Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নিয়ম ভেঙে দশ এমপিকে গাড়ি কেনার ঋণ দিয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক

আসাদুল্লাহিল গালিব
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুসহ ১০ সংসদ সদস্য (এমপি) নিয়ম ভেঙে কার লোন নিয়েছেন। বেসরকারি খাতের মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে এ ঋণ নেয়া হয়েছে। এতে কার লোন প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ-মার্জিন অনুপাত ৩০:৭০ অনুসরণ করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ অনুমতি নিয়ে এমপিরা এ ঋণ পেয়েছেন। তবে অন্য গ্রাহকের ক্ষেত্রে নিয়ম যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।
শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধার পর এবার সেই গাড়ি কেনার জন্য মার্জিন ভেঙে ঋণ সুবিধা পেয়েছেন সংসদ সদস্যরা। বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগতভাবে সংসদ সদস্যদের এ সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার ও বিরোধী উভয় দলের এমপিরা এরই মধ্যে এ সুবিধা গ্রহণ করে গাড়ি ক্রয় করেছেন। মার্কেন্টাইল ব্যাংক এ সুবিধা দেয়ার জন্য বিশেষ স্কিম চালু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতির বিরোধিতা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান আমার দেশকে বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ‘বিশেষ অনুমতি’র সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যে সংস্কৃতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক এমপিদের গাড়ি ক্রয়ের অনুমতি দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে অনেক আইন রয়েছে, তবে তা মানার লোকের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে যারা ক্ষমতাবান তারা নিয়ম মানে না। দেশের এমপি-মন্ত্রীরা নিয়ম ভঙ্গ করলে নৈতিকতা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? তিনি আরও বলেন, সমাজের বহু ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ করা হচ্ছে। এটার মধ্যে সুশাসনের সুস্পষ্ট অনুপস্থিতি রয়েছে, যা কুশাসনকে উত্সাহিত করছে।
সূত্র জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিংয়ের ওপর শক্তিশালী এক নির্দেশনা জারি করে। এতে মোটরকার লোনসহ অন্য সব ধরনের ভোক্তা ঋণে ঋণ-মার্জিন অনুপাত ৩০ : ৭০ অনুসরণ করার কথা বলা হয়। অর্থাত্ এক কোটি টাকার গাড়ি ক্রয় করতে ব্যাংক ৩০ লাখ ও গ্রাহক ৭০ লাখ টাকা প্রদান করবে।
তবে শুধু সংসদ সদস্যদের জন্য মার্কেন্টাইল ব্যাংক চালু করেছে বিশেষ স্কিম ‘স্পেশাল কার লোন স্কিম-২০১০’। এ স্কিমের অধীনে মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে ২০ লাখ টাকা করে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। এ স্কিমের অধীনে এরই মধ্যে ২২৫ সংসদ সদস্য ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংক এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪৫ কোটি টাকা প্রদান করেছে এ স্কিমে, যার সবশেষ স্থিতি রয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। সংসদ সদস্যদের ভাতার অংশ থেকে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এ ঋণ শোধ করা হচ্ছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১০ সংসদ সদস্যকে ঋণ দিতে গিয়ে মার্জিন ভাঙা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদনও করেছে।
জানা গেছে, পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, হোসেন মকবুল শাহরিয়ার, শামসুল হক টুকু, বেবি মওদুদ, শেখ আবদুল ওহাব, তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস, মো. মাহবুবুর রহমান, ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী, ফজিলাতুন্নেসা ও বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়ার গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হয়েছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংক তাদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন চাইলে এসব সংসদ সদস্যদের প্রত্যেককে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করার অনুমোদন দেয়া হয়। তবে এর মধ্যে হোসেন মকবুল শাহরিয়ার অনুমোদন পেলেও তিনি মার্জিন ভেঙে গাড়ি ক্রয় করেননি। এ কে খন্দকার, ফজিলাতুন্নেসা ও শেখ আবুল ওহাবের গাড়ির দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক প্রদান করে ২০ লাখ টাকা। বেবি মওদুদ ও শেখ আবদুল ওহাবের গাড়ির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস এমপি আমার দেশকে বলেন, আমি মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি, যা ছয় কিস্তিতে পরিশোধ করে দেব। ব্যাংকের কী নিয়ম রয়েছে, তা আমি জানি না। গাড়ি কেনার জন্য ব্যাংক যা যা বলেছে, তা-ই করেছি। কোনো অনিয়ম করলে ব্যাংক করেছে। তিনি জানান, তার গাড়ির মূল্য ৪৮ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী তালুকদার মোহাম্মাদ ইউনুসের সর্বোচ্চ ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা কার লোন পাওয়ার কথা। এছাড়া কোনো কোনো সংসদ সদস্যকে শত ভাগ কার লোন দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যারা জনপ্রতিনিধি তাদের জন্য আলাদাভাবে বিশেষ কোনো সুবিধা থাকা উচিত নয়। নৈতিক অবস্থান থেকে এরকম কোনো সুবিধা নেয়া ঠিক নয়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করা হয়। গাড়ি যেহেতু আমরা আমদানি করে থাকি, তাই ঋণ-মার্জিনের অনুপাত নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। মূলত এসব পণ্য ক্রয়ে নিরুত্সাহিত করতেই এ নিয়ম করা হয়েছে। তবে বিশেষ বিবেচনায় এমপিদের গাড়ি ক্রয়ে মার্জিন অনুসরণ করা হয়নি। এটা খুব একটা দোষের কিছু নয়।
সূত্র মতে, মার্কেন্টাইল ব্যাংক বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের কার লোন দিয়ে থাকে। রিকন্ডিশন গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ এবং নতুন ব্র্যান্ডের জন্য ২০ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়। তবে শুল্কমুক্ত গাড়ি ক্রয়েও ব্যাংকটি এমপিদের ২০ লাখ টাকা করে ঋণ দিয়েছে।