Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ভাষাসৈনিকসহ গ্রেফতার ৮

২০ নারীর রিমান্ডের প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবে সেমিনারে র্যাব-পুলিশের হানা

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন ভাষাসৈনিক অধ্যাপিকা চেমন আরা। পুলিশ পর্দানশিন ১০ নারীকেও আটক করেছে। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে তাদের আটক করা হয়। সম্প্রতি ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ২০ নেত্রীকে গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং তাদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন এসব নারী। নারী অধিকার আন্দোলন আয়োজিত এই বৈঠকে বিএনপি, মহিলা জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের নারী নেত্রীরা অংশ নিয়েছিলেন। আটককৃতদের মধ্যেও ছাত্রী সংস্থার কর্মীসহ আলোচক হিসেবে আগত অনেক নারী নেত্রী ও শিক্ষাবিদ রয়েছেন। রাত সাড়ে ৭টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাবের বেষ্টনিতে গ্রেফতার আতঙ্কে প্রেস ক্লাবে আরও ১৫-২০ জন নারী অবরুদ্ধ ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ১৭ ডিসেম্বর মগবাজারের কার্যালয় থেকে গ্রেফতার হওয়া ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পর্দানশিন ২০ নারীকে নির্যাতনের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে গতকাল বেলা আড়াইটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে নারী অধিকার আন্দোলন। খবর পেয়ে দুপুর থেকেই প্রেস ক্লাব এলাকায় প্রিজন ভ্যানসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাব ঘিরে রাখে। বেলা ৩টায় আলোচনা সভা শুরু হয়। এ সময় অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য প্রেস ক্লাবে পৌঁছামাত্র গাড়ি থামিয়ে আটক করা হয় আয়োজক সংগঠনের সভানেত্রী ও বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক অধ্যাপিকা চেমন আরা, সংগঠনের সহ-সভানেত্রী ও পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক বিভাগীয় প্রধান মমতাজ মান্নান, যুগ্ম সম্পাদিকা নূরজাহান বেগম, ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যাপক জোত্স্না ইদ্রিসকে। প্রেস ক্লাবে ঢোকার সময় আরও আটক করা হয় লালমাটিয়া মহিলা কলেজের ছাত্রী আমিনা খাতুন ও ইডেনের ছাত্রী সাদিয়াসহ মোট ৬ জনকে।
এদিকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের নজরদারির গ্রেফতার আতঙ্কের মধ্যেই সম্পন্ন হয় গোলটেবিল বৈঠকের কার্যক্রম। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় প্রেস ক্লাবের প্রধান গেটে অবস্থান নেয়া র্যাব ও পুলিশ কয়েক দফায় ৪ নারীকে আটক করে। এ সময় র্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক নারী সদস্য থাকলেও গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেয় পুলিশের পুরুষ সদস্যরা।
আটককৃতদের শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় বিপুলসংখ্যক র্যাব ও পুলিশের উপস্থিতিতে প্রেস ক্লাব এবং আশপাশের এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে গতকাল রাতে শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বেলা সোয়া ২টার দিকে সাত নারীকে আটক করা হয়েছে। এখনও তাদের নামে কোনো মামলা দেয়া হয়নি। সন্দেহজনক আটক করে শাহবাগ থানায় আনা হয়েছে। আটক নারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে কী অভিযোগ তাদের আটক করা হয়েছে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি ওসি সিরাজুল ইসলাম।
শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এএসআই নুরুল আলম বলেন, আটককৃতদের তালিকা তার কাছে নেই। যাদের আটক করা হয়েছে তারা ওসির কক্ষে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জানা গেছে, আটকৃতদের মধ্যে জোত্স্না বেগম, লালমাটিয়া কলেজের ছাত্রী আমিনা খাতুন, ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী সাদিয়া ও ফাতেমা রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, নারী অধিকার আন্দোলনের সেক্রেটারি ড. ফেরদৌস আরা বকুলের পরিচালনায় গতকাল অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির এমপি রাশেদা বেগম হীরা। বক্তব্য রাখেন সুুপ্রিমকার্টের অ্যাডভোকেট ও সাবেক এমপি ফেরদৌস আক্তার ওয়াহিদা, অধ্যাপিকা হাসিনা খানম, সাংবাদিক খাতুনে জান্নাত কণা, জেলখানায় আটক ছাত্রীদের মা-বোন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নিরাপরাধ ও পর্দানশিন ২০ ছাত্রীকে আটক করে ইতিহাসের বর্বরতম অধ্যায় সৃষ্টি করেছে বর্তমান সরকার। এসব নির্যাতিত নারীর পক্ষে তথাকথিক কোনো নারীবাদী নেত্রীরা চুপ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে সরকার আসলে ধর্মহীনতা চালু করার চেষ্টা করছে। জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার সাহস না পেয়ে চোরাগোপ্তা আক্রমণ ও গ্রেফতার করছে, যাতে কেউ এসব সংগঠন না করে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সারাদেশের নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে প্রেস ক্লাব থেকে ১০ নারী আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার সমিতির সভাপতি মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও মহাসচিব সাংবাদিক মিলনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা।