আজ গণস্বাক্ষর কর্মসূচি : রংপুর রোকেয়া ভার্সিটির ভিসির অপসারণ দাবিতে ৩য় দিনের মতো অচল ক্যাম্পাস

রংপুর প্রতিনিধি « আগের সংবাদ
পরের সংবাদ» ২১ জুন ২০১৫, ২:৫৮ অপরাহ্ন

রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল জলিলের অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবিতে ৩য় দিনের মতো অচল ছিল ক্যাম্পাস। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন। ৩য় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা হয়নি। আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দুর্নীতিবিরোধী মঞ্চ তৈরি করে আজ গণস্বাক্ষর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে নিডস নামের যে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন দিয়েছে—তা বাতিল ঘোষণা করেছে বলে বিশ্ববিদ্যায়ের একটি সূত্রটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে। এদিকে ভিসিপন্থী ক’জন ছাত্রনেতা নানাভাবে আন্দোলকারীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভিসির অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবিতে শনিবার থেকে লাগাতার আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ওইদিন ভিসিপন্থী কিছু কর্মচারী-কর্মকর্তার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আসাদুজ্জামান নুর মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এখন ৪ তলার ১৪ নম্বর কক্ষে চিকিত্সাধীন। ডাক্তাররা বলেছেন, এখনও তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয়।
এদিকে ভিসির অপসারণ দাবিতে ৩য় দিনের মতো সচেতন শিক্ষক সমাজের ব্যানারে শিক্ষকদের একাংশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। গতকাল তারা ভিসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন এবং দুর্নীতিবিরোধী মঞ্চ তৈরি করেন। এসময় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ড. হাফিজুর রহমান সেলিম, ড. তুহিন ওয়াদুদ, ইলিয়াস প্রামাণিক, আশরাফুল আলম, শিক্ষার্থী হযরত বেলাল, আসমাউল হুসনা মনি, শরীফুল ইসলাম শরীফ প্রমুখ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলন ভিন্নখাতে নিতে কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের একটি পক্ষকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। ওই পক্ষটি এরইমধ্যে আন্দোলন না করার হুমকি দিয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ভিসির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিকে বিকালে ভিসিবিরোধী শিক্ষকরা গতকাল বিকালে এক জরুরি বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে—তা জানা যায়নি। তবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে বৈঠকের একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানিয়েছে।

শেষের পাতা এর আরও সংবাদ

সাপ্তাহিকী


উপরে