Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

‘যুদ্ধাপরাধের’ শাস্তি কিভাবে দেবে সিরীয় জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন - মুরসি : আসাদের শান্তি উদ্যোগ নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র

বিবিসি, সিনহুয়া
পরের সংবাদ»
জাতির উদ্দেশে দেয়া সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ভাষণের নিন্দা জানিয়ে তার শান্তি উদ্যোগকে নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভাষণে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের ‘পশ্চিমাদের পুতুল’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছিলেন আসাদ। রোববার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড এক বিবৃতিতে আসাদের বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানান বলে জানিয়েছে বিবিসি অনলাইন।
বিবৃতিতে আসাদ প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনাকে ‘বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কহীন’ ও ‘স্বৈরাচারী সরকারের ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার আরেকটি উদ্যোগ’ বলে অভিহিত করা হয়। তিনি আবারও প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। নুল্যান্ড আরও বলেন, আমাদের প্রস্তাবে আরব লিগ, জাতিসংঘ দূত লাখদার ব্রাহিমির উদ্যোগকেও পাত্তা দেয়া হয়নি।
গত জুনের পর আসাদ রোববারই প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। রাজধানী দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকা সমর্থকদের সামনে ভাষণ দেন তিনি। ভাষণটি সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
সিরিয়ার সঙ্গে যারা ‘বিশ্বাসঘাতকতা করেনি’, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার ঘোষণা দেন তিনি। একে তিনি ‘শান্তি প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা’ বলে বর্ণনা করেন। ভাষণে আসাদ বিদ্রোহীদের ‘আল্লাহর শত্রু এবং পশ্চিমাদের পুতুল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘সিরিয়া ভৃত্যদের সঙ্গে নয়, তাদের প্রভুদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়।’
সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তত্পরতাকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সিরিয়া সন্ত্রাসী দৃষ্টিভঙ্গির কোনো লোকজনের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না।’
আসাদ বলেন, ‘সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধানের প্রথম পদক্ষেপের জন্য আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোকে সিরিয়ায় অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। জঙ্গি তত্পরতা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণও বন্ধ করতে হবে।’ বিরোধীরা পশ্চিমাদের হয়ে কাজ করছে বলে সমালোচনা করেন আসাদ। আর তাই দেশ ও জাতিকে রক্ষায় তিনি দেশবাসীকে যুদ্ধে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। ভাষণে আসাদ জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে একটি সম্মেলন আহ্বান এবং জাতীয় সনদের ব্যাপারে একটি গণভোট করারও পরিকল্পনার কথা জানান।
আসাদের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, ‘সিরিয়ার রাজনৈতিক রূপান্তরের জন্য প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।’ জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ২০১১ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া সিরিয়ার সরকারবিরোধী বিদ্রোহে এ পর্যন্ত ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এদিকে মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সিরীয় জনগণের প্রতি তার সমর্থনের কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সিরীয় জনগণ চূড়ান্ত পর্যায়ে আসাদকে পরাভূত করবে। এদিকে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উত্তরণের পথ সুগম করতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। মুরসি বলেন, যুদ্ধাপরাধের জন্য তাদের প্রেসিডেন্টকে কীভাবে শাস্তি দেবে—সিরীয় জনগণই সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে মুরসি এসব কথা বলেন। রোববার সাক্ষাত্কারের অংশবিশেষ প্রচার করা হয়। তিনি বলেন, ‘বিপ্লব ও আন্দোলনের মাধ্যমে সিরীয় জনগণ রক্তপাত বন্ধ করতে পারলেই আসবে নতুন পর্যায়। সে পর্যায়ে গঠিত হবে স্বাধীন পার্লামেন্ট এবং তারা নির্বাচন করবে পছন্দমত সরকার। এর পরই তাদের বিরুদ্ধে যারা অপরাধ করেছে, সে ব্যাপারে সিরীয় জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।’ রোববার জাতির উদ্দেশে দেয়া আসাদের ভাষণের পর মুরসি এসব মন্তব্য করেন। যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে তার (আসাদের) বিচার করা উচিত কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুধু আমি নই বরং সিরীয় জনগণও তা চায়।’
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, এ বছরের প্রথম ৬ দিনে ৯ হাজার সিরীয় শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে জর্দানে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন করে শরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সামলাতে জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংক্রান্ত হাইকমিশনের প্রতিনিধিদলকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জাতিসংঘ উদ্বাস্তু কমিশনের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু হারপার রোববার তার টুইটে বলেন, পয়লা ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ২২ হাজার সিরীয় নাগরিক দেশত্যাগ করেছে। দারা অঞ্চলে তুমুল লড়াইয়ের কারণেই সিরীয় নাগরিকদের দেশত্যাগের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। শরণার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জাতারি আশ্রয় শিবিরে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এই শিবিরে ধারণক্ষমতা ৬০ হাজার। এরই মধ্যে ৬২ হাজার মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছে। তাঁবুর এই শিবিরে প্রচণ্ড শীতের কারণে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। বরফ পড়তে শুরু করেছে; তাই আশ্রিত মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।