Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বোরকা কেড়ে ২০ নারীকে আদালতে নিয়েছে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রী মিসেস সানোয়ারা জাহানসহ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ২০ পর্দানশিন নারীর বোরকা খুলে নেয়া হয়েছে। গতকাল বোরকা ছাড়াই তাদের আদালতে আনা হয়। ২০ জনের অধিকাংশকেই গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের জামিন না দিয়ে বিস্ময়করভাবে পরবর্তী তারিখ ধার্য করে ২৩ জানুয়ারি। আটকদের মধ্যে বৃদ্ধা, অসুস্থ ও পরীক্ষার্থী রয়েছেন। আইনজীবীরা বলছেন, ৫৪ ধারায় আটকদের কোনো অভিযোগ ছাড়া এতদিন আটকে রাখা ও তারিখ ধার্য করা নজিরবিহীন ঘটনা।
জানা যায়, ৫৪ ধারায় আটক মিসেস সানোয়ারা জাহানসহ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ২০ নেত্রীকে গতকাল ধার্য তারিখে মহানগর হাকিম আতিকুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। ২০ জনের অধিকাংশকেই কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পর্দানশিন নারীদের কাউকেই বোরকা পরতে দেয়নি পুলিশ। কাশিমপুর থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাদের পুরনো ঢাকায় মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। তাদের দীর্ঘক্ষণ হাজতখানায় রাখার পর পুনরায় কাশিমপুরেই ফিরিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু তাদের কাউকেই বোরকা পরতে দেয়া হয়নি। যারা সব সময় পর্দা মেনে চলেন, বোরকা পরেন, তাদেরকে এই প্রথমবারের মতো বোরকা ছাড়াই পুরুষ মানুষের সামনে আসতে হলো। সর্বদা পর্দায় অভ্যস্ত নারীরা এভাবে বোরকা ছাড়া আদালতে আসায় অস্বস্তিতে ছিলেন।
পুলিশের সময় আবেদন ছাড়াই আদালত তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে আগামী ২৩ জানুয়ারি শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করে। এর আগে তারা রমনা থানায় দু’দিনের পুলিশি রিমান্ডে ছিলেন। সেখানেও তাদেরকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয় এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
গ্রেফতার করাদের মধ্যে অনেকেই পরীক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী নুরজাহান, সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদাউসী, ইডেন কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী জাহানারা ইসলাম, ফারহানা মিতু, মাস্টার্স প্রথম পর্বের ছাত্রী মারজানা আক্তার, এমবিবিএসের ছাত্রী সুমাইয়া মুবাশ্বেরা তামান্না। এর মধ্যে অনেকেরই লিখিত পরীক্ষা শেষে ভাইভা পরীক্ষা রয়েছে। আইনজীবীরা এ বিষয়গুলোতে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক বলেন, ৫৪ ধারায় আটকদের কোনো অভিযোগ ছাড়া এতদিন আটকে রাখা এবং নতুন করে তারিখ ধার্য করা নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে তাদের দু’দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু রিমান্ডে কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি। মামলা করার মতো পুলিশ কোনো উপাদান পেলে এরই মধ্যে মামলা হয়ে যেত। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাদের আটকে রাখার জন্য ৫৪ ধারা ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু হয়রানি করার জন্যই তাদের আটকে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৫৪ ধারায় কাউকে গ্রেফতার করলে ৪৮ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখার নিয়ম নেই। কিন্তু তাদেরকে এরই মধ্যে ৫ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, ১৭ ডিসেম্বর তাদের আটক করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করে দু’দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হলো। তিনি উল্লেখ করেন, এভাবে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে দিনের পর দিন আটকে রাখা আইনের শাসনের পরিপন্থী।
কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় ২১ নারীকে গ্রেফতার করে রমনা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর কোনোপ্রকার অভিযোগ দাঁড় করাতে না পেরে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। মহানগর হাকিম তারেক মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে আদালত ২০ জনের দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ছাত্রী সংস্থার কর্মী হাবিবা নাসরিন অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় আদালত তাকে রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেয়। ওইদিন আদালত তার জামিন দেয়নি। তবে গত রোববার তার জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
তাসনীম আলম জেলে : এদিকে তেজগাঁও থানার একটি মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক মো. তাসনীম আলমকে গতকাল জেলে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে থাকাকালে তাকে বাইরে থেকে খাবার দিতে দেয়া হয়নি। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর র্যাবের হাতে আটকের পর উত্তরা থানার একটি জিডিতে ৩ দিনের রিমান্ড ভোগ করেন তিনি।