Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দুই দলের মধ্যে সংলাপ হবেই : মজীনা

কূটনৈতিক রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেছেন, দুই দলের মধ্যে সংলাপ হবেই। বাংলাদেশকে অবশ্যই গণতন্ত্রের পথেই থাকতে হবে। অতীতে অন্য পদ্ধতিতে সরকার পরিচালনায় ফল ভালো হয়নি। গণতন্ত্রের স্বার্থেই আগামী নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।
হরতালের ব্যাপারে মার্কিন বিরোধিতার কথা টেনে তিনি বলেন, আমি হরতাল ঘৃণা করি। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের হরতালের বিকল্প পদ্ধতি খুঁজে নিতে আহ্বান জানাই।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসব মন্তব্য করেন।
গতকাল সকালে আমেরিকান ক্লাবে ইউএস-বাংলাদেশ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সেমিনারে উদ্বোধনী অধিবেশনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
যুক্তরাষ্ট্র্র সংলাপের কথা বলছে। অথচ নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে এ নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবির পরস্পরবিরোধী অবস্থানে। এ পরিস্থিতিতে সংলাপের সম্ভাবনাটা কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রকৃতিগতভাবেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র রয়েছে। এখানকার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সুদৃঢ়। বাংলাদেশে অন্য পদ্ধতির সরকার পরিচালনার চেষ্টা হয়েছে। এ ইতিহাস আমার মতো, আপনাদেরও জানা আছে। কিন্তু সেসব চেষ্টা সফল হয়নি। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হলে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। আর অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থেই কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছতে হবে। তাই আমি আশাবাদী, এ ব্যাপারে ইতিবাচক সংলাপ হবেই।
সংলাপ কি আদৌ হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মজীনা বলেন, এরই মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি হয়তো আপনি জানেন না, কিংবা আমিও জানি না। তবে আমার বিশ্বাস অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে তা নিয়ে লোকজন কথা বলতে শুরু করেছেন। আর এভাবেই হয়তো বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে টেকসই করার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
রোববার ১৮ দল হরতাল ডেকেছে, আগামীতেও আরও হরতাল হবে। এ পরিস্থিতিতে কি ভাবছেন, জানতে চাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি আশা করব আগামীতে আরও হরতাল হওয়ার যে কথাটি বলছেন সেটি ভুল প্রমাণিত হবে। কারণ আমি হরতাল ঘৃণা করি। আমি গণতন্ত্র ভালবাসি। গণতন্ত্রে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করে। আমি এটির প্রশংসা করি। তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত। মত প্রকাশের স্বাধীনতা এমন হওয়া উচিত তা যেন মানুষের জীবিকাকে হুমকির মুখে ঠেলে না দেয়।
হরতালের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, হরতাল অনেক মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ হরতাল হলে ওইদিন খাবারের সংস্থান করাটা খেটে খাওয়া মানুষের জন্য দুরূহ হয়ে পড়ে। তাই সব রাজনীতিবিদের প্রতি আমার অনুরোধ হরতালের বিকল্প হিসেবে তারা এমন পথ খুঁজে বের করবেন, যাতে মানুষের জীবন হুমকির মুখে না পড়ে।