Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

‘পুরো বাংলাদেশ এখন ধর্ষিত’

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, পুরো বাংলাদেশ এখন ধর্ষিত। পুলিশ ধর্ষকদের রিমান্ডে না নিয়ে রিমান্ডে নিচ্ছে সাংবাদিক, সম্পাদক ও ভাষা সৈনিকদের। দেশে অরাজকতা চলতে থাকায় ও মূল্যবোধের অবক্ষয় হতে থাকায় এ ধরনের ঘটে চলেছে। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিত্সাধীন গণধর্ষণের শিকার টাঙ্গাইলের মধুপুরের স্কুলছাত্রীকে দেখতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, মেয়েটি যে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে, এর বিচার পাবে কিনা জানি না। তার সর্বনাশ করেছে বীথি নামের আরেকটি মেয়ে। মেয়েটির ধর্ষিত হওয়া মানে পুরো বাংলাদেশ ধর্ষিত ও নির্যাতিত হওয়া। তিনি বলেন, সারাদেশের ধর্ষণ, নির্যাতনের অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। টাঙ্গাইলের এ মেয়েটির ঘটনাটিও আড়ালে পড়ে যেত। কয়েক তরুণ সাংবাদিক বিষয়টি নিয়ে লেখালেখির কারণেই সেটি আড়ালে পড়েনি। কাদের সিদ্দিকী গতকাল সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ঢামেকের ওসিসি ওয়ার্ডে আসেন। ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিত্সকের কাছে তিনি মেয়েটিকে দেখার অনুমতি চান। তাকে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত অনুমতি দেয়া হয়নি। এ সময় কাদের সিদ্দিকীকে কর্তব্যরত ওসিসির কো-অর্ডিনেটর ডা. বিলকিস বেগম জানান— ভেতরে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় আমরা আপনাকে যেতে দিতে পারছি না। ফলে তাকে আধা ঘণ্টা ডা. বিলকিসের রুমে বসে থাকতে হয়। কাদের সিদ্দিকী ঢামেক হাসপাতাল পরিচালককে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। এরপর মেয়েটিকে দেখার অনুমতি পান। এ বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাবা-মা, বা অভিভাবককে দেখতে দেয়া হবে না জেনে আমি কিছুটা বিস্মিত হয়েছি।’
অন্যদিকে গতকাল বিকালে মেয়েটিকে দেখতে যান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তিনি ঢামেকের ওসিসি ওয়ার্ডে যান। তাকে ভেতরে যেতে অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব হয়নি। ওসিসি থেকে বের হওয়ার সময় ড. মিজান সাংবাদিকদের বলেন- ‘এ ঘটনা বলার ভাষা আমার নেই। মেয়েটি মানসিক বিকারগ্রস্ত হিসেবে জীবন-যাপন করছে। ঘুমিয়ে থাকার কারণে কিশোরীটির সঙ্গে তার কথা হয়নি উল্লেখ করে ড. মিজান জানান, ‘মেয়েটির জ্বর এসেছে।’
ওসিসির কো-অর্ডিনেটর ডা. বিলকিস বেগম টাঙ্গাইলের নির্যাতিত মেয়েটি সম্পর্কে আমার দেশ-কে জানান, তার অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। তার সুচিকিত্সার জন্য গঠিত ৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড মেয়েটিকে দেখে এ তথ্য জানান। তবে মেয়েটি এখনও কাউকে চিনতে পারছে না। উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর বিয়েবাড়ি নিয়ে যাওয়ার নাম করে মেয়েটিকে তার বান্ধবী বীথি মধুপুরের পাহাড়ি এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই চার জনসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। তারা মেয়েটিকে বন্দী করে রেখে পরপর তিনদিন গণধর্ষণ করে। এরপর মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ ডিসেম্বর সোমবার তাকে সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকায় রেললাইনের ওপর ফেলে রেখে যায় ধর্ষকরা। ওই দিনই অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয় লোকজন। পরে অবস্থার অবনতি হলে মেয়েটিকে ঢামেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এর আগে মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের লোকদের সমবেদনা জানান।