Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ঝালকাঠি : হাতুড়ে আর ভুয়া ডাক্তার দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা

হাতুড়ে আর ভুয়া ডাক্তার দিয়ে চলছে ঝালকাঠি জেলার স্বাস্থ্যসেবা। তাদের চেম্বার পান-বিড়ির দোকানের মতো ছড়িয়ে পড়েছে জেলাজুড়ে। অনিয়ম আর দুর্নীতিই এখানে নিয়ম। সংবেদনশীল এই বিষয়টি নিয়ে নৈরাজ্যকর অবস্থা চলছে। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি দেখেও প্রতিকার করছে না। ফলে অরাজক পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে পুরো জেলার মানুষ। নানা চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে এসব ধনী-গরিব মানুষ চিকিত্সার নামে প্রতারিত হচ্ছেন। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর ভুল ও মিথ্যা তথ্যনির্ভর ছবিতে বিপন্ন হচ্ছে রোগীদের জীবন। এছাড়া জেলা শহরসহ গ্রামাঞ্চলে সরকারি চিকিত্সা কেন্দ্রে চিকিত্সক সঙ্কট ও ক্লিনিকের দালালদের উত্পাতে গরিব রোগীদের চিকিত্সা ব্যাহত ও ব্যয়বহুল হচ্ছে। জেলার চিকিত্সাসেবার বেহাল দশা নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আমার দেশ-এর ঝালকাঠি প্রতিনিধি শফিউল আজম টুটুল

সরকারি হাসপাতালে নেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের সঙ্কটে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ১০২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৪১ জন চিকিত্সক রয়েছেন। পদ শূন্য রয়েছে ৬১টি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অধিকাংশ ডাক্তার থাকেন না, থাকেন ঢাকায় কিংবা ঝালকাঠি সদরে। জেলা সদর হাসপাতালে ২৩টি পদের বিপরীতে ডাক্তার মাত্র ১১ জন। ১২টি পদ শূন্য বহু বছর ধরে। ১১টি কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে মাত্র পাঁচ কনসালট্যান্ট রয়েছেন সদর হাসপাতালে। বাকি ৬টি পদই শূন্য। ২০০৩ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়, কিন্তু জনবল রয়ে গেছে ৫০ শয্যার হাসপাতালের মতোই। বরং ৫০ শয্যার হাসপাতালে যে জনবল থাকার কথা তারও অর্ধেকের কম রয়েছে।
রাজাপুর উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫টি পদের বিপরীতে ছয় ডাক্তার কর্মরত আছেন। এখানে ডাক্তারের শূন্য পদ আছে নয়টি। নলছিটি উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১টি পদের বিপরীতে ১১ ডাক্তার কর্মরত আছেন। এখানে শূন্য পদের সংখ্যা ২০টি। কাঁঠালিয়া (আমুয়া) উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫টি পদের বিপরীতে চার ডাক্তার কর্মরত আছেন। এখানে শূন্য পদ রয়েছে ১১টি। সদর উপজেলার বিভিন্ন সাবসেন্টারে ১২টি পদের বিপরীতে পাঁচ ডাক্তার কর্মরত আছেন। এখানে শূন্য রয়েছে সাতটি পদ। শুধু কীর্তিপাশা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুই ডাক্তার রয়েছেন। ডাক্তারের পাশাপাশি জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে নার্সসহ অন্যান্য জনবল সঙ্কটও রয়েছে। এ কারণে জেলার স্বাস্থ্যসেবা দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ডাক্তার সঙ্কটের কথা স্বীকার করে ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মাসুম আলী আমার দেশকে বলেন, আমরা প্রতি মাসেই ডাক্তার সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে ডিমান্ড জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। কিন্তু ঝালকাঠিতে আমরা ডাক্তার পাচ্ছি না। ডাক্তাররা সেখানে পোস্টিং নিতে চান না। তারা তদবির করে শহরে বদলি হয়ে যান।
সরকারি হাসপাতালে নিম্নমানের খাবার : সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের পরিবেশিত খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, ম্যানুয়ালে যে খাবার দেয়ার নিয়ম রয়েছে সে খাবার রোগীদের পরিবেশন করা হচ্ছে না। নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা পকেট ভারী করছেন। এক্ষেত্রে তারা ম্যানেজ করছেন স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। সরেজমিনে কয়েক মাস আগে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের খাবার নিয়ে চলছে সীমাহীন দুর্নীতি। ঠিকাদার ব্রয়লার মুরগি দিয়ে বিল নিচ্ছে মাছ ও খাসির মাংসের। উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে পুরনো ঠিকাদার লক্ষ্মণ কুণ্ড ইচ্ছামাফিক দরপত্রবহির্ভূত খাবার সরবরাহ করছেন। