Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

লুটপাট দুর্নীতি অব্যবস্থাপনায় নাজুক অর্থনীতি

কাওসার আলম/জাহিদুল ইসলাম
পরের সংবাদ»
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের চার বছরে চরম লুটপাট, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অর্থনীতি নাজুক হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ে মহামারী আকার ধারণ করেছে দুর্নীতি। শেয়ারবাজার, ব্যাংক ও এমএলএম কোম্পানির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের মহোত্সব হয়েছে এ সময়। এসব লুটপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারদলীয় লোকেরাই জড়িত ছিল। অপরদিকে কুইক রেন্টালের নামে দলীয় লোকদের দুর্নীতির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। যার ফলে গোটা অর্থনীতিই হুমকির মুখে পড়ে। এদিকে গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কট ও অবকাঠামোর দুর্বলতায় বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দেয়। কর্মসংস্থান বাড়ার পরিবর্তে বেড়েছে বেকারত্বের পরিমাণ। অথচ সরকারের ঘোষণা ছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার। রফতানি, প্রবাসী আয়ে আশা দেখা দিলেও গত বছর থেকে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রবাসী আয় নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
দুর্নীতি বন্ধ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করলেও বর্তমান সরকারের চার বছরই ইতিহাসের রেকর্ড পরিমাণে দুর্নীতি হয়েছে। শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর প্রায় এক লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সরকারদলীয় লোকজন। সোনালী ব্যাংকের দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেয়া হয়। অন্যান্য ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির একাধিক ঘটনা ঘটেছে এ সময়ে। ডেসটিনি, ইউনিপেটুসহ বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানি সরকারের ছত্রছায়ায় গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উপরন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পরিষদকে করা হয়েছে শাসক দলের নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া পরিচালকদের যোগসাজশে এসব ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ব্যাংকের বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এসব পরিচালকের চাপের কারণে দলীয় লোকদের ঋণ দিতে হয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত ঋণখেলাপিতে পরিণত হয়। এর ফলে এ ব্যাংকগুলো বেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও সরকার ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় দলীয় লোকদের এসব ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, সরকারের গত চার বছরে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য দলীয় লোকদেরই দেয়া হয়।
দ্রুত বিদ্যুত্ সমস্যা সমাধানে সরকার রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল পদ্ধতি গ্রহণ করে। দলীয় লোকদের এসব কুইক রেন্টাল স্থাপনের অনুমোদন দিয়ে মূলত তাদেরকে লুটপাটের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। চার বছর ধরে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল চালানোর ভুল নীতি এবং এ খাতে লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। রেন্টালগুলোতে ভর্তুকির টাকার জোগান দিতে সরকার ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ এক লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করে। ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ করায় ব্যাংকে সৃষ্টি হয় তীব্র তারল্য সঙ্কট। ফলে ঋণের সুদ হার বেড়ে বিনিয়োগকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করে। ভর্তুকির চাপ সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সরকার দফায় দফায় তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায়। এর ফলে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। মূল্যস্ফীতির হার দুই অঙ্কের ঘরে চলে যায়। গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কট সামাল দিতে সরকার নতুন সংযোগ দেয়াই বন্ধ করে দেয়। এরপরও সঙ্কট কমেনি। গ্যাসের উত্পাদন সামান্য বাড়লেও ঘাটতি বেড়েছে ব্যাপক হারে। বিদ্যুত্ পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়নি। এর ফলে শিল্প-কারখানায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা উত্পাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। যারা জেনারেটরের মাধ্যমে শিল্প চালান, তারাও চাপে পড়েছেন তেলের দাম বাড়ানোর কারণে। ফলে ব্যবসায়িক পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। টিকে থাকতে না পারায় অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। নতুন শিল্প উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগে আসতে সাহস করেননি। ফলে বিনিয়োগে নেমে আসে স্থবিরতা। ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ মোট জিডিপির ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশের জিডিপির শতকরা ২৮ দশমিক ৪০ ভাগ সঞ্চয় হলেও গত অর্থবছরে বিনিয়োগ হয়েছে ২৪ দশমিক ৭৩ ভাগ। বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় ২৮ হাজার ৯০১ কোটি ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা অর্থনীতির মূলধারা থেকে বেরিয়ে গেছে। দুর্নীতির কারণে গত চার বছরে অবকাঠামো খাতে কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন। ক্ষমতায় এসে সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত দুর্নীতির কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতিতে জড়িত শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বিকাশের স্বার্থে অর্থনীতিবিদরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার তাগিদ দিয়ে এলেও দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে এ প্রকল্পটির কাজে স্থবিরতা বিরাজ করছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উন্নয়ন কাজেও গতি নেই। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গত চার বছরে নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার কারণে প্রক্রিয়াধীন অনেক স্থাপনা ভেঙে পড়েছে। দুর্নীতির কারণে বড় প্রকল্পগুলোর কাজ বন্ধ থাকায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বিশাল আকারের এডিপি ঘোষণা হলেও বছরের মাঝামাঝি সময়ে কাটছাঁট করে এর আকার ছোট করা হচ্ছে। এরপরও বছর শেষে সংশোধিত এডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অর্থ অলস পড়ে থাকে।
