Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

হরতালের বিরুদ্ধে বিষোদগার : দুই নেত্রীকে সংলাপে বসানোর উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা এফবিসিসিআই সভাপতির : শেখ মুজিবের কবরে শ্রদ্ধা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের নজির স্থাপন করলেন কাজী আকরাম উদ্দিন। এর আগে ব্যবসায়ীদের কোনো সংগঠনের প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক নেতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনা ঘটেনি। এর আগে আওয়ামী ঘরানার অনেকে এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করলেও তাদের কেউ শেখ মুজিবের কবরে যাননি। এমনকি বিজিএমইএ, বেকেএমইএ, বিটিএমএসহ অন্য কোনো সংগঠনের নেতাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক দলের নেতার সমাধিতে যাওয়ার নজির নেই।
গতকাল এফবিসিসিআই’র নবনির্বাচিত পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রতিনিধিদলে অপর দুই সদস্য হলেন সংগঠনের প্রথম সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী এবং সহ-সভাপতি মো. হেলালউদ্দিন।
এদিকে এফবিসিসিআই সভাপতিসহ দুই সহ-সভাপতির শেখ মুজিবের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের
রাজনৈতিক নিরেপক্ষতা এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী আমার দেশ-কে বলেন, ব্যক্তি হিসেবে যে কোনো ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেও কোনো বাধা নেই। কিন্তু ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের কার্যক্রম ব্যবসায়ীদের স্বার্থেই পরিচালনা করা উচিত। কিন্তু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে একটি দলের প্রতি তাদের অনুগতের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তারা আরও বলেন, আকরাম উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। কিন্তু তিনি এখানে দলীয় পরিচয়ে নয় বরং একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এফবিসিসিআই’র সভাপতি হয়েছেন। তার উচিত দলীয় চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করা। কিন্তু তিনি যেভাবে কাজ করছেন তাতে শেষ পর্যন্ত এফবিসিসিআই’র মতো একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে কতটা সফল হতে পারেন তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রতিনিধি দলের সদস্য হেলাল উদ্দিন জানান, বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সম্মান জানানো রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। জাতির জনক হিসেবে বঙ্গবন্ধু এ সম্মান পেতেই পারেন। এর আগে এফবিসিসিআই’র কোনো কমিটি জাতির জনকের সমাধিতে আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানায়নি বলেও জানান হেলাল উদ্দিন। পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়ে বোর্ডের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্তের কারণে বোর্ডের অনুমতি নেয়া হয়নি। প্রেসিডেন্টের (আকরাম) মা টুঙ্গিপাড়ায় থাকেন। তিনি অসুস্থ থাকায় তড়িঘড়ি করে এ সফরের আয়োজন করেছেন।
এদিকে গতকাল শেখ মুজিবের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিরোধীদলের ডাকা হরতালকে ইস্যুবিহীন উল্লেখ করে বলেন, আমরা অর্থনৈতিক উন্নতির কারণে প্রশংসিত হচ্ছি। আমাদের পিছিয়ে দেয়ার জন্য ইস্যুবিহীন হরতাল ডাকছে বিরোধী দল। তিনি হরতাল না করতে বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান। তবে বিরোধী দলের সমালোচনা করলেও রাজনৈতিক সমাঝোতার জন্য দুই নেত্রীকে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি। তবে তার এ উদ্যোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলেই বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপি যখন হরতাল আহ্বান করেছিল তখন কাজী আকরাম উদ্দিন তার সমালোচনা করে বলেছিলেন, ইলিয়াসকে উদ্ধারে সরকারকে সময় না দিয়েই বিএনপি হরতাল ডেকেছে। ইলিয়াসকে খুঁজে পাওয়া যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন। সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কাজী আকরাম উদ্দিন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যই শুধুু নন, তিনি শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়ও বটে।
সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ সফরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির সমালোচনা করেন কাজী আকরাম। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ায় সারাবিশ্বে বাংলাদেশ নন্দিত হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের নিন্দিত করার জন্য হরতালের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিচ্ছে বিরোধী দল। হরতাল আমাদের ব্যবসায়-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করে। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতিতে বিশ্বে জায়ান্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে প্রশংসিত হচ্ছি। আমাদের পিছিয়ে দেয়ার জন্য ইস্যুবিহীন হরতাল করা হচ্ছে। এরপর উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য দলীয় গণ্ডীর মধ্যে ব্যবসায়ীদের ছাড়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির একজন সদস্য বঙ্গবন্ধুর মাজার থেকে দু’দলের মধ্যে সংলাপের দাওয়াত দেয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পক্ষপাতদুষ্ট এফবিসিসিআই’র ব্যবস্থাপনায় সংলাপ হলে তা কতটুকু সফল হবে তা নিয়েও ব্যবসায়ীরা সন্দিহান।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা চৌধুরী এমদাদুল হক, মাহাবুব আলী খান, সোলায়মান বিশ্বাস, উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, পৌর মেয়র মো. ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এফবিসিসিআই’র ২০১২-১৪ মেয়াদের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন গত ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আকরাম উদ্দিনের পক্ষে ভোটারদের নানাভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিরোধী প্রার্থীর সমর্থকদের মারধরের অভিযোগও রয়েছে। ২৯ নভেম্বর এ কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে।