Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দেশের স্বার্থেই বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকতে হবে : সুজনের সেমিনারে বিচারপতি হাবিবুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থেই বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা হচ্ছে না। রাজনীতিতে পারস্পরিক অসহযোগিতা এবং হানাহানি, প্রতিপক্ষের ওপর দমন-পীড়ন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, দলীয়করণ এবং সব ক্ষেত্রে ফায়দা গ্রহণের অপসংস্কৃতির চর্চা চলছে। অপরাধ করে ক্ষমতাধরদের পার পেয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি এখনও বিদ্যমান। এতে দেশের উন্নয়ন থমকে আছে। তাই সঠিক গণতন্ত্রের চর্চায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
গতকাল রাজধানীর জাতীয় শিশু একাডেমীতে সুজনের চতুর্থ জাতীয় সম্মেলন ও দশম বর্ষপূর্তি উত্সবে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, তত্ত্বাধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি এ এস এম শাজাহান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি সভানেত্রী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।
বিচারপতি হাবিবুর রহমান আরও বলেন, অপরাধ করে ক্ষমতাধরদের পার পেয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি এখনও দেশে বিদ্যমান। রাজনীতি করে ক্ষমতায় আসতে পারলেই ক্ষমতার অপব্যবহার করার সংস্কৃতি এদেশে সর্বাধিক। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুরোর মধ্যে কৌশলে ছলাকলা করে ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখার অশুভ প্রতিযোগিতা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচনে গণতান্ত্রিক চর্চার চেয়ে টাকার খেলাই বেশি চলছে। জাতীয় সংসদ হয়ে গেছে ব্যবসায়ীদের আখড়া। নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার থাকলেও সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব নেই বললেই চলে। তাই গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে জনগণের ঐক্য ছাড়া আর কোনো গতি নেই।
ড. আকবর আলি খান বলেন, বর্তমানে রাজনীতির ওপর জনগণের আস্থা নেই। সব জায়গায় বিভক্তি চলছে। তাই রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংসতা ঠেকাতে নাগরিক ঐকমত্য এবং সংগঠিত হতে হবে। এছাড়া এদেশের মানুষের আর কোনো বিকল্প নেই।
এ এস এম শাজাহান বলেন, ভাগ আর ভোগ নিয়েই এদেশের রাজনীতি চলছে। জনগণ যতই দেশকে বিশ্বের বাজারে উপরে তুলতে চাইছে, ততই রাজনৈতিক দলগুলো বাঁশে তেল দিচ্ছে। তাই সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আবেদন, বাঁশে তেল দেয়া বন্ধ করুন, জনগণ উপরে উঠে যাবে।
ড. কামাল হোসেন বলেন, নুর হোসেন এদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রাণ দিয়েছিল। কিন্তু তারপরও রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে এদেশে সঠিক গণতন্ত্রের চর্চা হয়নি। সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।
এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, আমাদের দেশে কেবল নামের গণতন্ত্রই আছে, তার সঠিক চর্চা নেই। আমরা নির্বাচনী গণতন্ত্র পেয়েছি ঠিকই, তার অগ্রযাত্রা তেমন নেই। আর গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন নয়। তাই নিজেদের অধিকার ও রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নাগরিক ঐক্য গড়তে হবে।