Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পর্যটনের ভরমৌসুমেও মন্দায় কক্সবাজার

আনছার হোসেন, কক্সবাজার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
পর্যটনের ভরমৌসুমেও জমছে না পর্যটন শহর কক্সবাজার। হোটেল ব্যবসাসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মাসের পর মাস ধরে লোকসান গুনছেন। এ সঙ্কট থেকে উত্তরণে কক্সবাজারের হোটেল মালিকরা ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন।
এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সোমবার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ঢাকা থেকে আসা দূরপাল্লার বাসগুলো কক্সবাজার শহরের হলিডে মোড় পর্যন্ত ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণে কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা নিদারুণ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন। আইনশৃঙ্খলা কমিটির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতিও দিয়েছেন কক্সবাজার শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুলসহ কক্সবাজার শহরের অধিকাংশ সমাজসেবা কমিটি। কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, পর্যটন মৌসুমের প্রায় অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও আশানুরূপ পর্যটক আসছেন না কক্সবাজারে। এমনকি পর্যটনের এখন ভরমৌসুম চললেও সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই প্রায় খালি পড়ে থাকছে হোটেলগুলো।
তিনি বলেন, ‘পর্যটক না থাকায় হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা দিনের পর দিন লোকসান গুণে যাচ্ছেন। এমনকি কর্মচারীর বেতন এবং বিদ্যুত্ বিল দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন হোটেল মালিকরা।’ তার মতে, এ অবস্থায় ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন কক্সবাজারের হোটেল মালিকরা। ব্যবসায়ী আবুল কাশেম সিকদার জানান, পর্যটন শিল্পের স্বার্থেই এ দাবি তোলা হয়েছে। ওই দাবি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসককে দেয়া স্মারকলিপিতে ব্যবসায়ীরা যে দাবি তুলেছেন তার মধ্যে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে আসা দূরপাল্লার বাসগুলোকে আগের মতো শহরের হলিডের মোড় পর্যন্ত যাত্রী পৌঁছানোর সুযোগ দান এবং ফিরতি পথে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বাসে ওঠার সুযোগ প্রদান, কমিউনিটি পুলিশিং পুনর্বহাল, মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ, পর্যটন এলাকার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে শহরের পাহাড়ের অংশে ও বস্তিতে পুলিশি অভিযান বৃদ্ধিকরণ, কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন ও গ্যাসলাইন সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত সড়ক পথ চার লেনে উন্নীতকরণ, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কে বিআরটিসি বাস বৃদ্ধিকরণ, দক্ষ পর্যটন কর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে পর্যটন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ ও কর্মশালা পরিচালনাকরণ, পৌরসভা কর্তৃক গৃহীত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পর্যটকসেবি সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিকে আগের মতো আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ অন্যান্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্তকরণ।
কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সোলতান জানান, গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে। এখন চলছে পর্যটনের ভর মৌসুম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত হোটেল, মোটেলের হাজার হাজার কক্ষ খালি পড়ে আছে। তিনি জানান, পর্যটন মৌসুমের প্রায় অর্ধেক সময় চলে গেলেও কক্সবাজারে পর্যটক শূন্যতা বিরাজ করছে। গত ৭ মাসে শহরের হোটেল, মোটেলগুলোর সামর্থ্যের ৫ ভাগ কক্ষও ব্যবহৃত হয়নি।