Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

অবৈধ ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
দেশের বিভিন্নস্থানে পরিবেশ নীতিমালা উপেক্ষা করে দেদার গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। এগুলোতে পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। এতে অনেক জায়গায় প্রশাসনের সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে। বিস্তারিত খবর পাঠিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা।
লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর জেলায় দেড়শ’ ইটভাটার মধ্যে প্রায় একশ’ ইটভাটাই অবৈধ। এসব ইটভাটা স্থাপনের আগে মানা হয়নি সরকারের কোনো নীতিমালা। ইট তৈরি হচ্ছে নীতিমালা লঙ্ঘন করে। আর এসব ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ব্যবহার করা হচ্ছে টিনের তৈরি চিমনি। ফলে ইটভাটার পার্শ্ববর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়। অপরদিকে এসব ইটভাটায় পোড়ানো কাঠ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করায় জেলার বনজ সম্পদও উজাড় হয়ে যাচ্ছে। অবৈধ এসব ইটভাটার মালিকরা বাংলাভাটা নামের একটি সমিতি করে চাঁদা তুলে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইট তৈরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চিমনি ইটভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। রাত-দিন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই কাঠ পোড়ানো হলেও প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। উজার হচ্ছে বনাঞ্চল। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পৌর শহরের চাপোড় এলাকায় গড়ে ওঠা এমবিএস ব্রিক ফিক্স চিমনি ভাটা, ভেলাতৈড় গ্রামের মিন্টুর অবৈধ ড্রাম চিমনি ভাটা এবং গোদাগাড়ী এলাকার বেলালের ইটভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। আগে লুকোচুরি করে রাতের বেলায় কাঠ পোড়ানো হলেও এবার দিন-রাত প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। শহরের এক ইটভাটা মালিক জানান, প্রশাসনকে একটি বাজেট দিয়েই এবার তারা কাঠ পোড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাব্বীর আহমদের মতামত চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : কাপ্তাই সীমান্তবর্তী কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া জনবসতি এলাকায় সরকারি অনুমোদনহীন ন্যাশনাল ব্রিক্স এনবিডব্লিউ নামের একটি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। কচি জ্বালানি কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ৩০ ফুটের উচ্চতায় ড্রামের চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার কারণে পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাটায় জ্বালানি কাঠ পোড়ানো প্রতিরোধে স্থানীয় বনবিভাগ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) : বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জের দোয়ারিকা গ্রামে আবারও ফসলি জমিতে নির্মিত হচ্ছে নতুন ৪টি ইটভাটা। এ নিয়ে উপজেলায় ইটভাটার সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টি। ইচ্ছামত ইটভাটা গড়ে ওঠায় প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমিতে কোনো ফসল উত্পাদন হবে না। পরিবেশ অধিদফতর যাচাই-বাছাই না করেই ছাড়পত্র দেয়ায় ইটভাটার সংখ্যা বাড়ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ইটভাটা গড়ে ৬ থেকে ৮ একর করে ফসলি জমি গ্রাস করছে। ফলে একরপ্রতি গড়ে ৭৫ থেকে ৮০ মেট্রিক টন ফসল উত্পাদন কমছে। সেই সঙ্গে হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের দোয়ারিকা পুরনো ফেরিঘাট এলাকায় প্রায় ৫০০ একর কৃষি (ধানি) জমিতে গড়ে উঠছে নতুন নতুন ইটভাটা। এসব ইটভাটার মালিক আশপাশের আবাদি জমির মাটি অবাধে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে কৃষি জমি প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি নামে-বেনামে যৌথভাবে ওই ইটভাটা নির্মাণ করছেন। অপর দিকে উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের মুশুরিয়া গ্রামে ৪ একর কৃষি জমিতে গড়ে উঠছে ড্রাম চিমনির ইটভাটা।
রাউজান (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাউজানে নির্বিচারে পাহাড় কেটে ব্রিকফিল্ডে ইট তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাহাড় কাটা প্রতিরোধে রয়েছে নীরব।
জানা গেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দুর্গম বিন্দাবন এলাকায় তিনটি ব্রিকফিল্ডের জন্য পাহাড় কেটে তৈরি করা হচ্ছে ইট। আর যে এলাকায় পাহাড় কাটা হচ্ছে, সেটি চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সাড়া জাগানো সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট মুনির চৌধুরীর নিজ গ্রামের বাড়ির ৩-৪ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে।
রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) : রৌমারীর সোনাফলানো জমি ভেঙে গড়ে তোলা ইটভাটাগুলোতে এখন পোড়ানো হচ্ছে জীবন্ত গাছের গুঁড়ি। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে আবাদি জমির প্রাণ ধ্বংস করে একের পর এক গড়ে উঠা ইটভাটায় গাছ পোড়ানোর মহোত্সব চলছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। সরকারিভাবে কড়া নির্দেশ রয়েছে আবাদি জমিতে কোনোক্রমেই ইটভাটা করা যাবে না এবং ভাটায় কাঠ পোড়ানো যাবে না। কিন্তু রৌমারী উপজেলার ইটাভাটাগুলোতে তা মানা হচ্ছে না। সরেজমিনে ভাটাগুলো ঘুরে প্রতি ভাটায় অবাধে কাঠপোড়ানোর চিত্র পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে রৌমারী উপজেলার ভাটাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র ১৯৭ বর্গকিলোমিটার রৌমারী উপজেলায় রয়েছে ৭টি ইটভাটা।
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) : পার্বত্য এলাকায় ইটভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক ইটভাটা তৈরির সুপারিশ প্রক্রিয়াধীন থাকলেও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অনুমোদন ছাড়াই পাহাড় কর্তন ও বনজ কাঠ পোড়ানোর মাধ্যমে ইটভাটা গড়ে তুলে কার্যক্রম অর্ধেক শেষ করেছে প্রভাবশালী মালিকপক্ষ। পরিবেশ অধিদফতরের কোনো ধরনের ছাড়পত্রবিহীন এসব ইটভাটা তৈরি করলেও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বাধাপ্রদান করেনি। ফলে ঝুলিয়ে থাকা আদেশের কারণে পরিবেশ ধ্বংস করে চলতি বছর ব্যবসায়িকভাবে মোটাতাজা হচ্ছে ইটভাটার মালিকপক্ষ। এতে এলাকার পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।