Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

১৯৭৩ সালের আইনে সিভিলিয়ানের বিচার করার সুযোগ নেই - ব্যারিস্টার রাজ্জাক : কাদের মোল্লাকে নয়, জরিমানার টাকা দিতে হবে আইনজীবীকে

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
যে আইনের ওপর ভিত্তি করে মামলার বিচারকাজ চলছে, সেই আইনটিই এখানে প্রযোজ্য নয়। কেননা ১৯৭৩ সালে এই আইনটি তৈরি করা হয়েছিল চিহ্নিত যুদ্ধবন্দি পাকিস্তানি ১৯৫ আর্মি অফিসারের বিচারের জন্য। এই আইনে কোনো সিভিলিয়ানের (সাধারণ নাগরিকের) বিচার করার সুযোগ নেই। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গতকাল আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনকালে তাদের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ ৪০ বছর পরে কেন এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, তারও কোনো আইনি ব্যাখ্যা প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। এই মামলাটি যে নিছক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হচ্ছে, তা প্রতীয়মান হয়েছে। গতকাল চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করে ট্রাইব্যুনাল। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক আজও কাদের মোল্লার মামলায় ল’ পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। এছাড়া গতকাল সকালে আবদুল কাদের মোল্লার মামলাটি পুনর্বিচার আবেদন খারিজ করে আদেশ দেয় একই ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে গতকাল আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কাদের মোল্লাকে জরিমানা থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার আইনজীবীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে পুনঃআদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে একই কারণ দেখিয়ে একই আবেদন বারবার করায় আসামি আবদুল কাদের মোল্লাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল।
এছাড়া প্রথম ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে সাফাই সাক্ষী গ্রহণের জন্য দায়ের করা আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি সাক্ষী হাজির রাখার জন্য আসামিপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও আনোয়ারুল হকের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। গতকাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর অনুপস্থিত ছিলেন।
১৯৭৩ সালের আইনে সিভিলিয়ানের বিচার করার সুযোগ নেই : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার থেকে ডিফেন্স পক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। গতকাল ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিভিন্ন আইনগত ত্রুটি (ল’ পয়েন্টের বক্তব্য) তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক।
গতকাল ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত যুক্তিতর্কে প্রথম বিষয়টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে আইনের ওপর ভিত্তি করে এই মামলার বিচারকাজ চলছে, সেই আইনটি এখানেই প্রযোজ্য নয়। কেননা ১৯৭৩ সালে এই আইনটি তৈরি করা হয়েছিল চিহ্নিত যুদ্ধবন্দি পাকিস্তানি ১৯৫ আর্মি অফিসারের বিচারের জন্য। এই আইনে কোনো সিভিলিয়ানের (সাধারণ নাগরিকের) বিচার করার সুযোগ নেই বলেও তিনি যুক্তি তুলে ধরেন। দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ ৪০ বছর পরে কেন এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, তারও কোনো আইনি ব্যাখ্যা প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি বলেও তিনি যুক্তি তুলে ধরেন। তৃতীয়ত, আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাটি যে নিছক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হচ্ছে, তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। গতকাল চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তত্কালীন আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর ও অন্যদের বক্তব্য (ডিবেট) থেকে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, এই আইনটি মূলত তৈরি করা হয়েছিল পাকিস্তানি ১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধবন্দি আর্মি অফিসারের বিচারের জন্যই। যুদ্ধবন্দি ছাড়া অন্য কাউকেই এই আইনের আওতায় এনে বিচার করা যাবে না বলেও সংসদের ডিবেটে উঠে এসেছিল। এছাড়া সেই সময়ের আইনমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, কোনো সিভিলিয়ানের বিচারের জন্য এই আইনটি তৈরি করা হয়নি, বরং এই আইনে সিভিলিয়ানদের এক অর্থে বলতে গেলে প্রটেকশনই দেয়া হয়েছিল।
