Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিএনপি আমলের তুলনায় গণপরিবহনের ভাড়া দ্বিগুণ

কাজী জেবেল
পরের সংবাদ»
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া চারদলীয় জোট শাসনামলের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এ দুই মহানগরীতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার প্রতি কিলোমিটার ভাড়া বাসে ১ টাকা ৬০ পয়সা ও মিনিবাসে ১ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে দিয়েছে। যদিও পরিবহন শ্রমিকরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি আদায় করছেন। এ নিয়ে প্রায়ই পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের বচসা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। পক্ষান্তরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাস ৮০ পয়সা ও মিনিবাসে ৮৩ পয়সা ভাড়া ছিল। একই সঙ্গে বিএনপির সময়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্বল্পদূরত্বে সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ১ টাকা, যা বর্তমানে ৫ ও ৭ টাকা আদায়ের বিধান করে দিয়েছে সরকার। সিটিং সার্ভিস বাসগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করছে।
একইভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলায় চলাচলকারী বাস ও পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়াও বেড়েছে। বিএনপির আমলে সর্বশেষ ২০০৫ সালে দূরপাল্লার রুটে সব ধরনের টোল চার্জসহ বাসে ৮০ পয়সা ও মিনিবাসে ৮৩ পয়সা ভাড়া ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে টোল ও ফেরি চার্জ ছাড়াই বাস ও মিনিবাসে ১ টাকা ৩৫ পয়সা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। টোলচার্জ ধরা হলে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ১ টাকা ৬০ পয়সা’র বেশি পড়ছে। বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরে দুই দফায় গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানো হয়। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের চার বছরে ৫ দফা ভাড়া বেড়েছে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক, লরি ও কভার্ডভ্যানের ভাড়াও বেড়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের মাত্র ৬ দিনের মাথায় ২০০৯ সালের ১২ জানুয়ারি গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানো শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আরেক দফা ভাড়া বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। চলতি সপ্তাহে নতুন ভাড়া ঘোষণা করা হতে পারে। বিআরটিএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন মহাজোট সরকার ও পরিবহন মালিকরা। বর্তমান সরকারের আমলে ২০০৯ সাল থেকে যাত্রীপ্রতি আলাদা ফেরি ও টোল চার্জ আরোপ করা হয়। বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং মাওয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি পারাপার হয়ে চলাচলকারী বাসে ঢাকা-বরিশাল রুটে ৭৬ টাকা ৭৮ পয়সা, ঢাকা-ফরিদপুর ও মাদারীপুর রুটে ৭৬ টাকা ৭৮ পয়সা, ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৯১ টাকা ৭৮ পয়সা, বরিশাল-পিরোজপুর রুটে ৮৮ টাকা ২১ পয়সা, ঢাকা-বরগুনা রুটে ১০০ টাকা টোল চার্জ আদায় করা হচ্ছে। প্রত্যেক যাত্রীর ভাড়ার সঙ্গে এ চার্জ আদায় করা হচ্ছে। বিএনপি আমলে পৃথক টোল ও ফেরি চার্জ আদায় করা হতো না। অর্থাত্ সব ধরনের চার্জ ভাড়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিআরটিএ’র নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিএনপি সরকারের পাঁচ বছর, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর ও আওয়ামী লীগ সরকারের চার বছরে দশবার গণপরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। এর মধ্যে বিএনপির আমলে ২০০৩ ও ২০০৫ সালে দু’বার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল ২০০৭ ও ২০০৮ সালে তিনবার ও আওয়ামী লীগ সরকারের চার বছরে পাঁচবার ভাড়া বেড়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে একবার এবং ২০০৯ ও ২০১১ সালে দু’বার করে বাস ভাড়া বেড়েছে। জ্বালানি তেল ও সিএনজির দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে গণপরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। গণপরিবহন ও পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়া বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে গেছে। পথে পথে চাঁদাবাজির মাশুল জনগণকে দিতে হয়েছে।
