Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সাভারে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ : গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে রিমান্ডে থাকা ৪ আসামি আটক আরও এক

সাভার প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
সাভারে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও ভিডিও চিত্র ধারণের ঘটনায় শুক্রবার রাতে আরও এক যুবককে আটক করেছে সাভার থানা পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার আটক ধর্ষিতার বান্ধবীসহ চারজনকে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ঘটনার মূল নায়ক ও সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলামকে (রাজু) গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই মুহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, নির্যাতিত শিক্ষার্থীর মা মামলাটি দায়ের করার পর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের পাঁচটি টিম পৃথকভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। আটক করাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে শুক্রবার গভীর রাতে সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আসামি ওয়াশিমকে গ্রেফতার করা হয়। ওয়াশিমের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এবং সে জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে গত বছর এইচএসসি পাস করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ পুলিশ কর্মকর্তা নির্যাতিত ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠী এবং ধর্ষকদের সহযোগী মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার কাংসা গ্রাম থেকে সূচি ওরফে লিজাকে ও সিংগাইর কলেজ মাঠে যাত্রা অনুষ্ঠান চলাকালে যাত্রানুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক দানেশকে গ্রেফতার করে। দানেশ সিংগাইর উপজেলার আজিমপুর গ্রামের নুরু কুলুর ছেলে। পুলিশের অপর একটি টিম সাভারের ব্যাংক কলোনির এএম রহমান হাউসের নিচতলার একটি কক্ষ থেকে আসামি মহিদুর রহমান ও সন্দেহজনক আসামি রায়হানকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে রায়হান ঢাকার শান্তা মারিয়ম ইউনিভার্সিটির অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। আর মহিদুর রহমান সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মানবিক বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার চান্দহর এলাকার মানিকনগর গ্রামের নিজামউদ্দিনের ছেলে। আটক সূচি ওরফে লিজা সিংগাইর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করে।
মামলার প্রধান আসামি এবং একমাত্র ধর্ষণকারীর নাম জাহিদুল ইসলাম (রাজু) সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। সে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার কাকচিরা এলাকার খাসতবক গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। দায়ের করা মামলায় মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দু’জনের সংশ্লিষ্টতার কথা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলো সিংগাইর উপজেলার আজিমপুর এলাকার শাহিন, একই উপজেলার কাংসা এলাকার শামীম, লুত্ফর, সুজন আলীম ও মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা আরও দু’জন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই মুহাম্মদ আশরাফুল আলম আরও জানান, গত বছর ২৫ নভেম্বর সিংগাইর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ১ম বর্ষের ছাত্রী সূচি ওরফে লিজা তার সহপাঠী বান্ধবীকে (১৮) কলেজে পরীক্ষা আছে বলে সিংগাইরের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসে। পরে পথিমধ্যে লিজা তার ফুফুর অসুস্থতার কথা বলে বান্ধবীকে বেলা দেড়টার দিকে সাভারের ব্যাংক কলোনি ছাপড়া মসজিদের পাশের এসএম রহমান হাউসের ৫ম তলা বিশিষ্ট বাড়ির নিচ তলায় ব্যাচেলর ম্যাচে নিয়ে যায়। এরপর লিজা তার বান্ধবীকে ওই ম্যাচের একটি কক্ষে ঢুকিয়ে দিয়ে চলে যায়। এ সময় ওই রুমের মধ্যে ১০/১২ যুবক অবস্থান করছিল। এরপর কম্পিউটারে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে জাহিদুল ইসলাম (রাজু) ও শাহীন ছাড়া অন্যরা রুম থেকে বের হয়ে যায়। পরে হত্যার হুমকি দিয়ে জাহিদুল ইসলাম ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে এবং শাহীন একটি ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে ওই ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে। পরে ঘটনাটি কাউকে জানালে বা থানা পুলিশকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বেলা ৩টার দিকে জাহিদুল, শাহীন ও শামীম একটি রিকশাযোগে তাকে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে গিয়ে একটি বাসে তুলে দেয়। ঘটনার সপ্তাহখানেক পর অপর আসামি দানেশ ওই শিক্ষার্থীর মাকে ফোন করে তার ভাগিনা জাহিদুল ইসলাম রাজুকে দিয়ে ধর্ষণ দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করার কথা জানায় এবং মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে। দানেশ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে। পরে তিনি মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন। স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটির নিস্পত্তির আশ্বাসে মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো বিচার না পেয়ে ওই শিক্ষার্থীর মা বৃহস্পতিবার সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, সংশোধনীয় ২০০৩-এর ৯(১)/৩০ ধারায় ধর্ষণ ও সহায়তা করার অপরাধে একটি মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার রাতভর সাভার মডেল থানা পুলিশ সাভার ও মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেফতার করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে শুক্রবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে পাঠায়। আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এদিকে সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের হিসাব বিজ্ঞান সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম ওরফে রাজুকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে রোববার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মহিদুল রহমানকে আজীবন বহিষ্কার করতে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করা হবে। এদের মধ্যে মহিদুল গ্রেফতার এবং জাহিদ পলাতক রয়েছে।
এদিকে গতকাল সাভার থানায় ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আহমেদ রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আসামিরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মশিউদ্দৌলা রেজা জানান, ধর্ষণ ঘটনার আসল নায়ককে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতার করাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।