Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

গার্মেন্ট শ্রমিক নিহতের গুজবে গাজীপুরে তুলকালাম : শতাধিক গাড়ি ভাংচুর, চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গার্মেন্ট শ্রমিক নিহত হওয়ার গুজবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গতকাল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর ও একটি স্পিনিং মিলে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পুলিশ দফায় দফায় লাঠিচার্জ করলে সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কালিয়াকৈর-মৌচাক বাসস্টেশন এলাকায় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক শিল্পাঞ্চলের হাইড্রোঅক্সাইড নিটওয়্যার লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার নিটিং অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সজীব (২৫) মহাসড়কের পাশ দিয়ে বাইসাইকেলযোগে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কারখানায় যাচ্ছিলেন। পথে মৌচাক বাসস্টেশনে পৌঁছলে ঢাকা থেকে চন্দ্রাগামী স্কাইলাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মহাসড়কের পাশে সটকে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তার মৃত্যুর গুজব ফ্যাক্টরিতে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় ক্ষিপ্ত শ্রমিকরা স্কাইলাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে (ঢাকা-জ-১৪-০৩২০) অগ্নিসংযোগ করে। কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ, মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশ, কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানা পুলিশ ও গাজীপুরের শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ দফায় দফায় লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে সকাল ৯টার দিকে যান চলাচল শুরু হয়। কিন্তু পুলিশ বিনা উস্কানিতে মৌচাক স্টেশনে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের ওপর দফায় দফায় লাঠিচার্জ করলে শ্রমিক-জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে এবং মহাসড়কে চলাচলরত বাস, ট্রাক, লেগুনাসহ শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করে। ফলে মহাসড়কে আবারও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবারও লাঠিচার্জ করে এবং মৌচাক বাসস্টেশনের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়। এক পর্যায়ে ওসমান মার্কেটে দ্বিতীয় তলার দোকানপাট বন্ধ না করলে পুলিশ দোকানে গিয়ে মারধর শুরু করে। এ ঘটনায় দৈনিক সকালের খবর-এর কালিয়াকৈর প্রতিনিধি ও বাংলাখবর২৪ডটনেট-এর গাজীপুর প্রতিনিধি মো. জাহাঙ্গীর আলম আহত হন। এছাড়াও পথচারী, শ্রমিক ও যাত্রীসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে।
পরে বেলা ১১টার দিকে আহত শ্রমিক সাইফুল ইসলাম মারা যাননি বলে সত্যতা পাওয়া গেলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে কিছুসংখ্যক বহিরাগত শ্রমিক মৌচাক-ফুলবাড়ীয়া আঞ্চলিক সড়কের পাশের ১৫-২০টি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। শ্রমিকরা ভান্নারা এলাকায় আফতাব গ্রুপের একটি কারখানার মেইন গেট ভেঙে ফেলে এবং কাঠুরিয়াচালা এলাকার হাজী ইসলাম উদ্দিন স্পিনিং মিলে গিয়ে অগ্নিসংযোগ করলে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস টিম গিয়ে আধঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে মহাসড়কে এ বিশৃঙ্খার সৃষ্টি করেছে। তারা বেশ কয়েকটি কারখানা ভাঙচুর করে এবং হাজী ইসলাম উদ্দিন স্পিনিং মিলে অগ্নিসংযোগ করে।