Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জনমত সমাচার

শওকত মাহমুদ
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী ক্যাথারিন দি গ্রেট ১৭৬২ সালে দম্ভ করে বলেছিলেন, ‘আমার কাজ হলো স্বৈরাচারী হওয়া আর সৃষ্টিকর্তার কাজ হচ্ছে ক্ষমা করা।’ সমসময়ের ‘সম্রাজ্ঞী’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্যাথারিনের মন্ত্রেই চলছেন। আল্লাহ শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করবেন, না কোটি কোটি মোনাজাতের আর্তি শুনবেন—সে সিদ্ধান্ত বিশ্ববিধাতার। শেখ হাসিনাকে বুঝতে ক্যাথারিনকে উদ্ধৃত করার কারণ, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একগুঁয়েমি ও প্রতিহিংসার জন্য ফ্যাসিবাদ ক্রমেই রমরমিয়ে উঠেছে। ভয়-ডর, লাজ-লজ্জার বালাই নেই। নির্বাহী, বিচার, আইন প্রণয়ন—সব ক্ষেত্রেই ক্ষমতা একজনের বজ্রমুষ্টিতে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে এখন সম্ভবত একজনেরই মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, বাক-স্বাধীনতা আছে। আর কারও নেই। অধিকারের চর্চা করলেই খুন-গুম-চাপাতি-মামলা নেমে আসে। শুরুটা হবে মতিয়া চৌধুরী, মখা আলমগীর, শাজাহান খান, হাসানুল হক ইনু, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, অ্যাডভোকেট কামরুল গংয়ের বাক-আক্রমণ দিয়ে। ফরাসি দার্শনিক অ্যালেক্সিস টকভিল কত আগে এই মহাসত্যটা ধরিয়ে দিয়েছিলেন—‘Despots themselves do not deny that freedom is excellent; only they desire it for themselves alone and they maintain that everyone else is altogether unworthy of it.’
(অধিকার বা স্বাধীনতা খুব ভালো, এটা স্বৈরাচার অস্বীকার করে না। তারা শুধু চায় এ অধিকার শুধু তাদেরই থাকুক এবং আর কেউ এই অধিকারের যোগ্যই নয়)। মহাজোট সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক ডাকসাইটে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ লন্ডনে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মহাজোটে আছি এ জন্য যে গ্রেফতার হতে হবে না। তার বর্তমান নেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে দুর্নীতির দুর্গন্ধমাখা মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছিলেন—শেখ হাসিনা কাউরে ধরলে ছাড়ে না, বাঘে-ছাগলে এক ঘাটে পানি খায়। প্রেসিডিয়াম থেকে উপদেষ্টা পরিষদে ডিমোশন থু্ক্কু স্থানান্তর সম্পর্কে তার মত হলো, আমাকে তো পরীক্ষায় ফেল করায় নাই। একই ক্লাসে রাখছে। তোফায়েল আহমেদকে টপকে প্রেসিডিয়ামে যাওয়া নূহ আলম লেনিন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে (সম্ভবত ভীতিতাড়িত) প্রখ্যাত নেতা সম্প্রতি এক টিভি টক শোতে বলেন, এখন লেলিনের নেতৃত্বেই চলতে হবে। মূলত এদিক-ওদিক বলার ক্ষমতা আওয়ামী লীগেরই কারোর নেই। সমসময়ের সমাজে সাধারণ কা জ্ঞানে এ সমাচার স্পষ্ট আভাসিত যে, বর্তমান ‘যাচ্ছে-তাই’ সরকারটি অপরিমেয় গণ-ঘৃণার সম্মুখীন। গত তিন বছর ধরে যারা যেসব পত্রিকার পাতায় হররোজ পাঠকদের অন-লাইন জরিপের ফল দেখেছেন, সরকারের প্রায় কর্মে অনাস্থার রায় পড়েছেন, তারা হতবাক হয়ে পড়েছেন সম্প্রতি সেসব পত্রিকার জাতীয়ভিত্তিক জনমত জরিপের ফল দেখে। এক জরিপের বলদর্পী শিরোনাম—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমান সময়টি যখন এমনই ঐতিহাসিক যে, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি পরতে শেকলের ঝনঝনানি, তখন জনমত জরিপে অন্যরকম ফল উঠে আসাও বোধকরি দুরূহ। সামরিক শাসনকালে এরশাদের রেফারেন্ডামের সময় আইন ছিল—কোনোভাবেই সামরিক শাসনের সমালোচনা করা যাবে না। অতএব ওই আইনের জনক এরশাদের বিপক্ষে না ভোট দেয়াটা ছিল শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ‘হ্যাঁ’ বলতেই হবে। হাল আমলে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে না বললে তা হ্যাঁ হয়ে যাবে।
