Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বাবুগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগরে এবছরও আসেনি পরিযায়ী পাখি

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ (বরিশাল)
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাধবপাশার দুর্গাসাগরের সেই ঐতিহ্য এখন আর নেই। আগের মতো পরিযায়ী পাখি এখন আর আসে না এ সাগরে।
একসময় ছিল যখন শীত মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গাসাগরে অতিথি পাখি ভিড় জমাত। এখন এ বিনোদন কেন্দ্রটির রূপ ও সৌন্দর্য দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে। দুর্গাসাগর-ঘেরা পার্ক এখন নেশাখোর ও বখাটেদের দখলে চলে গেছে। গত দুই বছর আগেও কিছু সংখ্যক অতিথি পাখি এসেছিল এ সাগরে; কিন্তু এ বছর মোটেই অতিথি পাখি দেখা যাচ্ছে না। পাখি না আসার অন্যতম কারণ হিসেবে এলাকাবাসী বলেছে, পর্যটক ও স্থানীয় উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের শিকারের কবলে পড়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও দুর্গা সাগরের পার্শ্ববর্তী বাবুগঞ্জ-বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে গাড়ির হর্ন বাজানো নিষেধ থাকলেও চালকরা তার তোয়াক্কা করছে না। তারা তাদের ইচ্ছামত হর্ন বাজিয়ে চলাচল করছে। একসময় দুর্গা সাগরের সুনাম ছিল দেশব্যাপী। এর অন্যতম কারণ ছিল অতিথি পাখিদের বিচরণ ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে। বিশেষ করে শীত মৌসুম এলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসব পাখির বিচরণ দেখার জন্য দুর্গা সাগরে ভিড় জমাত অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থী। তখন হাজার হাজার অতিথি পাখি এ সাগরে পাখা মেলে ভেসে বেড়াত। সে যেন এক অপরূপ দৃশ্য। ধীরে ধীরে দুর্গাসাগরে সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। পাখি হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আগত বনভোজন পার্টিও দুর্গাসাগর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন আর আগের মতো কেউ দুর্গাসাগরে বনভোজন করতে আসে না। যাকে ঘিরে এ দুর্গাসাগরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে সেই অতিথি পাখি আগের মতো না আসায় বনভোজন স্পটটিও বিলুপ্ত হওয়ার পথে। এছাড়া এখানে অসামাজিক কার্যকলাপ এখন নিত্যদিনের ব্যাপার বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় দিনই আগত অতিথিদের কাছ থেকে উচ্ছৃঙ্খল যুবকরা টাকা, মোবাইল ফোন কেড়ে রাখে। যার ফলে অনেক দর্শনার্থী দিনের বেলাও সেখানে যেতে ভয় পান। বর্তমানে দুর্গা সাগরের অবস্থা খুবই করুণ। পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে এ সাগরের সুনাম ছিল পুরো বরিশাল জেলাসহ দক্ষিণ অঞ্চলবাসীর কাছে। এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শনার্থীরা অতিথি পাখি দেখার জন্য সাগর পাড়ে আসছেন কিন্তু অতিথি পাখির দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিটি সরকারের আমলে দুর্গা সাগরের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য দেয়া হয় প্রতিশ্রুতি। আর এ প্রতিশ্রুতি দেয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে। দক্ষিণ অঞ্চলবাসীর জন্য একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে দুর্গা সাগরের পুরনো সুনাম, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক রূপ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মহলের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তা না হলে আর কখনও আসবে না দূর-দূরান্ত থেকে অতিথি পাখি, যাবে না কোনো পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। যার ফলে বাবুগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গা সাগর হারিয়ে ফেলবে তার পুরনো ঐতিহ্য।