সাক্ষাত্কারে ডিসিসিআই প্রেসিডেন্ট : উদ্যোক্তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত নয়

দেশের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাল « আগের সংবাদ
পরের সংবাদ» ০৫ জানুয়ারী ২০১৩, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

আমার দেশ : ব্যবসায়ের দিক থেকে গত বছরকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
সবুর খান : হলমার্ক, ডেসটিনি কেলেঙ্কারির পাশাপাশি পদ্মাসেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া গ্যাস, জ্বালানি তেল, বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়িক খরচ অনেক বেড়ে গেছে। মূল্য বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।
আমার দেশ : নতুন বছরে কি প্রত্যাশা করছেন?
সবুর খান : বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি প্রত্যাশা করছি। তবে বিনিয়োগ বেশকিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এর মধ্যে খুবই জরুরি। এছাড়া শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতাও বিনিয়োগের আরেকটি বড় নিয়ামক। এ দুটি বিষয়ে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বিদ্যুত্, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।
আমার দেশ : আমাদের কোন খাতকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন।
সবুর খান : বেসরকারি উদ্যোক্তারাই দেশের শিল্পায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের অবদানেই দেশ এখন শিল্পখাতে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। আর এজন্য অবশ্যই ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমাতে হবে। বর্তমানে ব্যাংকের ঋণের সুদের হার অনেক বেশি। এত উচ্চ সুদে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
আমার দেশ : নতুন বছরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন?
সবুর খান : রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই এ বছরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছি। রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে কোনো অবস্থাতেই বিনিয়োগ বাড়বে না। আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সরকার ও বিরোধীদলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আমার দেশ : রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমাঝোতার লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়ার কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে কিনা?
সবুর খান : সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য এর মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা একটি উদ্যোগ হয়তো নিতে পারি। এটি অনেকটা অ্যাডভোকেসির মতো হবে। আমরা তো আর কাউকে কোনোকিছু মেনে নিতে বাধ্য করতে পারি না। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের প্রতি যদি শ্রদ্ধা ও আস্থা বজায় থাকে তাহলে আলাপ-আলোচনা করেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
আমার দেশ : ইদানিং ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোও রাজনৈতিক মেরুকরণে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এটিকে কীভাবে দেখছেন?
সবুর খান : ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোকে রাজনীতিকীকরণ করা একদম উচিত হবে না। যদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন দেখা দেয় তাহলে কাজ করা অসম্ভব হবে। একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীকে শুধু উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হিসেবে দেখা উচিত। তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত নয়। যদি রাজনৈতিক কারণে বিভাজন তৈরি করা হয় তাহলে দেশের অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আমার দেশ : ব্যবসার ক্ষেত্রে গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু আমাদের দেশে এটি এখনও সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। কোনো সেক্টরে কেউ ভালো করলে সবাই ওইদিকে ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি কীভাবে দেখছেন?
সবুর খান : এটি ঠিক, আমাদের দেশে এক ধরনের গুজুগ রয়েছে। গবেষণার বিষয়টি এখনও গুরুত্ব পায়নি। বিশ্লেষণ না থাকলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা থেকে যায়। ডিসিসিআইয়ের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা থাকলেও এটি সম্পর্কে আমাদের অনেক সদস্যই অবহিত নন।
আমার দেশ : নীতি সহায়তার বিষয়টি নিয়েও অনেক ব্যবসায়ীর অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন।
সবুর খান : নীতি (পলিসি) নিয়ে খুব বেশি সমস্যা আছে বলে আমার মনে হয় না। আমাদের দেশে অনেক নীতি আছে কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন নেই। এরপরও কোনো বিষয়ে যদি নীতির দিক থেকে কোনো সমস্যা দেখা দেয় সেগুলো ব্যবসায়ীরা বসে ঠিক করতে পারেন। এরপর সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজন হলে নতুন নীতি করা যেতে পারে। আর সরকার নিজেও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বলেই আমার বিশ্বাস।
আমার দেশ : গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি প্রণয়ন করছে। এটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে।
সবুর খান : এটি কিছুটা নমনীয় করা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলে তাতে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে আমি আবারও বলছি আমাদের ব্যাংকের ঋণের সুদের হার অবশ্যই কমিয়ে আনতে হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঋণের উচ্চ সুদ হার থাকলে তাতে ব্যবসা করা কঠিন হবে।

সাপ্তাহিকী


উপরে