স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ ৪০ বছর পরে কেন এই বিচার শুরু হলো তারও কোনো আইনি ব্যাখ্যা প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি বলেও যুক্তি তুলে ধরেন রাজ্জাক। তিনি বলেন বিশ্বের যে কোনো দেশেই এ-সংক্রান্ত বিচার সম্পন্ন হয়েছে সেখানে যুদ্ধের পরপরই বিচার শুরু হয়েছে। তবে কোনো দেশে সিভিল ওয়ারের কারণে কিছুটা দেরিতে বিচার শুরু হলেও সেখানে যুদ্ধের সময়েই যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, এমনও নজির আছে যে, মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিলম্বে থানায় এফআইআর করার কারণেও মামলার মেরিটই নষ্ট হয়েছে মর্মে আদালত থেকে বাদীকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু এই মামলাটিই দায়ের করা হয়েছে দীর্ঘ ৪০ বছর পর। এই মামলার চার্জশিটে পলাশীর ইতিহাস থেকে শুরু করে অনেক ঘটনাই বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু মামলা দায়েরে বিলম্বের কোনো কারণ প্রসিকিউটর ব্যাখ্যা করেননি।
সবশেষে এই মামলাটি যে নিছক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই দায়ের করা হয়েছে, তার পক্ষেও নানা যুক্তি তুলে ধরেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক। তিনি বলেন, আমাদের সব ধরনের আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার করতে হবে। মাত্র কয়েক বছর আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একজোট হয়ে জামায়াতের যেসব শীর্ষ নেতা রাজপথে এবং সংসদে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, সেই জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সঙ্গে জোট গঠন করার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে জামায়াতকে কোণঠাসা করতে ও নেতৃত্বশূন্য করতেই পরিকল্পিতভাবে এই মামলা সাজানো হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে আজকে যাদের মামলা দিয়ে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে, তারাই জনগণের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, মন্ত্রীও হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। জামায়াতের এই শীর্ষ নেতারা কখনও পালিয়ে যাননি বা দেশের কোথাও কোনো থানায়ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা তো দূরের কথা সাধারণ কোনো ডায়েরি পর্যন্ত হয়নি। কাজেই এই মামলা যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে ও হয়রানি করার জন্য করা হয়েছে, এটা প্রমাণিত সত্য।
পুনর্বিচার আবেদন খারিজ : গতকাল সকালে আবদুল কাদের মোল্লার মামলাটির পুনর্বিচার আবেদন খারিজ করে আদেশ দিয়েছে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল। পুনর্বিচার আবেদনের ওপর সংক্ষিপ্ত শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। পরে কামারুজ্জামানের অপর একটি পুনর্বিচারের আবেদনের খারিজের একই গ্রাউন্ড দেখিয়ে এই আবেদনটিও খারিজ করে দেয় ট্রাইব্যুনাল।
কাদের মোল্লাকে নয়, জরিমানার টাকা দিতে হবে আইনজীবীকে : আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কাদের মোল্লাকে জরিমানা থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে পুনঃআদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। এর আগে একই কারণ দেখিয়ে একই আবেদন বারবার করায় আসামি আবদুল কাদের মোল্লাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল ট্রাইব্যুনাল। জরিমানার অর্থ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম বরাবর জমা দিতে আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। আদেশের পর অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান দৈনিক আমার দেশকে বলেন, কাদের মোল্লার পক্ষে ৯৬৫ জন সাক্ষীর তালিকা জমা দেয়া হয়। সেখান থেকে মাত্র ৬ জন সাক্ষী কাদের মোল্লার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনাল নির্ধারিত করে দেয়। তিনি বলেন, আমরা আরও সাক্ষী আনার জন্য ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত চারবার আবেদন করি। কিন্তু আমাদের আবেদন মঞ্জুর না করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ট্রাইব্যুনাল।
দুই রিপোর্টারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ শুনানি বৃহস্পতিবার : বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভির) রিপোর্টার, ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের এক রিপোর্টারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। আগামী ১০ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম এ অভিযোগ দায়ের করেন।
