Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সীমান্তহত্যা রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা, দলীয় স্বার্থে আ.লীগ দেশও বেচতে পারে : বিবিসি সংলাপে আলোচকদের মন্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
যে কোনো সরকারের প্রধান কাজ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার মানুষের সে অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী একের পর এক বাঙালি হত্যা করলেও বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় প্রতিবাদ-টুকুও করতে পারেনি। তারা এক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সীমান্তহত্যা এ সরকারের চরম ব্যর্থতা। গতকাল বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে ‘সীমান্তে গুলি কি বন্ধুরাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে’—দর্শকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন উপস্থিত বক্তারা। রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে এ সংলাপে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজে’র মেজর (অব.) এ এন এম মনিরুজ্জামান ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সারা আফরিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আকবর হোসেন।
সীমান্তে নিহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিএনপির নেতা হান্নান শাহ বলেন, সীমান্তহত্যা স্বাধীন বাঙালি জাতির জন্য দুঃখজনক। ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের দৃশ্য কোনো বাঙালি ভুলতে পারবে না। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দেশের জন্য ক্ষতিকর। রাষ্ট্রের মন্ত্রী ও সাবেক আমলা এমন বক্তব্য করতে পারেন না। ভারত আমাদের এত বন্ধু যে, আমরা তাদের গুলিতে মারা যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়ে ক্ষমতায় বসালে আমরা ডিপ্লোম্যাটিকভাবে এর সমাধান করব। আর যদি তাতে কাজ না হয়, তবে নিউটনের তৃতীয় শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সরকারের ভাষ্য নয়—উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, আমি সীমান্তহত্যা সমর্থন করি না। পৃথিবীর কেউ করবে না। ভারত সরকারকে এটা বন্ধ করার আহ্বান জানাই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০০১ সাল থেকে এটি শুরু হয়েছে। এর আগে ছিল না। কিন্তু সে সময়ের সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আপনারা জানেন।
মনিরুজ্জামান বলেন, সীমান্তহত্যা সরকারের চরম ব্যর্থতা। পৃথিবীর কোনো সীমান্তে এমন হত্যাকাণ্ড হয় না, এমনকি ইসরাইল-ফিলিস্তিন সীমান্তেও না। বাংলাদেশ সীমান্তে এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধে কোনো বড় পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। এছাড়া এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘বিএসএফ আত্মরক্ষার জন্য হামলা করেছে কি না জানতে হবে’—এমন বক্তব্য বিএসএফের জন্য বর্তমান সরকারের অধিক দরদ প্রমাণ করে। দর্শকরা বলেন, এমন হত্যাকাণ্ড যদি বিজিবি ঘটাত, তার প্রতিবাদে ভারত যে পদক্ষেপ গ্রহণ করত, বাংলাদেশ তা গ্রহণ করেনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা হয় না। আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলেও তার প্রতিফলন হয়েছে। কেন হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা উত্তরণের পথে আছি। দেশ ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। তবে এটা ঠিক আওয়ামী লীগে আগের মতো গণতন্ত্রচর্চা হচ্ছে না। কাউন্সিলগুলোতে আমরা একটি কমিটি ঘোষণা করছি। আর সারাদেশে থেকে আসা কাউন্সিলর তা অনুমোদন দিচ্ছেন। সরাসরি ভোট হচ্ছে না।
মনিরুজ্জামান বলেন, দেশের কোনো দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমরা দেখছি একজন ব্যক্তির হাতে সব ক্ষমতা ন্যস্ত করা হচ্ছে—যিনি তার নিজের দলের নেতাদের কাছে ক্ষমতা দিতে ভয় পাচ্ছেন। যারা নিজের দলের নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমতা দিতে ভয় পান, তারা কীভাবে দেশের জনগণের কাছে ক্ষমতা দেবেন।
হান্নান শাহ বলেন, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন হয়। তবে বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রতিটি পদের জন্য যদি নির্বাচন করা হয়, তবে এর জন্য কত দিন সময় লাগবে, আপনারাই জানেন।
পাকিস্তানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সফরের প্রথম সিদ্ধান্ত কতটুকু যৌক্তিক ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুজ্জামান বলেন, প্রথম সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তবে যারা গ্রহণে করেছে, তারা নিজেদের স্বার্থে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর তারা আওয়ামী লীগের দলীয় লোক ছিল। কারণ সব বোর্ডে সরকারদলীয় লোক নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে।
এর সঙ্গে দর্শকরা একমত হয়ে বলেন, স্বার্থের কারণে আওয়ামী লীগ দেশও বিক্রি করতে পারে। তবে ইনু বলেন, ক্রিকেট বোর্ড একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তারা কেউ দলীয় ছিল না।
সরকারে ও বিরোধী দলের প্রধান নেতা নারী থাকা সত্ত্বেও নারীরা কেন নির্যাতিত হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জাবাবে আলোচকরা বলেন, যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের ক্ষমতা ও আখের গোছাতে ক্ষমতায় এসেছে; সাধারণ নারীদের জন্য নয়।