বাংলাদেশে জনমত জরিপের ফল নিয়ে বিতর্ক লেগেই আছে। মানুষের প্রশ্ন, আগে তাদের জরিপ করতে হবে যারা জরিপ পরিচালনা করে। তাদের কতজন সরকার সমর্থক, কতজন বিরোধী। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এক জরিপের ফল প্রকাশ করে হই-চই ফেলে দিয়েছিল। ৯৭ ভাগ এমপি অনৈতিক কাজে জড়িত। এ মত দিয়েছে এমপিদের এলাকার মানুষজন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সরগরম হয়ে উঠলেন, নথিপত্র ডেকে পাঠালেন। কারণ বর্তমান সংসদে তো সরকারি দলের এমপিতে ভরপুর। যা হোক গবেষণা শেষে বললেন, উত্তরদাতাদের সঠিকভাবে নির্বাচিত করা হয়নি। কিন্তু জনগণ বিশ্বাস করেছে ওই জরিপের ফল। এবার অবশ্য তথ্যমন্ত্রী এখনও ওইসব পত্রিকা জরিপ নিয়ে মুখর হননি। কারণ তার নেত্রী যে কোনো কোনো জরিপে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ডব্লিউ এইচ এডেন নামে এক ইংরেজ কবি (১৯০৭-৭৩) ‘দি আননোন সিটিজেন’ বইয়ে জনমত যাচাই সম্পর্কে বলেছিলেন— “Our researchers into public opinion are content / that he held the proper opinions for the time of the year; When there was peace, he was for peace when there was/ war, he went”. অর্থাত্ জনমতের গবেষকরা শান্তির সময়ে শান্তির পক্ষে, যুদ্ধ দেখলে পালায়।
‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর জরিপে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ পাবে ৪২ ভাগ ও বিএনপি ৩৯ ভাগ ভোট। গত বছরের জরিপে ৪০ শতাংশ ভোট ছিল আওয়ামী লীগের পক্ষে। এখন বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় বিএনপির ভোট বেড়েছে মাত্র ২ শতাংশ। এখন ৪৮ শতাংশ মানুষ শেখ হাসিনার কাজে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে বেগম জিয়ার কাজে খুশির সংখ্যা ৩৯ ভাগ। বর্তমান সরকারের আমলে এই পত্রিকার এটি হচ্ছে ষষ্ঠ জরিপ এবং প্রতিটিতেই শেখ হাসিনা এগিয়ে। তবে সুইং ভোটারদের সিদ্ধান্ত নির্বাচনী ফল পাল্টে দিতে পারে—এই পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে অর্থনীতির সেই তত্ত্বের মতো—‘যদি সব অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে।’ দৈনিক ‘প্রথম আলো’ পরিচালিত জরিপ বলছে, গত বছর আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ছিল ৩৮ শতাংশ, এবার কমে ৩৫ ভাগ। ২০১১ সালের চেয়ে ১ শতাংশ বেড়ে বিএনপির জনপ্রিয়তা হয়েছে ৪৪ শতাংশ। ‘প্রথম আলো’ বলছে, সরকারের জনপ্রিয়তা কমেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা বেড়েছে। উল্টো খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থা কমেছে। ‘মানবজমিন’ পত্রিকার পর্যালোচনা রিপোর্টে বলা হয়, এটা ভারসাম্য রক্ষার দলিল। ‘প্রথম আলো’র মতে, ৫৮ ভাগ মানুষ বিএনপির ভূমিকায় অখুশি। তা হলে বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়ল কী করে? জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা ২০০৯-এর ৩ ভাগের তুলনায় এখন ১২ ভাগে উঠলে জাপা রংপুর সিটি কর্পোরেশন ও টাঙ্গাইল উপনির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়ল কেন?