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় মাছ ও খাসির মাংসের নির্ধারিত দিনে ব্রয়লার মুরগি দিয়েই রোগীদের খাওয়ানো হচ্ছে। তাতেও পরিমাণে কম দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন ঠিকাদার। মাছ ও খাসির মাংসের অধিক দামের অজুহাতে তা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে রোগীদের। অভিযোগ যাচাইয়ে একাধিক দিন সাংবাদিকরা হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান, খাবার তালিকায় মাছ থাকলেও দেয়া হয়েছে ব্রয়লার মুরগি। এছাড়া রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবার পরিমাণেও কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। খাবার সরবরাহে অনিয়ম, মাছ ও খাসির মাংস না দেয়ার বিষয়ে হাসপাতালের আরএমও ডা. মাহাবুবর রহমান জানান, উচ্চ আদালতের মামলার কারণে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা যাচ্ছে না। তাই ছয় বছর আগের দরে মাছ ও খাসির মাংস দেয়া যাচ্ছে না এবং তা সব সময় না পাওয়ায় ব্রয়লার মুরগি পরিবেশন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ঠিকাদার লক্ষ্মণ কুণ্ড জানান, যখন রোগীর চাপ থাকে তখন আরএমও’র অনুমতি নিয়েই ব্রয়লার মুরগি দেয়া হয়। মুরগির মাংস দিয়ে খাসির মাংস ও মাছের বিল নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
সদর হাসপাতালের মাঠে নিয়মিত গরু চরানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ২০/২২টি গরু চরানো হয় সদর হাসপাতালের সামনের মাঠে। গরুর বর্জ্যে হাসপাতালের পরিবেশ দূষিত হলেও এগুলো দেখার যেন কেউ নেই। শুধু হাসপাতালের সামনের পরিবেশই দূষিত নয়, হাসপাতালের বাথরুম ও টয়লেটগুলোও নোংরা থাকে। রোগীরা জানান, এসব টয়লেট অনেক সময় ব্যবহার করা যায় না।

মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত!
প্রসূতি মা ও নবজাতকদের সেবাসহ চিকিত্সার জন্য ঝালকাঠি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এই কেন্দ্রটিতে রোগীরা এখন আর স্বস্তি পাচ্ছেন না। যারা সেবা দেবেন ক্লিনিকের সেসব কর্মচারীই হচ্ছেন ক্লিনিকের দালাল। কোনো রোগী এলেই উল্টোপাল্টা বুঝিয়ে এরা ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এ যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত। আগে এখানকার কর্মচারীরা রোগীদের শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে পার্সেন্টেজের বিনিময় নিয়ে গেলেও বর্তমানে পূর্ব চাদকাঠিতে নতুন চালু হওয়া একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে। মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের মাস্টার রোল পিওন বাবু আল শেফা পলি ক্লিনিকের রিসিপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত। রোগীপ্রতি এখানকার কর্মচারীদের ওই ক্লিনিক থেকে ৫০০ টাকা করে দেয়া হয় বলে জানা গেছে। প্রতিদিনই আলোচিত এই ক্লিনিকটির পাশে দিনে কয়েকবার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের অ্যাম্বুলেন্সটিকে আসা-যাওয়া করতে দেখা যায়। সরেজমিন এই ক্লিনিকটিতে গিয়ে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের নার্স ও আয়াদের পাওয়া গেছে। তারা এখানে কেন এসেছে, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তারা সাংবাদিকদের দিতে পারেনি। মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১২ সালের মার্চ মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মাত্র দুই রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। অ্যানেসথেশিয়ার ডাক্তার না থাকার অজুহাতে এ কয়েক মাস রোগীদের সিজার করা বন্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানেও এখানে কোনো অ্যানেসথেসিয়ার (অজ্ঞান) ডাক্তার না থাকলে বরিশাল থেকে একজন ডাক্তার এনে অপারেশন করা হচ্ছে। আগে কেন এটা সম্ভব হয়নি, এ প্রশ্ন থেকেই গেছে। এখানে প্রচুর রোগীর ভিড় থাকলেও সপ্তাহের শুধু বৃহস্পতিবার রোগীদের সিজার করা হয়। অ্যানেসথেশিয়া করার জন্য বরিশাল থেকে একজন টেকনিশিয়ান আসেন ঝালকাঠিতে। রোগীরা প্রতিদিনই যাতে এখানে সিজার করা যায় সে