গতকাল দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক এ আবেদন গ্রহণ করে ১০ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর গতকাল ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন না।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে বলেন, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে নিজেদের মতো করে বক্তব্য প্রদান এবং প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী আসামির মৃত্যুদণ্ড কামনা করায় এটিএন নিউজের রিপোর্টার মাসুুদুল হক এবং বিটিভির রিপোর্টার সুজন হালদারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাক্ষীদের দেয়া জবানবন্দি মূল্যায়ন করবে ট্রাইব্যুনাল। তারা তো মূল্যায়ন করতে পারেন না। এছাড়া প্রসিকিউশনের সাক্ষী দিয়ে ডিফেন্স সাক্ষীদের বিষয়ে কথা বলানো হয়েছে, যা বেআইনি। একটি বিচারাধীন বিষয় নিয়ে এভাবে তারা মন্তব্য করতে পারেন না।
তিনি বলেন, গত ২৫ ডিসেম্বর এটিএন নিউজ চ্যানেলে ‘ফলোআপ’ নামে একটি অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। তাতে প্রসিকিউশনের সাক্ষী মানিক পসারীকে দিয়ে ডিফেন্স সাক্ষীদের সাক্ষ্যকে মিথ্যা, অর্থের বিনিময়ে সাক্ষ্য পেশ করা হয়েছে—এমনসব অভিযোগ করা হয়। যা আইনবহির্ভূত। পরে ট্রাইব্যুনাল বিটিভি ও এটিএন নিউজের রিপোর্টারের বিরুদ্ধে আনীত আদালত অবমাননার বিষয়ে ১০ জানুয়ারি শুনানির জন্য দিন ধার্য করে।
গোলাম আযমের পক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণ বিষয়ে শুনানি আজ : জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর বিষয়ে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ কেলেঙ্কারি দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশের পর দু’তিন দিন ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়া থেকে বিরত থাকে আসামিপক্ষ। এ অবস্থায় বিচারপতি নিজামুল হক গত ১০ ডিসেম্বর অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করে আদেশ দেন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করে দেন।
আদেশে বলা হয়, আসামিপক্ষ যদি তাদের সাক্ষী হাজিরের জন্য দরখাস্ত করে এবং সন্তোষজনক জবাব দিতে পারে, তাহলে পুনরায় তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হতে পারে। অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে প্রথম সাক্ষী হিসেবে তার ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আজমীর জবানবন্দি গ্রহণ চলছিল। এ অবস্থায় অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়।
আদেশ অনুযায়ী গতকাল অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষ থেকে দরখাস্ত করে বলা হয়, তারা আজ থেকে তাদের পক্ষে সাক্ষী আনতে পারবেন। সেজন্য একদিন মুলতবি চেয়ে দরখাস্ত করেন তারা। আজ এ বিষয়ে শুনানির জন্য ধার্য করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, তারা যে কোনো উপায়ে আজ প্রথম সাক্ষী আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে হাজির করবেন।
ট্রাইব্যুনাল সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির গতকাল অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি ছুটিতে রয়েছেন।
আসামিপক্ষে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, মনজুর আহমেদ আনসারী, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ও জেয়াদ আল মালুম অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
হাজতখানায় অসুস্থ হয়ে পড়েন গোলাম আযম : গতকাল ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় থাকা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে জানান, গোলাম আযম হাজতখানায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এসময় অনেকেই দৌড়ে হাজতখানার দিকে ছুটে যান। হাজতখানায় গিয়ে দেখা যায় গোলাম আযম নামাজের বিছানায় শুয়ে আছেন। একজন কনস্টেবল তার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। পরে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে বেলা পৌনে ১২টায় পুলিশ গোলাম আযমকে স্ট্রেচারে শোয়া অবস্থায় প্রিজন সেলে নিয়ে যায়। গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমী দৈনিক আমার দেশকে জানান, গতকাল অসুস্থ গোলাম আযমকে চিকিত্সা ছাড়াই প্রিজন সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বর্তমান অবস্থা কী, আমরা পরিবারের কেউ জানি না।
কামারুজ্জামানের মামলার পরবর্তী তারিখ ১৬ জানুয়ারি : জামায়াতের অপর সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপর এক মামলায় নতুন সাক্ষীর জন্য ১৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করেছে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল। গতকাল প্রসিকিউশনের সাক্ষীর তারিখ ধার্য থাকলেও সাক্ষী হাজির না হওয়ায় নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।