Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শাহরাস্তিতে দাফন, মায়ের আর্তনাদ, স্ত্রীর অভিযোগ র্যাবের বিরুদ্ধে : হত্যা পরিকল্পিত : তরিকুল

শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে র্যাব পরিচয়ে শ্বশুরবাড়ি হতে তুলে নিয়ে খুন হওয়া ঢাকার ৫৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউপি বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি শাহরাস্তির চণ্ডিপুর গ্রামে বইছে শোকের মাতম। সরেজমিনে রফিকুলের বাড়িতে গেলে তার মা সুফিয়া বেগমের আর্তচিত্কারে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, ‘আঁর (আমার) হুতের (ছেলের) কী দোষ আছিল?
হেইতেত (সে) কারও ক্ষতি করে ন। আঁই আর হোলার খুনিগ হাঁসি (ফাঁসি) চাই।’ তার বাবা মনিরুজ্জামান এ ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
রফিকুলের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা ঝরা বলেন, ‘র্যাবই আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। শনিবার রাতে তাকে র্যাব তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় আমার মা ও বোন দেখেছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো. মোশারেফ হোসেন জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে রফিককে একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে চিনি। তিনি কোনো নোংরা রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে র্যাব পরিচয়ে তার শ্বশুরবাড়ি কুষ্টিয়ার শৈলকুপা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ওই রাতে কুমারখালি উপজেলা থেকে হাতে হ্যান্ডকাফসহ তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানাজা সম্পন্ন : এদিকে মরহুমের গ্রামের বাড়িতে গতকাল রাত সাড়ে ৭টায় তার লাশ পৌঁছলে দলমত নির্বিশেষে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমায় হাজারো নারী-পুরুষ। রাত সাড়ে ৮টায় স্থানীয় আলহাজ সিরাজউদ্দিন মহিলা মাদরাসা মাঠে এলাকায় দানবীর হিসেবে পরিচিত এ নেতার জানাজায় হাজারো মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রাক্তন সভাপতি এমএ মতিন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জি. মমিনুল হক, উপজেলা বিএনপি সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন পাটওয়ারী, উপজেলা জামায়াত আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন প্রমুখ।
সাবেক সংসদ সদস্যের নিন্দা : সাবেক সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রাক্তন সভাপতি এমএ মতিন রফিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। গতকাল এ নেতার জানাজা শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সরকার গুম ও হত্যার মাধ্যমে বিরোধীদলকে দমনের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
রফিকুলকে কোনো চরমপন্থী হত্যা করেনি : জুয়েল মিরপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানায়, রফিকুল ইসলাম মজুমদারকে কোনো চরমপন্থী সন্ত্রাসী হত্যা করেনি বলে দাবি করেছেন তার শাশুড়ি লিপি খাতুন ও স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ঝরা।
রফিকুল ইসলাম মজুমদারের শাশুড়ি লিপি খাতুন ও স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ঝরা জানান, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আনন্দনগর গ্রাম থেকে র্যাব পোশাকধারী সদস্যরা রফিকুলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশটি ফেলে রেখে যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আদাবাড়ি-মনোহরপুর মাঠের খালের পাশে।
রফিকুলের শাশুড়ি লিপি খাতুন জানান, রাত সাড়ে ৭টার দিকে র্যাবের পোশাক পরিহিত ৭-৮ জন লোক এসে মাইক্রোবাসে তাকে হাতকড়া পড়িয়ে তুলে নিয়ে যায়। যেসব র্যাব সদস্যরা হত্যা করেছে, আমার সন্তানকে যারা এতিম করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। রোববার সকালে ঝরা তার স্বামীর নিহত হওয়ার সংবাদ পেয়ে কুমারখালী থানায় লাশ শনাক্ত করতে এসে এসব কথা বলছিলেন। ‘আমার স্বামী তো কোনো অপরাধ করেননি। তাহলে কেন তাকে মেরে ফেলা হলো? দেশে কী আইনকানুন বলতে কিছুই নেই? রফিকুলের ভাইরা আবু সাঈদও জানান, যারা রফিকুলকে তুলে নিয়ে গেছে তাদের সবার কালো পোশাক পরা ছিল এবং পোশাকে র্যাব লেখা ছিল। রফিকুলের গাড়িচালক আমীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি পান খেতে বাড়ির বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে জানতে পারি স্যারকে র্যাব তুলে নিয়ে গেছে। ‘এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নুল আবেদীন জানান, বাজারে ‘পুলিশ’ লেখা হাতকড়া কিনতে পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে সন্ত্রাসীরা এটি সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। ঝিনাইদহ র্যাব-৬ এর অধিনায়ক হামিদুল হক জানান, ভুয়া র্যাব সেজে সন্ত্রাসীরা রফিকুলকে অপহরণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ র্যাব এ ব্যাপারে জড়িত নয় বলেও জানান তিনি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও তাপস কুমার জানিয়েছেন, রফিকুল ইসলামকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী নেওয়াজ জানিয়েছেন, বিকাল ৩টার দিকে রফিকুলের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
