে তা আমরা জানতে পেরেছি দুই দিন আগে। জাসদের শরিফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া চলবে না। যুদ্ধে যখন নেমেছি আমাদের জয়ী হতেই হবে।
পৌনে ২ ঘণ্টার সভা শেষে কর্মসূচির কথা জানিয়ে আমির হোসেন আমু সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে আগামী ২৪ জানুয়ারি সারাদেশে ১৪ দল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে। তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা ও আমাদের দলের সাংগঠনিক কিছু ব্যাপারে আমরা আমাদের মানববন্ধন কর্মসূচির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছি আগামী ২৪ জানুয়ারি। তার আগে ১৪ দলের নেতারা সারাদেশের জেলা সফর করবেন।
হাতকড়া অবস্থায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর জন্য বিরোধী দল সরকারকে দায়ী করছে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আমু বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কোনো বিষয়ে যে কেউ যে কাউকে অভিযুক্ত করতে পারে।
কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কার্যকরী সভাপতি মাইনউদ্দিন খান বাদল, গণআজাদী লীগের সভাপতি হাজী আবদুস সামাদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক অসিত বরন রায়, ন্যাপের অ্যাডভোকেট এনামুল হক প্রমুখ।