Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রাজধানীতে মৃত্যুঘড়ি উন্মোচন

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
রাজধানীতে মৃত্যুঘড়ি উন্মোচন হয়েছে। প্রতিদিন তামাকজনিত কারণে কত লোক মৃত্যুবরণ করছে এ তথ্য জানিয়ে দেবে এই ঘড়ি। গতকাল রাজধানীর বিজয় সরণির মোড়ে এ মৃত্যুঘড়ির উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ধূমপানবিরোধী সংগঠন ‘প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)’ এ ঘড়িটি স্থাপন করেছে।
প্রজ্ঞার চেয়ারম্যান সাইদ বদরুল করিম জানান, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রতিদিন ১৫৬ জন মানুষ ধূমপানের কারণে মারা যায়। ধূমপানের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে এ ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছে। তামাকজনিত ব্যাপক মৃত্যু রুখতে আগামী সংসদ অধিবেশনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী পাশ করার লক্ষ্যে নীতিনির্ধারণী মহলকে প্রভাবিত ও জনমত সৃষ্টি করতে প্রজ্ঞা মৃত্যুঘড়িটি স্থাপন করা হয়। ঘড়িটি প্রতিনিয়ত আপডেট করবে তামাকের কারণে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সংখ্যা। প্রতি ৯ দশমিক ১৩ সেকেন্ড পর এর কাঁটা একটি করে সংখ্যা পরিবর্তন করবে। এর মাধ্যমে দিনে ১৫৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি বোঝানো হবে। এ ঘড়িটি গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। মৃত্যুঘড়ি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী আগামী সংসদ অধিবেশনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনও তামাকজাত দ্রব্যের দাম কম। এর দাম বাড়িয়ে ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার থেকে মানুষকে নিরুত্সাহিত করতে হবে। তামাকের ওপর শুল্ক সরকারের রাজস্ব আদায়ের বড় উত্স হলেও এ টাকা দিয়ে সরকারের বড় লোক হওয়ার ইচ্ছা নেই।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, পৃথিবীতে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর সর্ববৃহত্ কারণ তামাক সেবন। বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। বাংলাদেশে ৪ কোটির অধিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন। তামাক ব্যবহারের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০ বত্সর এর বেশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫৭ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন এবং ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন। অর্থাত্ প্রতিদিন ঝরে পড়ে ১৫৬টি প্রাণ। বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি আরও শক্তিশালী করতে গত ২০১২ সালের ২৭ আগস্ট মন্ত্রিসভা ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধনী) আইন, ২০১২’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয়। এরই মধ্যে পেড়িয়ে গেছে ১৩১ দিন। আর ঝরে পড়েছে ২০ সহস্রাধিক মানুষের প্রাণ।
অনুষ্ঠানে মৃত্যু ঘড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন ক্যাম্পেইন ফর টোবাক্যো ফ্রি কিডস্ এর এডভোকেসি এন্ড মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর তাইফুর রহমান। এবিসি রেডিওর সিনিয়র রিপোর্টার শাহনাজ শারমিনের সঞ্চালনায় মৃত্যুঘড়ি উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দ্য ইউনিয়নের টেকনিক্যাল এডভাইজার ইশরাত চৌধুরী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রজেক্ট ম্যানেজার আমিন উল আহসান, ডাক্তারদের তামাকবিরোধী সংগঠন উফাত (ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনস্ট টোব্যাকো) এর সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগী অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরী, এন্টি টোবাক্যো মিডিয়া এলায়েন্স আত্মা’র আহ্বায়ক রুহুল আমিন রুশদ এবং সহ-আহায়ক নাদিরা কিরণ, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের সহকারী পরিচালক ইকবাল মাসুদ প্রমুখ। আসন্ন শীতকালীন সংসদ অধিবেশনের পুরো সময়জুড়েই চলতে থাকবে এই মৃত্যুঘড়ি।