Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আজ শেষ হচ্ছে রিহ্যাব মেলা : ফ্ল্যাটের চাইতে প্লটে বেশি আগ্রহ ক্রেতাদের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
রাজধানীতে ভাড়াবাসায় থাকেন অথচ তিক্ত অভিজ্ঞতা নেই এমন লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম। জিনিসপত্রে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়ার দরজায় এসে হানা দেয়। অতিরিক্ত ভাড়ার আশায় নোটিশ ছাড়া পুরনো ভাড়াটেকে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলা হয়। রাত করে বাসায় আসা যাবে না, অতিথি থাকা নিষেধ, এমন অনেক কড়া নিয়ম মেনে মালিকের রাজ্যে বসবাস করতে হয় ভাড়াটিয়াদের। একটু নিশ্চিন্তে, ঝামেলাহীন বসবাসের জন্য নিজের ছাদের নিচে থাকতে মানুষের প্রত্যাশা। আর সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে আয়োজন করা হয়েছে পাঁচদিনের রিহ্যাব শীতকালীন আবাসন মেলা। আবাসন খাতের উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের বৃহত্ মিলনমেলা আজ শেষ হতে যাচ্ছে।
গতকাল ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণ ছিল জনাকীর্ণ। দর্শনার্থীরা মেলায় এসে একের পর এক স্টল পরিদর্শন করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি কয়েকটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার কারণে প্লট এবং ফ্ল্যাট সম্পর্কে ক্রেতাদের জিজ্ঞাসা অনেক বেশি। এ বিষয়টি বিবেচনা করে বিক্রেতারাও সরল পথে হাঁটছেন। তারা এখন চমকপ্রদ বিভিন্ন অফারে ক্রেতাদের জর্জরিত করতে চান না। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় অনেকটা বাস্তবভিত্তিক অফার দেয়া হচ্ছে।
গতকাল মেলা পরিদর্শন করে দেখা যায়, ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের চেয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি প্লটের দিকে। গ্যাস ও বিদ্যুত্ সঙ্কটের কারণে প্রায় ২০ হাজার ফ্ল্যাট বিক্রয় হলেও হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। মূল্য পরিশোধ করেও গ্রাহকরা অতিরিক্ত পয়সা খরচ করে ভাড়া বাড়িতে থাকছেন। নতুন যারা বাড়ি কিনতে চান তারাও এ বিষয়টি অবহিত। এ অবস্থায় ফ্ল্যাট না কিনে প্লটের দিকেই ঝুঁকছেন তারা।
সম্প্রতি যৌথ উদ্যোগে প্লট কেনার প্রবণতা বেড়ে গেছে। গতকাল রিহ্যাব মেলায় দেখা গেছে, তিনজন বা চারজনের ছোট ছোট দল স্টল থেকে স্টলে ছুটে চলেছে। এমন একটা দলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা যৌথ উদ্যোগে প্লট কেনার চিন্তা-ভাবনা করছেন। দলে রয়েছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা শরিফুল হাসান ও তার বন্ধু জুবায়ের আহমদ। তারা বলেন, সম্প্রতি জমির দাম আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় এককভাবে জমির দাম পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানী ঢাকায় একটি বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। স্বপ্ন পূরণ করতে তারা যৌথভাবে প্লট বুকিং দেবেন। কিস্তির টাকাও পরিশোধ করবেন সমান হারে। কোম্পানির কাছ থেকে জমির দখল পেলে তারা যৌথ উদ্যোগে বাড়ি নির্মাণ করবেন। এক্ষেত্রে কোনো ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এভাবেই রাজধানী শহরে বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন চার তরুণ।
গতকাল মেলায় ছিল অগণিত মানুষের উপস্থিতি। তাদের চোখেমুখে তখন ভাসমান আনন্দের ঝিলিক যেন এ আভাস দিচ্ছিল, তাদের অনেক দিনের লালিত স্বপ্ন সত্য হচ্ছে। আর তাদের স্বপ্নটা ঢাকার প্রাণকেন্দ্র কিংবা এর আশপাশে নিজেদের একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাটের। তারা স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে বাড়ি, প্লট কিনতে বুকিং দিচ্ছিলেন। আর এতে যেন স্বপ্নের বাড়িটা অনেকটাই চলে এসেছে তাদের সাধ্যের নাগালে। গতকাল একই রকম ভিড় ছিল মেলায় মিশন ডেভেলপার, মেট্রো হোমস, তানশির সিটি, নাভানা রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে।
আবাসন মেলার শেষ পর্যায়েও বেচাকেনা জমে ওঠেনি। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে আসায় প্রত্যাশিত হারে বেচাকেনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তরা। তা ছাড়া আবাসন খাতে গ্রাহকদের জন্য কোনো ঋণের ব্যবস্থাও নেই। উদ্যোক্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি হাউজ লোন ছিল সেটা ৭৫০ কোটি টাকা দেয়ার পর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এ খাতের মন্দা দূর করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
২ জানুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলানগরে রিহ্যাবের শীতকালীন আবাসন মেলা শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলে। প্রথম দুইদিন মেলা তেমন না জমলেও তৃতীয় দিনে প্রচুর দর্শনার্থী আসে। গতকাল মেলার চতুর্থ দিনে প্রচুর দর্শনার্থী আসে। আজ শেষ হতে যাচ্ছে রিহ্যাবের শীতকালীন মেলার কার্যক্রম।
রিহ্যাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া রানা বলেন, আবাসন খাতে কোনো ঋণ দেয়া হচ্ছে না। অর্থের সরবরাহ কমে আসায় মেলায় ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।