Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২৪ পৌষ ১৪১৯, ২৪ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

গায়ে হলুদের আয়োজন

তারেক হায়দার
পরের সংবাদ»
বিয়ে উত্সবের সূচনা গায়ে হলুদ। গায়ে হলুদে হলুদ রঙের ভূমিকা প্রধান, কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রঙেরও পরিবর্তন ঘটেছে। এখন গায়ে হলুদ বলতে বাহারি রঙের ছড়াছড়ি, ইচ্ছামত রঙের ব্যবহার—হলুদ, সাদা, লাল, কমলা, বেগুনি; কিন্তু গায়ে হলুদে হলুদ রঙের প্রাধান্য থাকে বেশি। গায়ে হলুদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, পুরনো দিনের সাজ, পুরনো দিনের লোকদের চরিত্র ফুটিয়ে তোলা। একটা সময় ছিল গায়ে হলুদ বলতে মেয়েদের হলুদ শাড়ির লাল পাড় এবং ছেলেদের সাদা পাঞ্জাবিকে বোঝাত। মেয়েরা গায়ে হলুদে টাঙ্গাইলের তঁতের শাড়ি, জামদানি, কাতান শাড়ি বেশি পছন্দ করে। আর ছেলেরা রঙবেরঙের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট পছন্দ করে। বর্তমানে সবাই হলুদের সাজটা একটু ভিন্ন আমেজেই সারতে চায়।
গায়ে হলুদে পাঠানো হয় ডালা, কুলা, মিষ্টি, পান-সুপারি, মাছ ও পরিবারের বৃদ্ধদের কাপড়। গায়ে হলুদের মাছ সাজানো হয় বর-কনের মতো; একটি মাছকে বর এবং অন্যটিকে কনের মতো করে সাজানো হয়। গায়ে হলুদের পোশাক কেমন হবে, তার ওপর ভিত্তি করে হলুদের কুলা-ডালা সাজানো হয়। গায়ে হলুদের শাড়িটাকে ঘোমটা দেয়া কনের মতো সাজানো হয়। গায়ে হলুদের মাছের ও পোশাকের ডালা সেলোফেন পেপার এবং নানা রঙের নেটের কাপড় পেঁচিয়ে চারপাশে সোনালি রঙের ফিতা দিয়ে বেঁধে সাজানো হয়। বরের ডালায় গায়ে হলুদে বরের যা যা প্রয়োজন সব দেয়া হয়—বরের পোশাক, জুতা, টুপি, সুগন্ধি ইত্যাদি। গায়ে হলুদের ডালা সাজানোর দায়িত্ব সাধারণত পরিবারের লোকেরাই পালন করে থাকে। বর্তমানে সুন্দর করে সাজানোর জন্য ডিজাইনারকে ডাকা হয়।
গায়ে হলুদে ডালার সরঞ্জাম কোথা থেকে কিনবেন? ঢাকার পাইকারি বাজার চকবাজার থেকে গায়ে হলুদের সরঞ্জাম কিনতে পারেন; তাছাড়া নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি ও এলিফ্যান্ট রোডে বিয়ের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, এমন দোকান থেকেও কিনতে পারেন।
এই গায়ে হলুদের ডালা নিয়ে বরপক্ষের লোকেরা কনেপক্ষের বাসায় যান কনেকে হলুদ, মেহেদি ও আলতা লাগানোর জন্য। আর কনেপক্ষের লোকেরা বরকে হলুদ-মেহেদি লাগানোর জন্য বরের বাসায় যান। এই ঐতিহ্য বহু বছর থেকে চলে আসছে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায়, বর-কনের হলুদ এক দিনে একসঙ্গে করা হয়। এতে হলুদের খরচটা কমে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠান তাড়াতাড়ি শেষ হয়। পুরনো ঢাকার লোকেরা গায়ে হলুদে কোনো আপস করেন না। বরপক্ষ ও কনেপক্ষ আলাদাভাবে হলুদের অনুষ্ঠান করেন। অনেক সময় দেখা যায়, বিয়ে থেকে হলুদের খরচ বেশি হয়।
