Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আরও তিন ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিং করতে চায় : অনুমোদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনীহা

আসাদুল্লাহিল গালিব
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বেসরকারি খাতের আরও তিনটি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং করতে চায়। এসব ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শরিয়াহ পরিপালনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কালক্ষেপণ করে তাদের অনুমতি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকিংয়ে ৩০টি শাখা ও উইন্ডো খোলার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তা-ও অনুমোদনে কোনো গতি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি খাতের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিং করার জন্য আবেদন করেছে। তাদের আবেদনে ইসলামী শরিয়াহ্ পরিপূর্ণভাবে পরিপালনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য পাঁচটি উইন্ডো ও পাঁচটি শাখা, ইস্টার্ন ও উত্তরা ব্যাংক ১০টি করে উইন্ডো ও শাখা খোলার আবেদন করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রমতে, বর্তমানে দেশে ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী। দেশের অতিরিক্ত ১৬ শতাংশ রিজার্ভের শতকরা ৯ ভাগই ইসলামী ব্যাংকগুলোর। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকেরই রয়েছে ৮ শতাংশ। সূত্র জানায়, প্রচলিত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতিতে গ্রাহকরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এসব ব্যাংকের বিনিয়োগে অনেক ঝুঁকি রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংক মালিকরা ইসলামী ব্যাংকিংকে উপায় হিসেবে দেখছে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য আবেদন জমা দেয়ার পর একাধিকবার যোগাযোগ করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাগজপত্রের পরীক্ষা শেষে অনুমোদন দেয়া হবে। তবে বছর পেরিয়ে গেলেও অনুমোদন মেলেনি। তাছাড়া অতিরিক্ত কোনো নিয়ম পরিপালনে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও করা হয়নি। সূত্রমতে, ইসলাম ধর্মমতে সুদভিত্তিক লেনদেন হারাম ও কবিরা গোনাহ। মুসলিম প্রধান দেশের জনগণ সুদমুক্ত ব্যাংকিংয়ে প্রবল আগ্রহী। আর বিনিয়োগে ঝুঁকি অনেক কম থাকায় ব্যাংকগুলো ইসলামী ব্যাংকিংয়ে এগিয়ে আসছে। তাছাড়া দেশে বর্তমানে যেসব ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং করে, তারা অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো করছে—যার ইতিবাচক প্রভাব ২০১২ সালের পরিচালন মুনাফায় পড়েছে। সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে পরিচালন মুনাফায় শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। আমদানি-রফতানিতে ভালো ব্যবসা এবং উচ্চ রেমিট্যান্সসহ নানা কারণে এ ব্যাংকের কর ও প্রভিশন-পূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ১৮৩০ কোটি টাকা, এর আগের বছর যা ছিল ১২২৩ কোটি টাকা। শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ২৮৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৫৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আইএফআইসি ব্যাংকের মুনাফা ২৯০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৪৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এক্সিম ব্যাংকের মুনাফা ৪০৭ কোটি থেকে বেড়ে ৫৫০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ১৫৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৯৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ২৬০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮৫ কোটি টাকা। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ৪৬০ কোটি টাকা, যা গত বছরে ছিল ৪৫০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর শাহ আবদুল হান্নান বলেন, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রতি জনগণের বিপুল সাড়া ও সমর্থনের কারণে এদেশে অল্প সময়ের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। ইসলামী ব্যাংকগুলোর আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ অবদান রাখায় দেশের অর্থনীতির ধারায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থার এ সফল অগ্রযাত্রায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, ইসলামের সীমার মধ্যে আধুনিক সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পাদন করা সম্ভব। নর্দান ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শামসুল হক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। অনভিজ্ঞ লোক দ্বারা পরিচালনা করায় ঠিকভাবে মুদ্রানীতি প্রণয়ন হচ্ছে না। এতে সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। অত্যাচার করে কিছু লোকের হাতে টাকা নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ব প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংক কোথাও ব্যর্থ হয়নি। আমাদের দেশেও ইসলামী ব্যাংক অনেক শক্তিশালী। এখানে অতিলোভের সুযোগ নেই। তাই ইসলামী ব্যাংকগুলোকে আরও সামনের দিকে নিয়ে আসা উচিত।