Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ফরিদপুরে গণধর্ষণের পর খুন হওয়া চম্পার লাশ সারা রাত মর্গে : পুনরায় ময়নাতদন্ত হয়নি

ফরিদপুর প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ফরিদপুর শহরতলির কানাইপুর ইউনিয়নের কাশেমাবাদ গ্রামে নবম শ্রেণীর মেধাবী স্কুলছাত্রী জাকিয়া সুলতানা চম্পার লাশ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল কবর থেকে তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত হয়নি। ফলে নিহত চম্পার লাশ সারা রাত মর্গেই পড়েছিল। আদালতের নির্দেশে ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ১১টায় লাশ তুলে সেখানে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। পরে রিকশাভ্যানে চম্পার লাশ মর্গে পাঠায়। সেখানে ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা মর্গে গেলেও লাশ দেখে তারা ময়নাতদন্তে অপারগতা প্রকাশ করেন। তদন্ত কমিটির বক্তব্য, ম্যাজিস্ট্রেটের করা সুরতহাল রিপোর্টের সঙ্গে তাদের মতের মিল হচ্ছে না। ময়নাতদন্ত না করে লাশ মর্গে ফেলে রাখার ঘটনায় জেলা প্রশাসক মইনুদ্দিন আহমদ বলেন, ডাক্তার সাহেবরা ময়নাতদন্তে যা পাবেন সেভাবেই রিপোর্ট দেবেন, কিন্তু ময়নাতদন্ত না করে লাশ মর্গে ফেলে রেখে যাবেন কেন। এদিকে কবর থেকে লাশ তোলার সময় চম্পার আত্মীয়স্বজনদের কান্নায় ওই এলাকার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। কবর থেকে লাশ তোলার সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত ফকির, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল খায়েরসহ শত শত গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।
নিহত চম্পার ভাই হাসিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ডা. অঞ্জন কুমার প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় চম্পা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুল রিপোর্ট দিয়ে সন্ত্রাসীদের বাঁচাতে চেয়েছিল। তার দেওয়া রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে আবেদন করলে আদালতের নির্দেশে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশ তোলা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্টে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে হাসিব দাবি করেন। একইসঙ্গে ময়নাতদন্তের রিপোর্টও সঠিকভাবে দেওয়া হলে অপরাধীরা শাস্তি পাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
এদিকে ফরিদপুরে নবম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী জাকিয়া সুলতানা চম্পাকে গণধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে ফরিদপুর জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে গতকাল ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন চলাকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী বিলকিস ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জুলফিকার হোসেন জুয়েল, শহিদ পারভেজ, খন্দকার ফজলুল হক টুলু, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাফিজ, মোজাম্মেল হক, হেমায়েত হোসেন। বক্তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শামীমসহ তার সহযোগীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী চম্পাকে গত ১৩ ডিসেম্বর তার চাচাত বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে বখাটে যুবক শামীম ও তার সহযোগীরা ডেকে নিয়ে গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।