সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩৫ করা না হলে দেশ অচলের হুমকি শিক্ষার্থীদের

স্টাফ রিপোর্টার « আগের সংবাদ
পরের সংবাদ» ০৫ জানুয়ারী ২০১৩, ১৩:৫৮ অপরাহ্ন

সরকারি চাকরির বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে গতকাল দুপুরে শাহবাগ মোড়ে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে দাবি না মানলে লাগাতার আন্দোলনে দেশ অচল করে দেয়ার হুমকিও দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের ব্যানারে সকাল ১১টায় বিক্ষুব্ধরা নিজেদের দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে শাহবাগে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা, জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ শিক্ষার্থীদের ব্যানারেও বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
একই সঙ্গে ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার সার্কুলেশন ঘোষণার আগেই বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার জোর দাবি জানায় তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষুব্ধরা রাজপথ ত্যাগ করবে না বলেও হুমকি দেয়।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ৩০ ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং নাতি-নাতনির ক্ষেত্রে ৩২ বছর।
বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সেশনজটসহ বিভিন্ন কারণে আমাদের দেশে একজন শিক্ষার্থীকে মাস্টার্স শেষ করতে তার বয়স ২৮ থেকে ২৯ বছর হয়ে যায়। সেখানে বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে আবেদনের শেষ সময়সীমা ৩০ রাখাটা অযৌক্তিক ও নিষ্পেষণের নামান্তর। এটা বাড়িয়ে ৩৫ করতে হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করা মো. আল-আমিন রাজু বলেন, এটা রাষ্ট্র কর্তৃক বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের অফিস-আদালতে গেলে বুড়ো লোক ছাড়া আর কিছুই পাবেন না। দেশকে সেবা করার মতো স্টামিনা এদের নেই বললেই চলে। উন্নতি হবে কীভাবে? কিন্তু যুবকরা চাকরি না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। সমস্যা সমাধানে চাকরির বয়স বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় দেখি না।
ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী পারভীন সীমা বলেছে, একটি শোষণমূলক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র আমাদের মেধা দেখানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে যাচ্ছে। ২৯ বছরের আগে আমরা মাস্টার্স শেষ করতে পারি না। সে ক্ষেত্রে ৩০ বছরের মধ্যে সরকারি চাকরিতে কীভাবে ঢুকব। বয়স বাড়িয়ে আমাদের দেশ সেবার সুযোগ দেয়া হোক।
বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম, আইয়ুব আলী, রাজু আহমেদ, মিনহাজ তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সুজনসহ ঢাকার বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
বিক্ষোভ সমাবেশে জানানো হয়, এ দাবির পক্ষে বিক্ষুব্ধরা এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। একই দাবিতে এর আগে ১৪টি বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে। এটা তাদের ১৫তম সমাবেশ। এবার দাবি না মানলে তারা লাগাতার আন্দোলনে যাবে বলেও হুমকি দেয়।

শেষের পাতা এর আরও সংবাদ

সাপ্তাহিকী


উপরে

X