রফিকুল সম্প্রতি ঢাকার হরতালে গাড়ি ভাংচুর মামলার আসামি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রায়ই রাজনৈতিক মামলা হতো। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি ঢাকার বঙ্গবাজারে গার্মেন্টসের ব্যবসা করতেন। রফিকুলের দুই স্ত্রী। দীর্ঘদিন আগেই প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে রফিকুলের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। তাদের নাম রকি (১৬), পিংকি (১৪), রাকিব (১০) ও রিংকি (৮)। দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী অর্থাত্ আয়েশা সিদ্দিকার মাহিন (৬) নামের একটি সন্তান রয়েছে। রফিকুলের বাড়ি শনির আখড়া এলাকায়। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। তার বাবার নাম হাজী মনিরুজ্জামান। ঢাকা ৫৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি চৌধুরী আলম সম্প্রতি গুম হওয়ার পর থেকে রফিকুল রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ৫৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি।
রফিককে সরকারই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে : তরিকুল
স্টাফ রিপোর্টার জানান, বিএনপির ৫৬নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম মজুমদারকে সরকারই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে মনে করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। গতকাল সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে রফিকের জানাজার আগে তিনি এই অভিযোগ করে বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর সঙ্গে র্যাব-পুলিশ জড়িত বলে আমাদের বিশ্বাস।
শনিবার রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আদাবাড়ী-মনোহরপুর এলাকা থেকে হাতকড়া লাগানো অবস্থায় রফিকুল ইসলাম মজুমদারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগের দিন রফিক তার শ্বশুরবাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপার আনন্দনগরে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
জানাজার পর দাফনের জন্য রফিকের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তির চণ্ডীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। তার গাড়িবহরের সঙ্গে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন। সকাল ১১টার দিকে রফিকের লাশ দলীয় কার্যালয়ের সামনে আনা হয়।
এরপর তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতারা রফিকের কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে মহানগর বিএনপি, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকেও তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
পরে জানাজায় অংশ নেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার এমপি, সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আলহাজ মোসাদ্দেক আলী ফালু, ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, জাসাস সভাপতি এমএ মালেক, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শিশু সংগঠক সিরাজুল ইসলাম সেলিম, রমনা থানার আহ্বায়ক ননী তালুকদারসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীরা।
রফিকের হত্যার ঘটনা তুলে ধরে তরিকুল বলেন, র্যাব পরিচয়ে রফিক মজুমদারকে ধরে নেয়া হয়েছে। তাই র্যাব-পুলিশই যে তাকে হত্যা করেছে তা নিশ্চিত। এই সরকারের আমলে হত্যা-গুমের মিছিলের সংখ্যা বাড়ছে। এর আগে মহানগর নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী আলমকে গুম করা হয়েছে। আজও তার হদিস পাওয়া যায়নি। এম ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। তারও কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। চার বছরে বিরোধী দলের ১৫৭ জন নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এটা মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।
রফিক হত্যার বিষয়ে র্যাব কিছুই জানে না এবং বাজারে হাতকড়া কিনতে পাওয়া যায় বলে পুলিশের দাবি প্রসঙ্গে তরিকুল বলেন, এ ধরনের কথা তারা সবসময় বলে থাকে। আমরা মনে করি, সরকার পরিকল্পিতভাবেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। র্যাব-পুলিশ যদি জড়িত না থাকে, তারা খুঁজে বের করুক—কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
