Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শাবিতে মূর্তির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে সিলেট : রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও এটি নির্মাণের বিপক্ষে

কদরদ্দীন শিশির
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মূর্তি’ নির্মাণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ফুঁসে উঠছে সিলেটের সাধারণ মানুষ। আলেম সমাজ, ইসলামি রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষক, পেশাজীবী থেকে শুরু করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অব্যাহত প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। তারা মনে করছেন, শাহজালালের স্মৃতিধন্য সিলেটের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাটিতে ‘মূর্তি’ নির্মাণের চেষ্টা এই এলাকার তরুণ প্রজন্মের ইসলামপ্রিয় অনুভূতিকে ভেঙে দেয়ার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ।
এদিকে মূর্তি নির্মাণের এ প্রচেষ্টাকে যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে সর্বদলীয় ইসলামী দলগুলো। গত দু’সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে একাধিক সমাবেশ ও প্রতিবাদ সভা করেছে তারা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন সিলেটের বিভিন্ন মহলের বিশিষ্টজনরা।
সর্বশেষ, গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক ফোরামের আহ্বায়ক ড. সাজেদুল করিমের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। ৩ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের দেশে সিলেটকে দল, মত, বর্ণ নির্বিশেষে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর পুণ্যভূমি ও আধ্যাত্মিক নগরী হিসেবে গণ্য করা হয়। সিলেটবাসীর সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান দেখিয়ে তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা আরও উলেল্গখ করেন, ‘বিতর্কিত হয় এমন কিছুকে পরিহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিলেটের অন্যান্য জায়গার মতো করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণের করতে হবে।’
এদিকে গতকাল দুপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্টাশের এলাকা তেমুখী থেকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে নেতারা দুপর ১২টায় ভিসির সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেন।
এর আগে গত রোববার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক ফোরামের অর্ধশতাধিক শিক্ষক মূর্তি নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের প্রফেসর আবদুর রহিম, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর হাবিবুল আহসান, গণিত বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. সাজেদুল করিম, প্রফেসর আহমেদ কবীর, প্রফেসর গোলাম আলী হায়দার চীেধুরী প্রমুখ।
একইদিন সকালে প্রশসানকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন সিলেটের সর্বস্তরের ওলামা মাশায়েখ পরিষদের নেতারা। তারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
গত রোববার বিকালে বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা শফিকুল হক আমকুনী মূর্তি নির্মাণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট মাদ্রাসায় এক জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, হজরত শাহজালালের একজন উত্তরসূরিও বেঁচে থাকতে তার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের মূর্তি নির্মাণ করতে দেয়া হবে না।
এর আগে গত শুক্রবার মূর্তি নির্মাণ বাতিল দাবি করে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে মহাসমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির নেতারা সমাবেশ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
আগের সপ্তাহেও সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশ করেছে সর্বদলীয় ঐক্য। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন।
সিলেটের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগকে বৃদ্ধঙুলি দেখিয়ে হাতেগোনা কয়েকজন বামপন্থী শিক্ষকের মূর্তি নির্মাণ চেষ্টা ও তার প্রতিবাদে বিভিন্ন মহলের সরব হওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছেন সিলেটের রাজনৈতিক নেতারাও। দলীয় কোনো কর্মসূচি না দিলেও তারা ব্যক্তিগতভাবে সাধারণ মানুষের আবেগকে মূল্যায়ন করছেন।
সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা যারা ওই স্থাপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তাদের কারোর সঙ্গেই আমার কথা হয়নি। তবে আমি বলবো, সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করে এমন কোনো কাজ করা থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত।
মহানগর বিএনপির সভাপতি এমএ হক বলেন, আমাদের সিলেটের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ হযরত শাহজালাল (র)-এর নামে করার জন্য সিলেটের মানুষ আন্দোলন করেছি। শাহজালাল এই বাংলাদেশ থেকে মূর্তি পূজারি বর্বর শাসকদের উত্খাত করেছিলেন। তাই বর্তমানে তার পবিত্র নামের প্রতিষ্ঠানে মূর্তি দাঁড়িয়ে থাকবে এটা মেনে নেয়া যায় না।
জামায়াতের মহানগরী আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমরা বিষয়টিকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি না। দল-মত নির্বিশেষে সিলেটের মানুষ মূর্তি নির্মাণের বিপক্ষে যে অবস্থান নিয়েছে তা আমরা সমর্থন করি এবং এ লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের বৃহত্তর আন্দোলনে আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।
উল্লেখ্য, ড. জাফর ইকবালে নেতৃত্বে শাবির গুটিকয়েক বামপন্থী প্রভাবশালী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টাররোলকে পাশ কাটিয়ে গোপনে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ প্রকল্প বাতিল করে সেখানে মধ্যযুগীয় ধাঁচের মূর্তি স্থাপনের সব প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরবই মধ্যে মূর্তির নকশা ও বেদী তৈরি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এতে ব্যয় করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। এ মাসের যেকোন দিন এটি উদ্বোধন করা হতে পারে। এ সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর থেকে সিলেটে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।