Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সীমান্তহত্যায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফাই গাইলেও প্রতিবাদ করলেন মমতা

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ‘আত্মরক্ষার প্রয়োজনে’ সীমান্তে গুলি চালানোর অনুমতি দিয়ে এলেও বিএসএফের বর্বরতার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
বর্বর বিএসএফ শুধু নির্বিচারে নিরপরাধ বাংলাদেশীদেরই হত্যা করে করে না, মূলত ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে অনেক ভারতীয় নাগরিকও এই বাহিনীর হাতে মারা যায়। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের হিসাবে, ২০১২ সালে বিসএফের হাতে অন্তত ৪৮ বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে এই সময়ে বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, বিএসএফের গুলিতে পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে তা বন্ধের দাবিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি প্রতিবাদপত্র পাঠাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফকে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এবং এই বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ জানাবেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে রয়েছে বিএসএফ।
নতুন বছরের প্রথম দু’দিনে বিএসএফের গুলিতে চার বাংলাদেশী নিহত হওয়ার পর গত বুধবার সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, তার ভারত সফরে কেবল ‘আত্মরক্ষার প্রয়োজনে’ দুই সীমান্ত বাহিনীকে গুলি করার বিষয়ে নীতিগতভাবে মতৈক্য হয়েছে। তার ভাষায়, ‘গত মাসে ভারতে গিয়ে সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে একমত হয়েছি।’ তিনি একই সঙ্গে বলেন, ‘কোনো পক্ষ থেকেই গুলি চালাবে না, যদি না আত্মরক্ষার প্রয়োজন হয়।’
তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান গত বৃহস্পতিবার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, বিএসএফের হাতে নিরস্ত্র বাংলাদেশীরাই নিহত হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দু’দেশের সীমান্তরক্ষীদের গুলি চালানোর ব্যাপারে একমত হলেও একের পর এক নিরীহ বাংলাদেশী মারা যাচ্ছে শুধুই বিএসএফের গুলিতে। বিজিবির গুলিতে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা একেবারেই বিরল।
সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামিয়ে আনা হবে বলে ভারত বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরিসংখ্যান বলছে সাম্প্রতিক সময়ে হতাহতের ঘটনা বেড়েই চলেছে। আওয়ামী লীগ ঘেঁষা মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র গত ৩১ ডিসেম্বর জানায়, ২০১২ সালে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ৩১৯টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১৫৫টি। ২০১২ সালে ৪৮ জন নিহত হওয়া ছাড়াও ১০৬ জন আহত এবং ১৪০ জন অপহৃত হন বলে মানবাধিকার সংগঠনটি জানায়।
বিদায়ী বছরে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি হাতবোমা নিক্ষেপ, ঘরে ঢুকে নির্যাতন, গাছে ঝুলিয়ে পেটানো, বেয়নেটে খুঁচিয়ে জখম, হাত-পা ভেঙে দেয়া, উলঙ্গ করে পেটানো, কুপিয়ে হত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়ে বিএসএফ নির্যাতনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মন্তব্য করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র।