তরিকুল বলেন, এই সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই—রফিকের হত্যাকাণ্ড থেকে তা প্রমাণ হয়েছে। বেডরুমে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা হয়েছে। খুনিরা আজও ধরা পড়েনি, কোনো বিচার হয়নি। বেডরুমেই শুধু নয়, এখন রাস্তায়ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। রাস্তায় প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা বিশ্বজিত্ দাসকে হত্যা করেছে। তার ভাই এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। এছাড়া বিরোধী দলের কার্যালয় অবরুদ্ধ করে এবং মিছিল-সমাবেশ করতে না দিয়ে সরকার পদে পদে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারকে হটানোর কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, রফিকের হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার কথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অস্বীকার করলে সরকারেরই দায়িত্ব সুষ্ঠু তদন্তের মাধমে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করা।
সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা র্যাব ও পুলিশ বাহিনীর অতি উত্সাহী সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সরকারের ইশারায় এ ধরনের বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হবেন না। কারণ আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। জনগণের অর্থে আপনাদের বেতন হয়। আপনাদের দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা।
তিনি বলেন, এই সরকার চিরস্থায়ী নয়। তাদের পতন হলে একদিন রফিক হত্যাকাণ্ডের বিচারবিভাগীয় তদন্ত হবে। তখন দোষীরা কেউ রেহাই পাবেন না।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আলহাজ মোসাদ্দেক আলী ফালু বলেন, এ সরকার সব ক্ষেত্রেই অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। জনগণই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
রোববার রাতে কুষ্টিয়া থেকে রফিকের লাশ গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রফিকের কফিনে শ্রদ্ধা জানান।
কর্মসূচি : রফিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ (মঙ্গলবার) বিকালে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। এছাড়া ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি তিন দিনের শোক পালনের কর্মসূচি নিয়েছে। ওই তিন দিন ওয়ার্ড কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। রফিকের স্মরণে কাল (বুধবার) বাদ আসর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল হবে।
রফিকের হত্যাকারী তাহলে কে? : বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রফিকের হত্যাকাণ্ড তুলে ধরে বলেছেন, এই সরকার এমন একটি গেস্টাপো বাহিনী তৈরি করেছে যাদের কাজ হলো, যারা বিরোধী দলের আন্দোলনে অংশ নেয়, তাদের গুম করে হত্যা করা। র্যাব শ্বশুরবাড়ি থেকে রফিকুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যায়। এখন তারা বলছে, রফিককে তারা হত্যা করেনি। তাহলে কে রফিককে হত্যা করল।
গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবিধানিক অধিকার ফোরামের এক আলোচনা সভায় এ প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ১৯৭২-৭৫ সালে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম করে হত্যা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের যে অবস্থা বর্তমানে বিরাজ করছে, তা ’৭৫ সালের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
‘আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের অবসান চাই’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকার সফলতার বুলি আওড়াচ্ছে। সরকারের চার বছরের উপহার হচ্ছে পদ্মাসেতু প্রকল্পসহ সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি-লুটপাট এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম-হত্যা করা। ক্ষমতাসীন লোকজনের মালিকানাধীন কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের অর্থ যোগান দিতে সর্বশেষ তারা (সরকার) জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। জনগণের কল্যাণে এ সরকার কোনো কিছুই করেনি। সরকারের কোনো সফলতা নেই। আছে শুধু চাপাবাজি।
আয়োজক সংগঠনের সদস্যসচিব সুরঞ্জন ঘোষের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষক দলের নেতা শাজাহান মিয়া সম্রাট, মুক্তিযোদ্ধা সানোয়ার হোসেন, জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের নেতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, জিয়া সেনা নেতা মঞ্জুর হোসেন ইসা প্রমুখ।