মহানগর এলাকায় চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসে চরম ভাড়ানৈরাজ্য চলছে। সারাদেশে একই হারে ভাড়া আদায় করা হলেও ২০০৮ সালের ২২ জুলাই থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য পৃথক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা বেঁধে দেয়া হয়। এরপর থেকে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের ১ টাকার স্থলে সর্বনিম্ন ৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। অর্থাত্ যে দূরত্বেই যাওয়া হোক না কেন, বাসে উঠলেই সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। একই সময়ে বাসে ১ টাকা ২০ পয়সা ও মিনিবাসে ১ টাকা ১০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ১৮ মে ভাড়া আবার বাড়িয়ে বাসের ১ টাকা ৫৫ পয়সা ও মিনিবাসে ১ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ৭ ও ৫ টাকা করা হয়। একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ভাড়া আবারও বাড়ানো হয়। গ্যাসের দাম বাড়ার অজুহাতে বাসে ১ টাকা ৬০ পয়সা ও মিনিবাসে ১ টাকা ৫০ পয়সা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ৫ টাকা ও মিনিবাসে ৭ টাকা বহাল রাখা হয়।
বিএনপির আমলে দূরপাল্লা, আন্তঃজেলা ও মহানগরীতে সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভাড়া বাড়ানো হয়। বাসে ৮০ পয়সা ও মিনিবাসে ৮৩ পয়সা ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় তত্কালীন সরকার। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারাদেশে একই ভাড়া কার্যকর ছিল। এর আগে ২০০৩ সালের ২৯ মার্চ ভাড়া বাড়িয়েছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। ওই সময় বাসে কিলোমিটারে ৭২ পয়সা ও মিনিবাসে ৭৫ পয়সা ভাড়া ছিল। সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারিত না থাকায় বিএনপি শাসনামলে স্বল্পদূরত্বে সর্বনিম্ন ১ টাকা ভাড়া আদায় করতেন পরিবহন শ্রমিকরা।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের ৬ দিনের মাথায় প্রথম ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর বাদে সারাদেশে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসে ভাড়া বৃদ্ধি করে। ওই সময় বাসে যথাক্রমে ৯৪ ও ৯৭ পয়সা এবং মিনিবাসে ৯৭ পয়সা ও ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই বছরের ২৭ জুলাই নতুন কৌশলে ভাড়া বাড়ানো হয়। কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ভাড়া না বাড়িয়ে সেতুর টোল ও ফেরি চার্জ আলাদা করা হয়। এরপর থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে পৃথকভাবে টোল আদায় শুরু করেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ২০১১ সালের ১৮ মে টোল ও ফেরিচার্জ বাদে দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসের ভাড়া ১৫ পয়সা বাড়িয়ে ১ টাকা ১৫ পয়সা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ৫ পয়সা বাড়িয়ে ১ টাকা ২০ পয়সা করা হয়। ওই সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া বাড়ানো হয়। অটোরিকশার ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি সাড়ে সাত টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৬৪ পয়সা করা হয়। প্রতি মিনিট বিরতির জন্য চার্জ ১০ পয়সা বাড়িয়ে ১ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়। সর্বশেষ গত বছরের ১ জানুয়ারি প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বাড়িয়ে ১ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। ওই ভাড়া এখনও কার্যকর রয়েছে।
ভাড়া আবারও বাড়ছে : জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রেক্ষিতে আবারও গণপরিবহনে ভাড়া বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভাড়া নির্ধারণ কমিটি কয়েক দফায় বৈঠক করেছে। শুধু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার হিসাব ধরা হলে প্রতি কিলোমিটারে ৭ পয়সা হারে ভাড়া বাড়ার কথা। কিন্তু পরিবহন মালিক সমিতির আওয়ামীপন্থী নেতারা জ্বালানি তেল, গাড়ির বর্তমান বাজার দর, গাড়ি ক্রয়ের ঋণের সুদসহ ২৮ ক্যাটাগরিতে নতুন ব্যয় বিশ্লেষণ করে ভাড়া নির্ধারণের চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা প্রতি কিলোমিটারে অন্তত ২১ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা জানান, ভাড়া নিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মালিক-শ্রমিক নেতাদের সমঝোতার পর নতুন ভাড়া ঘোষণা করা হবে।