ভিন্ন খবর : অটিস্টিকদের ‘রং প্লানেট’

ডেস্ক রিপোর্ট « আগের সংবাদ
পরের সংবাদ» ০৫ জানুয়ারী ২০১৩, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

‘আসপ্যারগার্স সিন্ড্রোম’ হলো এক ধরনের ‘অটিজম’। এই মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্তরা স্বাভাবিক মানুষের মতো একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। তাই একসময় তাদের ‘সামাজিকভাবে মৃত’ বলা হতো। তবে দিন পাল্টাচ্ছে।
জার্মান চিকিত্সক হান্স আসপ্যারগার ১৯৪৪ সালে এই মানসিক ব্যাধির কথা বলেছিলেন। তাই এর নাম হয়ে গেছে ‘আসপ্যারগার্স সিন্ড্রোম’। জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ এই ব্যাধিতে আক্রান্ত।
একটু অন্যরকম হওয়ার কারণে সমাজের আর দশটা সাধারণ মানুষের চোখে তারা ভিন্ন। তাই সহজে কেউ তাদের সঙ্গে মিশতে চান না। কিন্তু ‘আসপ্যারগার্স সিন্ড্রোমে’ আক্রান্তরা চান বন্ধু বানাতে। তারা সামাজিকভাবে একা হয়ে পড়তে চান না।
এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন এমন একজন, যার নিজেরই এই ব্যাধি আছে। তার নাম আলেক্সান্ডার প্লাংক। মাত্র নয় বছর বয়সে তার এই ব্যাধি দেখা দেয়। ২০০৪ সালে তিনি ‘রং প্লানেট’ নামের একটি ওয়েবসাইট চালু করেন। যার মাধ্যমে অটিজমে আক্রান্তরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া ২০০৬ সাল থেকে ইউটিউবে অটিজমের ওপর কিছু ভিডিও প্রকাশ করেন প্লাংক। এই ভিডিওগুলোর মাধ্যমে অটিস্টিক মানুষদের সামাজিক কিছু নিয়মকানুন শেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে।
প্লাংকের ‘রং প্লানেট’ ফোরামের সদস্যসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার। তবে ২০০৬ সালের একটি ঘটনা প্লাংককে বিপদে ফেলে দিয়েছিল। সে সময় এই ফোরামের সদস্য ১৯ বছর বয়সী উইলিয়াম ফ্রয়েন্ড দু’জনকে হত্যা করার পর নিজেকে খুন করে। তার আগে ফ্রয়েন্ড ‘রং প্লানেট’ ফোরামে বার্তা দিয়েছিল এই বলে যে, তার বাস্তব জীবনে বন্ধু প্রয়োজন এবং সে আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা করছে। শোনা যায়, ওই ঘটনায় ফ্রয়েন্ডের বাবা-মা প্লাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
সামাজিক যোগাযোগে সমস্যা হলেও, কিছু কিছু ব্যাপারে ‘আসপ্যারগার্স সিন্ড্রোমে’ আক্রান্ত ব্যক্তিদের মেধা বেশ শক্তিশালী হয়। যেমন তাদের কোনোকিছু বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা বেশ প্রখর হয়ে থাকে, যেটা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য প্রয়োজন। তাই এবার, ‘আসপ্যারগার্স সিন্ড্রোম’ থাকা ব্যক্তিদের তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেছে জার্মান একটি কোম্পানি। সূত্র : ডিডব্লিউ

শেষের পাতা এর আরও সংবাদ

সাপ্তাহিকী


উপরে

X