Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মির্জা ফখরুলের মুক্তি ও মাহমুদুর রহমানের মামলা প্রত্যাহার দাবি : রংপুর বিভাগে স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত : বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২০

রংপুর প্রতিনিধি
পরের সংবাদ»
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তি এবং বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী ও দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ ১৮ দলীয় জোটের সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রংপুর বিভাগের আট জেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ডাকে অর্ধদিবস হরতাল স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করেছেন বিভাগবাসী। হরতাল চালাকালে নগরীতে স্কুল-কলেজ-মাদরাসা, অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল একবারেই নগণ্য।
রংপুরে বেলা পৌনে ১টায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এতে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পুলিশের এক কনস্টেবলসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। পরে সেখান থেকে পুলিশ দুটি ককটেলসদৃশ জর্দার কৌটা উদ্ধার করে। পিকেটাররা একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। পরে সেটি একজন ফটো সাংবাদিকের জানতে পেরে তাত্ক্ষণিকভাবে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সভাপতি রইচ আহমেদ দুঃখ প্রকাশ করেন এবং মোটরসাইকেলটির ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন। মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনায় রংপুর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন তাত্ক্ষণিকভাবে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে এ ঘটনার নিন্দা জানান।
হরতালের সমর্থনে সকালে নগরীর পার্কের মোড়ে ছাত্রদল সভাপতি জহির আলম নয়নের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি সেখানে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে মহাসড়কে অবরোধ গড়ে তোলে। হরতাল চালাকালে পিকেটাররা নগরীর পার্কমোড়, মেডিকেল মোড় এবং পাকার মাথায় ১০টি অটোরিকশা ভাংচুর ও ছয়টি অটোরিকশায় আগুন লাগিয়ে দেয়।
অন্যদিকে সকাল ৮টায় যুবদল সভাপতি রইচ আহমদের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল পায়রা চত্বর থেকে শুরু হয়ে নগর ভবন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এসময় মিছিল থেকে বেশ কয়েকটি অটোরিকশা ভাংচুর করা হয়।
হরতাল চলাকালে নগরীতে খাবার ছাড়া কোনো দোকানপাট খোলেনি। নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়, জাহাজ কোম্পানি, মডার্ন মোড়, শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন ছিল। পুলিশ বিএনপি ও জামায়াত কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখে। হরতালের কারণে রংপুর মহানগরীসহ আট জেলায় সব ধরনের ভারী ও মাঝারি যানবাহন বন্ধ ছিল। বিভিন্ন স্পটে ট্রেনও বাধার মুখে পড়েছে। এদিকে বিভাগের আট জেলা—রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে বলে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে হরতালের সমর্থনে সকালে যুবদল, ছাত্রদলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরে বিশাল একটি মিছিল বের করে এবং পরে শহরের বিভিন্ন উপকণ্ঠে গিয়ে পিকেটিং করতে থাকে। বিএনপির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে হরতালে বিভিন্ন স্থানে পিকেটিংয়ে যোগ দেন জামায়াত ও শিবির কর্মীরা। ১১টায় শহরের বিভিন্ন স্থানে যুবদল ও ছাত্রদলের পাশাপাশি আলাদা করে জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে। সকাল ৬টার আগে শহরের উপকণ্ঠে বিভিন্ন স্থানে (ভুল্লি, খোচাবাড়ি সত্যপীর ব্রিজ) পাঁচটি নৈশ কোচ, ১২টি ট্রাক ও বেশকিছু মিনিবাস ও মোটরসাইকেল ভাংচুর করে পিকেটাররা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক ও নৈশ কোচের যাত্রীরা দারুণ ভোগান্তিতে পড়েন। ভোরবেলায় যানবাহনগুলো আশ্রয় নেয় বিভিন্ন তেলের পাম্পে।
কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, কাহারোলে সকাল-সন্ধ্যা হরতালে সকাল ১১টায় মিছিল করার সময় জামায়াত-শিবিরের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে কাহারোল থানা পুলিশ। কাহারোল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, হরতাল চলাকালে কাহারোল উপজেলা মাদরাসা মার্কেট থেকে লাঠিসোটা নিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সকাল থেকে পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল। বন্দর অভ্যন্তরে পানামা ওয়্যারহাউজে পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক থাকলেও পণ্য পরিবহন হয়নি, বাস ও ট্রাক চলাচল ছিল বন্ধ।
বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। হরতাল সমর্থনে থানা ও পৌর যুবদল, ছাত্রদল, ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা বন্দরের প্রধান প্রধান সড়কে মিছিল-সমাবেশ করেছে।
চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে শান্তিপূর্ণভাবে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে।
হরতালের সমর্থনে সাবেক এমপি আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে একটি মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঘুঘুরাতলীতে অবস্থায় নেয়। হরতালে ভারী যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। অফিস খোলা থাকলেও কোনো কার্যক্রম হয়নি। ট্রেন বিলম্বে চলাচল করেছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।