হলুদে কনের গহনা : আমাদের ঐতিহ্য হচ্ছে নানা ফুল দিয়ে হলুদে কনেকে সাজানো, কিন্তু বর্তমানে ফুলের বদলে পুঁতির মালা ও কাপড়ের ফুলের গহনা দিয়ে সাজানো হয়। একটা সময় ছিল গায়ে হলুদ মানে কনের গায়ে গাঁদা ফুলের অলঙ্কার। বর্তমান সময়ে গাঁদা ফুলের সঙ্গে অন্যান্য ফুলও ভাগ বসিয়েছে। অনেকের মতে, কাপড়ের ফুল ব্যবহার করার কারণ হচ্ছে, কনের শাড়ির সঙ্গে মিল রেখে তা করা হয়। এখন গায়ে হলুদ মানে ছিমছাম গয়না। গায়ে হলুদটা হচ্ছে আনন্দের সূচনা, তাই সাজটাও হতে হবে সূচনার মতো। গায়ে হলুদের জন্য কনের পার্লারের কাজে আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া ভালো। বিয়ের ১৫ দিন আগে কনের ফেসিয়াল, ফেয়ার পলিশ, ওয়্যাক্সিং করিয়ে নেয়া ভালো।
গায়ে হলুদে ছেলের জন্য সবচেয়ে সেরা সাজ হচ্ছে পাঞ্জাবি। আপনার পাঞ্জাবি সুতি, খাদি—যে কোনো কাপড়ের হতে পারে। তবে পাঞ্জাবির রঙ উজ্জ্বল হলে ভালো। সাধারণত দেখা যায়, ছেলেরা পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে আমাদের ঐতিহ্যকে লক্ষ করে এবং ছেলের পাঞ্জাবির রঙটা মেয়ের শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে ভালো হয়। পাঞ্জাবির সঙ্গে সাদা চুড়িদারে বরকে মানাবে। বর গায়ে হলুদের দিন চামড়ার চটি পড়লে মানাবে। গায়ে হলুদের স্টেজ কেমন হবে? গায়ে হলুদের ক্ষেত্রে থিমের ওপর প্রাধান্য দেয়া হয়। হলুদের থিম কেমন হবে? মোগল, মিসরীয়, গ্রামবাংলা ইত্যাদি।
গায়ে হলুদের আপ্যায়ন : গায়ে হলুদে কী দিয়ে আপ্যায়ন করবেন? গায়ে হলুদের আপ্যায়নে কাচ্চি বিরানি বা চিকেন বিরানির সঙ্গে টিকিয়া কাবাব দিতে পারেন। খাবারের শেষে ফিরনি বা মিষ্টির ব্যবস্থা রাখতে পারেন। গায়ে হলুদে বর ও কনের সামনে নানা পদের ফল ও ফল দিয়ে তৈরি ডিজাইন করে সাজানো বিভিন্ন আইটেম রাখা হয়। মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় নানা পদ ও পিঠা রাখা হয়।
গায়ে হলুদের আপ্যায়নের সবচেয়ে পুরনো রেওয়াজ হচ্ছে পান। পান খেয়ে ঠোঁট লাল করার রেওয়াজ রয়েছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে ৪ নম্বর রোডে বাহারি পানের দোকান রয়েছে। ইসলামপুর ও মিরপুর ১১ নম্বরে পানের দোকান রয়েছে। ওখান থেকে পান কিনতে পারেন। পানের মূল্য ২০ থেকে ২০০ টাকা। গায়ে হলুদের অন্যতম রেওয়াজ হচ্ছে মিষ্টি পরিবেশন। অনেকে শীতকালে গায়ে হলুদে পিঠা কিনতে পারেন গুলিস্তানের পিঠাঘর এবং বংশালের দিলুর পিঠাঘর থেকে।
গায়ে হলুদের সঙ্গীত : গায়ে হলুদের বিখ্যাত ও সবচেয়ে পরিচিত সঙ্গীত হচ্ছে, ‘হলুদ বাটো, মেন্দি বাটো, বাটো ফুলের মৌ...।’ তাছাড়া অন্যান্য সঙ্গীতও রয়েছে গায়ে হলুদে উপস্থাপন করার জন্য।
গায়ে হলুদে আলোকসজ্জা : গায়ে হলুদের আলোকসজ্জার জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে মগবাজারের সিরাজ ইলেকট্রিক, আরমানিটোলার বিয়াই ইলেকট্রিক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে।
ছবি : ইন্টারনেট