অন্যদিকে ‘সমকাল’ জরিপ জানাচ্ছে, সরকারের ও দলের নানা ব্যর্থতা সত্ত্বেও ৫৪ ভাগ মানুষের আস্থা এখন প্রধানমন্ত্রীর ওপর। বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর ভরসা ৩৮ শতাংশের। পত্রিকাটি বলছে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কার্যক্রমে ৬৬ ভাগ মানুষ সন্তুষ্ট। বেগম জিয়ার ওপর আস্থার পরিমাণ এবং বিএনপির প্রতি সন্তুষ্টির পরিমাণের ফারাক দেখে হোঁচট খেতে হয়।
‘যুগান্তর’ জরিপে জানানো হয়েছে, সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে ৭২ দশমিক ১৪ ভাগ। বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে ৪৪ ভাগ মানুষ মনে করেছে। শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে ১৭ ভাগ মানুষের মতে। ‘জনকণ্ঠ’ও শেষমেশ আরেক জরিপ জারি করেছে। ফলাফল সম্পাদকীয় নীতির ধারাবাহিকতাতেই আছে—প্রধানমন্ত্রীর মাহাত্ম্যে সয়লাব।
আলোচ্য জরিপগুলোর মধ্যে নানা ফলাফলে বিভ্রান্ত হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ থাকলেও একটি ক্ষেত্রে অমিল নেই। তা হচ্ছে অধিকাংশ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। ওই সরকার ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে না বলে তাদের অভিমত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি সব জরিপের ফলাফল নিয়ে একটা ঘুটা দেন তাহলে পরিস্থিতি তার অনুকূলে। অধিকাংশ জরিপ মোতাবেক তিনি দেশের অধিকাংশ মানুষের ভরসা ভোগ করছেন এবং বেশিরভাগ মানুষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন চায়। তবে তাই হোক। তিনি গদি ছেড়ে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে ভোট দিলে আবার নির্বাচিত হবেন। তাহলে আর সমস্যা থাকে না। এরপরও যদি তিনি তত্ত্বাবধায়কের পরিচালনায় নির্বাচনে যেতে ভয় পান অথবা তার মধ্যে ন্যূনতম গোঁ বিরাজ করে যে, তিনি আর কখনও বিরোধী নেত্রী হবেন না, আর কখনও বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেবেন না, তবেই আরও বিপদ এবং এই বিপদ তিনি জেনেশুনেই তৈরি করেছেন। বস্তুত অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েছেন শেখ হাসিনা। তার বিপন্নতা বা ভীতি নাকি এমনই, যে মুহূর্তে তিনি তত্ত্বাবধায়ক দেয়ার কথা বলবেন, গণভবনের ইট তখন থেকেই নাকি খোলা শুরু হবে। আল্লাহ জানেন। ফ্র্যাঙ্ক হার্বার্ট নামে আমেরিকার এক সায়েন্স ফিকশন লেখকের উচ্চারণটাই সত্য—’If you think yourselves as helpless and ineffectual, it is certain that you will create a despotic govt. to be your master.’ শুরু থেকে শেখ হাসিনা স্বেচ্ছাচারী হয়েছেন অসহায়ত্ব এবং অকর্মা হওয়ার কারণে।
বাংলাদেশে এখন যে বাস্তবতা বিরাজ করছে, তার সঙ্গে যাচাইকৃত এবং বিন্যাসকৃত জনমতের মিল কতখানি তা নিয়ে ভাববার আছে। চোখে দেখি একরকম, পত্রিকায় ছাপা হয় আরেক রকম। অত্যন্ত নিস্পৃহ একজন নাগরিক যদি www.facebook.com/khaleda.zia খোলেন, সমর্থকের সংখ্যা পাবেন (৬ জানুয়ারি পর্যন্ত) ১ লাখ ১৫ হাজার। Avi www.facebook.com/sheikh.hasina খুললে দেখা যায় সমর্থকের সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার। বেগম জিয়ার কর্মসূচিতে মানুষের ঢল নামে, বাসে-ট্রেনে উঠলে সরকারের তীব্র সমালোচনায় বাতাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, মসজিদে মসজিদে মোনাজাত