Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শাস্তি এড়াতে ২ অভিযুক্ত রাজসাক্ষী হতে চায় : ভারতকন্যার নাম এভাবে প্রকাশ করতে চাননি বাবা

বিবিসি, রয়টার্স
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ভারতকন্যার নাম এভাবে প্রকাশিত হোক, তা চাননি তার বাবা বদ্রি সিং পাণ্ডে। ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছেন, তার মেয়ের নামে ভারতে ধর্ষণবিরোধী নতুন আইন প্রণয়ন করা হলেই কেবল নাম প্রকাশ করা যাবে। এর আগে রোববার যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ভারতকন্যার বাবা ৫৩ বছর বয়সী বদ্রি সিং পাণ্ডে জানিয়েছেন, তার মেয়ের নাম জ্যোতি সিং পাণ্ডে। ওই সাক্ষাত্কারে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এতদিন ধরে আমার মেয়ে ‘ভারতকন্যা’, ‘দামিনী’, ‘আমানত’ কিংবা ‘ব্রেইভহার্ট’ নামে পরিচিত ছিল, কিন্তু এ প্রতীকী নামগুলো তার সাহসকে অস্বীকার করার মতো।’
রোববার প্রকাশিত ওই সাক্ষাত্কারে জ্যোতির বাবা বলেন, ‘তার এই সাহসী নামটি হাজার বছর ধরে পাশবিকতার শিকার অসংখ্য নারীর মনে সংগ্রাম করে বাঁচার উত্সাহ জোগাবে।’
ভারতকন্যার বাবা তার নাম প্রকাশের অনুমতি দিলেও ছবি প্রকাশের অনুমতি দেননি বলে ওই ব্রিটিশ সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে জানা যায়। প্রতিবেদনটিতে জ্যোতির বাবার ছবি প্রকাশিত হলেও জ্যোতির কোনো ছবি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানায় তার পরিবার। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর রাতে নয়াদিল্লিতে চলন্ত বাসে জ্যোতিকে ধর্ষণের পর বর্বর নির্যাতন চালায় ৬ পাষণ্ড। এ সময় জ্যোতির সঙ্গে থাকা তার বন্ধু অবিন্দ্রকেও মারধর করা হয়।
দু’সপ্তাহের বাঁচা-মরার লড়াই শেষে ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মারা যায় জ্যোতি। এ ঘটনার প্রতিবাদের ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়।
এরই মধ্যে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। ৫ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করে বৃহস্পতিবার ১ হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বয়সে কিশোর হওয়ায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা থেকে বাদ পড়ে ষষ্ঠ ব্যক্তি। তবে তাকে কিশোর বিচার আইনের মুখোমুখি করা হয়েছে। গত শনিবার প্রাথমিক শুনানি শেষে অভিযুক্ত পাঁচজনকে গতকাল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রথম মুখ খুলেছিল পৈশাচিকতার আরেক শিকার জ্যোতির বন্ধু অবিন্দ্র। সে জ্যোতির মৃত্যুর জন্য পথচারী ও পুলিশের অবহেলা এবং সময়ক্ষেপণকে দায়ী করেছিল। এদিকে শাস্তি এড়াতে ২৩ বছর বয়সী মেডিকেল ছাত্রী জ্যোতি সিং পাণ্ডেকে ধর্ষণে অভিযুক্ত দু’জন রাজসাক্ষী হওয়ার কথা জানিয়েছে। নয়াদিল্লির একটি আদালতে এ আবেদন করে ওই দু’অভিযুক্ত। রোববার মহানগর দায়রা আদালতে চার অভিযুক্তকে হাজির করা হলে দু’জন আইনি সহায়তার বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। পঞ্চম অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হবে।
মহানগর দায়রা আলাদতের বিচারক জ্যোতি কেলার বলেন, ‘আদালতে হাজির করা চার অভিযুক্তের মধ্যে দু’জন পাভান গুপ্তা ও বিনয় শর্মা। তাদের ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আইনি উপদেষ্টা নেয়ার সুবিধা নাকচ করেছে এবং তারা গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রাজসাক্ষী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে রাম সিং ও তার ভাই মুকেশ আইনজীবী নিয়োগ দেয়ার আবেদন করেছে। এ মামলায় আইনি পরামর্শক নেয়া যাবে তা অভিযুক্তদের সবাইকে জানানো হয়, কিন্তু দু’অভিযুক্ত আইনি পরামর্শের বিষয়টি নাকচ করে দেয়। তারা রাষ্ট্রের পক্ষ হয়ে ১৬ ডিসেম্বরের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী দেয়ার কথা জানায়।