Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নদীরক্ষা কমিশন গঠন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
দেশের নদ-নদী রক্ষায় কমিশন গঠনে আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩’—এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে গত ৩ জুলাই এ আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া আইনটির অনুমোদের বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, নদ-নদী দখলমুক্ত করা, তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নদী খনন, পানি দূষণমুক্ত রাখাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে নদীরক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও পাঁচজন সদস্য থাকবেন। পাঁচ সদস্যের একজন হবেন সার্বক্ষণিক, চারজন অবৈতনিক। সদস্যদের মধ্যে একজন নদী বা পানি বিশেষজ্ঞ, একজন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, একজন নদী প্রকৌশলী, একজন মানবাধিকারকর্মী বা আইনবিদ থাকবেন। যাদের একজন হবেন নারী সদস্য। চেয়ারম্যান কমিশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের জন্য ছয় সদস্যের একটি বাছাই কমিটি করা হবে। মন্ত্রিপরিষদের সচিব বাছাই কমিটির প্রধানের দায়িত্বে থাকবেন। কমিটির সুপারিশে কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিয়োগ পাবেন। এর কার্যকাল হবে তিন বছর। একই ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব্বে থাকতে পারবেন না। কমিশনের প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। তবে সরকারের অনুমোদন নিয়ে আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের সুযোগ রয়েছে।
কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা জানার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে কমিশনকে। সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে কমিশন তা রাষ্ট্রপতিকে জানাবে। প্রতি বছর ৩১ মার্চের মধ্যে কমিশন তার আগের বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে প্রতিবেদন দেবে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশন নদী নিয়ে গবেষণা, নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, নদী রক্ষায় স্বল্প ও দীর্ঘকালীন পরিকল্পনা নেয়া এবং নদী রক্ষার্থে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এছাড়া নদীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে অবৈধ দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ করবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ছোট-বড় ২৩০টি নদ-নদী আছে। এর মধ্যে ৯৭টি মৃতপ্রায়। পরিবেশবাদীরা নদ-নদী পুনরুজ্জীবিত করার সুপরিকল্পিত কর্মকৌশল প্রণয়নের জন্য নদী কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন। কমিশন গঠনে আদালতেরও নির্দেশনা ছিল।
বৈঠকে ‘সার্ক এগ্রিমেন্ট অন র্যাপিড রেসপনস টু ন্যাচারাল ডিজাস্টার’ অনুসমর্থনের প্রস্তাবে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর ফলে সার্কভুক্ত দেশগুলো একটি দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে একে অপরকে সহযোগিতা করবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাহায্যকারী দেশ কোনো যানবাহন, টেলিযোগাযোগ সামগ্রী বা অন্যান্য দ্রব্যাদি আমদানিতে কর মওকুফ পাবে বলেও তিনি জানান।
গত ২১-২৮ নভেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের মোরিশাস, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মালয়েশিয়া সফরে জনশক্তি রফতানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় বিদেশে কর্মী পাঠাতে জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে, রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে হচ্ছে এবং আগামী ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারি লটারি হবে। আগামী ১০ জানুয়ারি কর্মী পাঠানোর পদ্ধতির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয় একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে বলেও জানান সচিব।
অস্ট্রেলিয়া সফরের বিষয়ে সচিব বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ২৪ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানো যাবে। যাতে উন্নত দেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো যায় তার জন্য একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
গত ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর রোমে অনুষ্ঠিত ‘সিক্স সেশন অফ দি মিটিং অফ দি পার্টিস টু দি কনভেনশন অন দি প্রটেকশন অ্যান্ড ইউজ অব ট্যান্সবাউন্ডারি ওয়াটার কোর্সেস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল লেক্স্’ এ পানিসম্পদমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে।