সীমান্তে ও দেশের অভ্যন্তরে অঘোষিত যুদ্ধ চলছে : ৭ জানুয়ারি ফেলানী দিবসের আলোচনায় বক্তারা
স্টাফ রিপোর্টার
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
দেশবরেণ্য চিন্তাবিদ, লেখক, সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীরা বলেছেন, সীমান্তে এবং দেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ প্রতিদিন গুলি করে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে— আর দেশের অভ্যন্তরে র্যাব মানুষ হত্যা করছে। তারা বলেন, পাকিস্তান আমলেও কোনো সম্পাদককে তার অফিসের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি। অথচ এখন স্বাধীন এই বাংলাদেশে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গত প্রায় একমাস ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কার্যত সরকার দৈনিক আমার দেশ-কে একটি কারাগারে পরিণত করেছে। গতকাল ফেলানী হত্যার দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শহীদ ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অব্যাহত বর্বরতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন। আমার দেশ পাঠকমেলার উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান। অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন প্রখ্যাত রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তক, প্রাবন্ধিক ও কবি ফরহাদ মজহার, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম (বীরপ্রতীক), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কবি আবদুল হাই শিকদার, সিদ্দিকুর রহমান, ঢাবির সাবেক শিক্ষক ড. এ কে এম মালিক, দৈনিক আমার দেশ-এর প্রধান সহকারী সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী প্রমুখ। প্রবন্ধ উত্থাপন করেন দিদার হোসেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এম ফয়সল আকবর।
বৈঠকে মাহমুদুর রহমান বলেন, সীমান্ত এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমরা একই চিত্র দেখতে পাচ্ছি। সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফ প্রতিদিন গুলি করে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে— আর র্যাব দেশের অভ্যন্তরে মানুষ হত্যা করছে। র্যাব এখন বিএসএফ-এর দোসরে পরিণত হয়েছে। সীমান্তে দিল্লির প্রতিনিধি আর দেশের অভ্যন্তরে দিল্লির সেবাদাস। ফলে সীমান্তে এবং দেশের অভ্যন্তরে পার্থক্য থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে অব্যাহতভাবে নানা উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্মকে হেয় করা হচ্ছে। অন্যদিকে চলছে উপর্যুপরি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এমন ত্রিমুখী আক্রমণে একটি রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। তাই ৭১-এ আমরা যেভাবে পিন্ডির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, বিজয়ী হয়েছি তেমনিভাবে এখন আমাদের দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ী হতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এ লড়াইয়ে শামিল হই তবে কেউ আমাদের বিজয়কে প্রতিহত করতে পারবে না। কারণ ১৬ কোটি মানুষের চেতনাকে পরাজিত করতে পারে এমন অস্ত্র আজও পৃথিবীতে তৈরি হয়নি।
ফরহাদ মজহার বলেন, বাংলাদেশ তার রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তিকে বিশ্বজিতের মতোই কুপিয়ে হত্যা করেছে। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে টিকে থাকতে হলে সেই ভিত্তিকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। আর আগামী দিনের এ লড়াই হবে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসের চেয়েও দীর্ঘ এবং রক্তক্ষয়ী। সীমান্তের কাঁটাতারে বেড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ দিল্লির জন্য একটি হুমকি। তাই তারা বাংলাদেশের সঙ্গে একটি অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে পত্রিকা অফিসে অবরুদ্ধ রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলেও কোনো সম্পাদককে এভাবে আটকে রাখা হয়নি। এটা পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ।
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, শুধু সীমান্ত রক্ষীর গুলি থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা যাবে না। এজন্য দেশপ্রেমিক তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশপ্রেমের বিস্ফোরণ ঘটাতে না পারলে এই দেশকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। তিনি আরও বলেন, যে জাতি তার মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা করতে পারে না তারা অধপতিত, বিপর্যস্ত।
দৈনিক আমার দেশ-এর পাঠকমেলা ছাড়া গতকাল কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন নানা আয়োজনে ফেলানী হত্যা দিবসটি পালন করে। দিনটি উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, সভাপতিত্ব করেন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। সঞ্চালক ছিলেন জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফর রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি মহাসচিব আবদুল মালেক চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া প্রমুখ।
বৈঠকে মাহমুদুর রহমান বলেন, সীমান্ত এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমরা একই চিত্র দেখতে পাচ্ছি। সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফ প্রতিদিন গুলি করে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে— আর র্যাব দেশের অভ্যন্তরে মানুষ হত্যা করছে। র্যাব এখন বিএসএফ-এর দোসরে পরিণত হয়েছে। সীমান্তে দিল্লির প্রতিনিধি আর দেশের অভ্যন্তরে দিল্লির সেবাদাস। ফলে সীমান্তে এবং দেশের অভ্যন্তরে পার্থক্য থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে অব্যাহতভাবে নানা উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্মকে হেয় করা হচ্ছে। অন্যদিকে চলছে উপর্যুপরি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এমন ত্রিমুখী আক্রমণে একটি রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। তাই ৭১-এ আমরা যেভাবে পিন্ডির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, বিজয়ী হয়েছি তেমনিভাবে এখন আমাদের দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ী হতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এ লড়াইয়ে শামিল হই তবে কেউ আমাদের বিজয়কে প্রতিহত করতে পারবে না। কারণ ১৬ কোটি মানুষের চেতনাকে পরাজিত করতে পারে এমন অস্ত্র আজও পৃথিবীতে তৈরি হয়নি।
ফরহাদ মজহার বলেন, বাংলাদেশ তার রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তিকে বিশ্বজিতের মতোই কুপিয়ে হত্যা করেছে। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে টিকে থাকতে হলে সেই ভিত্তিকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। আর আগামী দিনের এ লড়াই হবে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসের চেয়েও দীর্ঘ এবং রক্তক্ষয়ী। সীমান্তের কাঁটাতারে বেড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ দিল্লির জন্য একটি হুমকি। তাই তারা বাংলাদেশের সঙ্গে একটি অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে পত্রিকা অফিসে অবরুদ্ধ রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলেও কোনো সম্পাদককে এভাবে আটকে রাখা হয়নি। এটা পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ।
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, শুধু সীমান্ত রক্ষীর গুলি থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা যাবে না। এজন্য দেশপ্রেমিক তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশপ্রেমের বিস্ফোরণ ঘটাতে না পারলে এই দেশকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। তিনি আরও বলেন, যে জাতি তার মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা করতে পারে না তারা অধপতিত, বিপর্যস্ত।
দৈনিক আমার দেশ-এর পাঠকমেলা ছাড়া গতকাল কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন নানা আয়োজনে ফেলানী হত্যা দিবসটি পালন করে। দিনটি উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, সভাপতিত্ব করেন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। সঞ্চালক ছিলেন জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফর রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি মহাসচিব আবদুল মালেক চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া প্রমুখ।
-
প্রথম পাতা

সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া









