Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

প্রধানমন্ত্রী আজ নোয়াখালী যাচ্ছেন : চার বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, ১১ দাবি এলাকাবাসীর

আজাদ ভূঁইয়া, নোয়াখালী
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
দীর্ঘ ১৩ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ নোয়াখালী আসছেন। মহাজোট সরকারের শাসনামলে নোয়াখালীতে এটি তার প্রথম সফর। এর আগে ২০০০ সালের ২৩ জানুয়ারি শেখ হাসিনা সফর করেছিলেন। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালীর ৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এজন্য জনসভাস্থলে মঞ্চের পূর্বপাশেই একটি ওয়াল নির্মাণ করে ওয়ালের মধ্যে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের নামফলক লাগানো হয়েছে। এখানে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। প্রকল্পগুলো হলো, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ ভবন, সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিস ও ডিফেন্স স্টেশন, কবিরহাট উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদ ভবন কমপ্লেক্স, নোয়াখালী সদর সুবর্ণচর উপজেলায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ পাইলট কার্যক্রম প্রবর্তন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন এবং নোয়াখালী পৌর ভবন নির্মাণ, নতুন ডাকাতিয়া ও পুরাতন ডাকাতিয়া ছোট ফেনী নদী নিষ্কাশন প্রকল্পের অধীন মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণ, চাটখিল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী জেলা শহর মাইজদী হাউজিং এস্টেট মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন। জেলাবাসী নোয়াখালীকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ১১টি দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের মধ্যে এ দাবিগুলোর বাস্তবায়ন চায় এ অঞ্চলের মানুষ।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ঢাকা-সোনাপুর মহাসড়ককে নানা সাজে সজ্জিত করা হচ্ছে। মহাসড়কে নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রী ও দলের নেতাদের ছবি সংবলিত রঙবেরঙের শত শত তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতাদের অনুসারীরা তাদের নেতার সমর্থনে নিজের ছবি, নেতার ছবি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত পোস্টার এবং ব্যানার দিয়ে তোরণ নির্মাণ করছেন। সড়কের দু’পাশ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগানে পোস্টার ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে নানা সাজে সাজিয়েছেন।
নেতাকর্মীদের মাঝে রয়েছে বাড়তি আনন্দের আমেজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। জেলা সদরকে নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জনসভাস্থল পরিদর্শনকালে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের কাছে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ উপলক্ষে গতকাল সকাল ১০টায় মাইজদী হাউজিং মাঠে জনসভাস্থলে জেলা আওয়ামী লীগ এক সংবাদ সম্মেলন করেছে। এতে নোয়াখালী সদর-৪ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালীকে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ঘোষণাসহ ১১টি দাবি গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন এবং জনসভাকে নোয়াখালীর সর্বকালের বৃহত্ জনসভার ঘোষণাও দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সুবর্ণচর উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আনাম সেলিম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সিহাব উদ্দিন শাহিন, আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা মিঞা মো. শাহজাহান, মো. মমিন উল্যা বিএসসি, আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, সহিদ উল্যা খান সোহেল প্রমুখ।
দাবিগুলো হলো, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা, নোয়াখালী খাল পুনঃখনন, একটি ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা, নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা, চৌমুহনী থেকে সোনাপুর রেললাইনের পাশে একটি নতুন বিকল্প সড়ক নির্মাণ, সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত রেললাইন বর্ধিতকরণ, সোনাপুর-জোরারগঞ্জ (পুরাতন চট্টগ্রাম সড়ক) পাকা সড়ক নির্মাণ, চৌমুহনী ফ্লাইওভার নির্মাণ, নোয়াখালী শহরের চান্দিনি ভিটি স্থায়ী বন্দোবস্ত ও মূল্য পুনর্নির্ধারণ এবং সন্দ্বীপ-কোম্পানীগঞ্জ ক্রসডেম নির্মাণ।
এদিকে নোয়াখালীর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ জানিয়েছেন মহাজোট সরকারের আমলে এ অঞ্চলের অনেক না পাওয়ার কথা। গত চার বছরে নোয়াখালীতে উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগেনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ জানিয়েছেন, মহাজোট সরকারের গত চার বছরে নোয়াখালী জেলায় হাতেগোনা কয়েকটি কাজ ছাড়া তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গ্রেটার নোয়াখালী বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় সরকার এখানে তেমন কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম করেনি। তবে সরকারি দল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যোগাযোগমন্ত্রী নোয়াখালীর হওয়া সত্ত্বেও যোগাযোগ ব্যবস্থার লক্ষণীয় কোনো উন্নয়ন হয়নি। এ সরকারের আমলে চৌমুহনী চার লেনের কাজ শুরু হলে তা এখনও শেষ হয়নি, ঢিমেতালে চলছে। গ্রামীণ পাকা ও কাঁচা সড়কের বেহাল দশা। অধিকাংশ পাকা সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ গ্রামীণ কাঁচা সড়কের ভঙ্গুর অবস্থা। এসব সড়কে বড় ধরনের যান দূরে থাক, রিকশা মোটর সাইকেল সিএনজি চালানোও দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সড়কে রিপিয়ারিংয়ের কাজ করা হলেও কাজ শেষ হতে না হতেই তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নিজ নিজ এলাকার স্থানীয় জনগণ সরকারদলীয় ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানো এবং কমিশন ব্যবস্থাকে দুষছেন।
অপরদিকে নোয়াখালী সদর আসনের সুবর্ণচর উপজেলার ভূমিহীনরা অভিযোগ করেছেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এখানকার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ভূমিহীনদের জমি বুঝিয়ে দেয়ার কথা বললেও এখনও তারা জমি বুঝে পাননি। বেসরকারি সংস্থা সিডিএসপি সরেজমিনে মাঠ জরিপের কাজ করলেও ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের নানা অজুহাতে ভূমিহীনরা তাদের জমি বুঝে পাননি।
ভূমিহীনরা জানান, গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এ আসনের তখনকার এমপি মো. শাহাজাহানের নেতৃত্বে এ অঞ্চলে দস্যুবাহিনীকে নির্মূল করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শাসক দলের প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দস্যুবাহিনী সুসংগঠিত হয়েছে। দস্যুবাহিনীর নির্যাতন অত্যাচারে সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলা, উপকূলীয় এলাকা, মেঘনা ও বিস্তীর্ণ বঙ্গোপসাগর এলাকার জেলে পরিবার ও ভূমিহীনরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। সম্প্রতি দস্যুবাহিনীর প্রধান নিজাম ডাকাত র্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ার পর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি এলেও অপর দস্যুরা সংগঠিত হয়ে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় দস্যুবাহিনীর উপদ্রব বেড়েই চলেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খায়রুল আনাম সেলিমকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনে নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে জেলা পুলিশ সুপার হারুন-অর রশিদ হাযারী আমার দেশ-কে জানান, সাদা পোশাকধারী, র্যাবসহ তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে জনসভাকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।