সরকারের বৃহত্ বিনিয়োগ এডিপি ব্যয়ে গুণগত মান বজায় না রাখায় অবকাঠামো খাতের কোনো উন্নয়ন হয়নি গত চার বছরে। এডিপি বরাদ্দে বিদ্যুত্ খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হলেও বিদ্যুত্ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ২০১১-১২ অর্থবছরে বিদ্যুত্ বিভাগ এডিপি বরাদ্দের নির্ধারিত অর্থ ব্যয় করে অতিরিক্ত আরও ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নেয়। অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত একটি প্রকল্পও সমাপ্ত ঘোষণা করতে পারেনি সরকার। গত চার বছরে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সরকারের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে যে টেকসই, সুষম উন্নয়ন তা হয়নি। সরকারের বেশকিছু ভ্রান্তনীতির কারণে আর্থিক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। ব্যাংকে আমানত, সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর সুদ বসানো হয়েছে। এগুলোর কারণে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে। ব্যাংকিং সেক্টর থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করেছে। এর ফলে বেসরকারি ঋণপ্রবাহ কমে গেছে এবং উদ্যোক্তাদের অনেকেই ঋণ সুবিধা পাননি। ব্যাংক ঋণের সুদের হারও বেড়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্বলতা দেখা গেছে। আর এসবের কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে। আঞ্চলিক উন্নয়নেও বড় ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে। ব্যাংকিং খাতে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধস নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যথাযথ তদারকি না থাকা এবং সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে নানা ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক ধারা শুভ নয়।
জাতীয় উত্পাদনে প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে যথেষ্ট। কৃষিখাতে উত্পাদন বাড়লেও প্রবৃদ্ধি কমেছে। আর্থিক খাতে অস্থিরতা বাড়ছে। সুদের হারের সঙ্গে বাড়ছে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ। তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, কুইক রেন্টাল নীতির কারণে আর্থিক খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক উল্লমম্ফনের পর এখন আবার বড় ধরনের মন্দা তৈরি হয়েছে। ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে গত ক’বছর ধরে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের তারল্য সঙ্কট বিরাজ করছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর বলেন, গত ৪ বছরে আর্থিক খাতে সুশাসনের মারাত্মক অবণতি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো আগে ভালো অবস্থানে ছিল। কিন্তু নানা ধরনের দুর্নীতির কারণে এগুলোর ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে। দেশের বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আবার যাদের হাতে সম্পদ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, তারা দেশে অর্থ বিনিয়োগ করছেন না। ফলে দেশের টাকার বড় একটা অংশ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। নানা ধরনের সমস্যা ও ঝুঁকির মধ্যে দেশের অর্থনীতি টিকে থাকার সামর্থ্য প্রদর্শন করলেও আমাদের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। কিন্তু সে আকাঙ্ক্ষা পূরণে অর্থনৈতিক যেসব সূচকে উন্নতি করতে হবে, তার অনেকগুলো অর্জন এখনও প্রশ্নবোধক। আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে আমাদের প্রবৃদ্ধি দ্রুত আরও ২ শতাংশ যোগ করতে হবে। কিন্তু আমরা এখনও তা করতে পারছি না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, গত ৪ বছরে অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা বলতে কিছুই ছিল না। একের পর এক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। হলমার্কের মতো এত বড় অনিয়ম দেশের আর্থিক খাতে এর আগে আর হয়নি। বিনিয়োগ বাড়েনি। প্রবৃদ্ধির হার আশানুরূপ হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হওয়া উচিত। কিন্তু এটি ৬ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেকে বলে থাকেন, ইউরোপের চেয়ে আমাদের প্রবৃদ্ধি ভালো। অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের তুলনার কোনো মানে হয় না। উন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ১ থেকে দেড় শতাংশের বেশি হয় না।
আমাদের প্রবৃদ্ধির তুলনা করতে হবে বর্ধনশীল দেশগুলোর সঙ্গে। আফ্রিকা, ভিয়েতনাম, লাওসের মতো দেশে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৮ থেকে ৯ শতাংশ। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, চার বছরের অর্থনীতিতে মিশ্র অবস্থা ছিল। কিছু অর্জন আছে যেগুলো ইতিবাচক। কৃষি এবং রফতানিতে সরকার ভালো করেছে। কিন্তু চার বছরই নানা কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা বজায় ছিল। শেয়ারবাজার, হলমার্ক, ডেসটিনির মতো কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। আবার জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় কুইক রেন্টাল প্লান্ট নীতি গ্রহণ করার কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যর্থতা রয়েছে। বিনিয়োগের বিষয়ে যে ধরনের প্রত্যাশা ছিল, তা হয়নি। সরকারের সুশাসনের অভাবের কারণে নানা ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। আর এ কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করেনি বিশ্বব্যাংক।