চলছে দেশ বাঁচাতে। চার বছর পূর্তির উত্সব সরকার পালন করতে পারে না, সরকারপ্রধান জাতিকে নসিহত করার বক্তৃতাও দিতে পারেন না। সবাই জানে, আগামী সংসদ নির্বাচনে জিততে পারবেন না বলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে মেরে ফেলা হয়েছে। একজন সম্পাদক বললেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ যদি জনপ্রিয়তার শীর্ষেই থাকে, তবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন দিয়ে জনমত যাচাই করুক না কেন। সমালোচকদের ভাষায়, সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো অনেকাংশে বিতর্কিত ও পক্ষপাতআশ্রয়ী, সত্য প্রকাশের কুণ্ঠায় জর্জরিত। পড়ন্ত সরকারের পক্ষে একটি মেকি বাস্তবতা তৈরির চেষ্টা। এই ফলাফল থেকে শেখ হাসিনা আপন পাতে ততটুকু ঝোল টেনে নেবেন, যতখানি তার সুস্বাদু লাগে। আরও ফ্যাসিস্ট হওয়ার জন্য টনিক (বলবর্ধক) হিসেবে তা কাজ করবে। দেশে এত খুন-খারাবি, গুম-মহাদুর্নীতি, নির্লজ্জ দলীয়করণ, বিরোধী দল ও মতের এমন নিপীড়ন, রাষ্ট্র পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা এবং সীমান্তে বিএসএফের আগ্রাসন বন্ধে নিষ্ক্রিয়তার পরও কোনো জরিপ যদি শেখ হাসিনার ওপরই আস্থা রাখতে চায়, তবে আর যাই কোথায়।
উপসংহারে বলব, সেদিন শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কারাবন্দী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তি চেয়ে সাঁটানো পোস্টার দেখছিলাম। অকারণে, মিথ্যা মামলায় এই জনপ্রিয় রাজনীতিককে শেখ হাসিনা জেলে আটকে রেখেছেন। একই সময় চোখে পড়ল প্রেস ক্লাবের ফটকগুলোতে র্যাব-পুলিশের বেজায় ভিড়। ক্লাব থেকে বের হওয়া হিজাব ও বোরখা পরা নারীদের গ্রেফতার করছে। তারা কোনো মামলার আসামি নয়, মধ্যবিত্ত মুসলমান নারী। এই আমলে নজিরবিহীনভাবে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ সব সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষই নির্যাতিত হয়েছে। ওই নারীদের অপরাধ তাদের ভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্বাস। কিছুদিন আগে এমনি করে ২১ জন মহিলাকে পুলিশ ‘জঙ্গি পাকড়াও’ স্টাইলে গ্রেফতার করে। নারী ও শিশুদের জামিনের অগ্রাধিকার থাকলেও তারা অবর্ণনীয় কষ্টে জেলে আছেন। আত্মীয়-স্বজনরা তাদের দেখা পান না, ওষুধ দিতে পারেন না। বাসায় এসে শেখ হাসিনার বাবা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, পাকিস্তান আন্দোলনের নিবেদিত সৈনিক ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি খুললাম। ২০৯ পৃষ্ঠায় শেখ মুজিব বলেছেন, ‘রাজনৈতিক কারণে একজনকে বিনা বিচারে বন্দী করে রাখা আর তার আত্মীয়-স্বজন ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখা যে কত বড় জঘন্য কাজ তা কে বুঝবে?’
মুশকিল হলো, তার মেয়েই বুঝতে চান না বা বুঝতে পারেন না। মির্জা আলমগীরের, ওই গ্রেফতারকৃত নারীসহ অসংখ্য আটক এবং রাজবন্দী এবং গুম-খুনে শেষ হওয়াদের পরিবারের বেদনা তাকে কি স্পর্শ করে? সাগর-রুনির সন্তান মেঘের শান্তির জন্য কি প্রকৃত খুনিদের ধরা যায় না? আক্রোশ, বিদ্বেষ এবং একগুঁয়েমির এক কারাগারে শেখ হাসিনা বন্দী। বর্তমানে শেখ হাসিনা মানবিকতার ঊর্ধ্বে। যা বলছেন তাই করছেন এবং করবেনও। তত্ত্বাবধায়ক বিষয়ে ছাড় দিলেই তিনি শেষ—এমন ধারণা তাকে পেয়ে বসেছে। তার হুঁশ ফিরলেই দেশে শান্তি আসবে।