ব্যাপারে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এদিকে সপ্তাহে এক দিন হিসেবে মাসে মাত্র চার দিন সিজার করার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না রোগীরা। তারা মনে করেন, রোগীদের ক্লিনিকে পাঠানোর জন্যই মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ সপ্তাহে এক দিনের বেশি অ্যানেসথেশিয়ার ডাক্তার আনছেন না। এ ব্যাপারে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালক ডা. জোহায়ের আলী আমার দেশকে বলেন, অজ্ঞান করার জন্য ডাক্তার না থাকায় আমাদের সপ্তাহে এক দিন সিজার করতে হচ্ছে। সপ্তাহের বাকি ছয় দিন যে রোগী আসে, তা এখান থেকে ক্লিনিকে পাঠানোর কথা তিনি স্বীকার করেন।

ক্লিনিক ব্যবসার নামে প্রতারণা
সরকারি নির্দেশনা ও নিয়ম না মেনেই ঝালকাঠিতে গড়ে উঠেছে একের পর এক ক্লিনিক। এই ক্লিনিকগুলোর অধিকাংশই সরকার প্রদত্ত নির্দেশনা মেনে চালু করা হয়নি। এসব ক্লিনিকে জনবল সঙ্কটসহ প্রয়োজনীয় চিকিত্সক ও সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। এ কারণে গ্রামের সহজ-সরল রোগীরা এসে এখানে প্রতারিত হচ্ছে। ক্লিনিকগুলোতে রোগীদের কাছ থেকে রাখাও হচ্ছে গলাকাটা ফিস। প্রশাসনের নাকের ডগায় বছরের পর বছর এভাবে নীতিমালা উপেক্ষা করে ক্লিনিকগুলো মোটা অঙ্কের অর্থ কামিয়ে নিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। প্রতিবছর নবায়নের সময় সিভিল সার্জন ক্লিনিকগুলো পরিদর্শন করলেও নবায়ন ঠিকই হয়ে যায়, কিন্তু ক্লিনিকের সেবার মানের আর উন্নতি হয় না। এ কারণে প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন অনেকে। এছাড়া ক্লিনিকগুলোতে যেসব ডাক্তার এসে সিজারিয়ান অপারেশন করেন, তাদের সঙ্গে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো ডিড নেই। এতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট ডাক্তারকে অভিযুক্ত করার কোনো সুযোগ থাকবে না। নিয়মানুযায়ী প্রতি ডাক্তারকে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকে কাজ করতে হলে তিন বছরের ডিড থাকতে হবে। ১০ বেডের একটি ক্লিনিক পরিচালনার জন্য নিয়মানুযায়ী সার্বক্ষণিক তিন ডাক্তার ও চার নার্স থাকতে হবে। কিন্তু ঝালকাঠির অধিকাংশ ক্লিনিকেই সার্বক্ষণিক তিনজন তো দূরের কথা, একজন ডাক্তার ও ডিপ্লোমা নার্স নেই। রোগীদের সার্বক্ষণিক কেয়ারের জন্য ক্লিনিকের নিয়োগকৃত কোনো ডাক্তারও নেই। এছাড়া ওটি রুমে বাধ্যতামূলক এসি থাকার নিয়ম থাকলেও জেলার ক্লিনিকগুলোতে ওটি রুমে কোনো এসি নেই। এসি না থাকার পাশাপাশি এসব ক্লিনিকের ওটির মাপ ঠিক নেই।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নতুন চালু হওয়া শহরের পূর্ব চাঁদকাঠির আল শেফা পলি ক্লিনিকটিতে সার্বক্ষণিক কোনো ডাক্তার ও নার্স নেই। ওটি রুম নিচতলায় রাস্তার পাশে। ওটি রুমে কোনো এসিও নেই। ডাক্তাররা এসে রোগীদের সিজার করার পরে চলে যায়। এর পরে রোগীরা ক্লিনিকটিতে থাকে ডাক্তার ছাড়া কেয়ারলেস অবস্থায়। শহরের আলোচিত এই ক্লিনিকটিতে ঝালকাঠি স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকজন সরকারি চিকিত্সক ও নার্স কেউ নিজ নামে এবং কেউ আবার ঘনিষ্ঠ স্বজনদের নামে মালিকানা শেয়ার রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে ক্লিনিকটি অনুমোদন ছাড়াই কয়েক মাস চলেছে। ক্লিনিকটি সম্প্রতি অনুমোদনের জন্য আবেদন করে অনুমোদন নিয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, সামসুন্নাহার নামে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের একজন সিনিয়র নার্স নিজের নামে, একই হাসপাতালের আরেকজন চিকিত্সক তার মেয়ের নামে (জেবা), বিনয়কাঠি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক তাপতী রানী, নবগ্রাম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক আরকে সিকদার ও ভৈরবপাশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক মকবুল হোসেন নান্না তাদের অতি নিকটতম স্বজনদের নামে এই ক্লিনিকটির পার্টনার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঝালকাঠি স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্লিনিকটিতে জড়িত থাকায় সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এই ক্লিনিকটিতে রোগী সরবারহ করা হয়।
ঝালকাঠি শহরের হোগলাপট্টির ডা. আলাউদ্দিন ক্লিনিকেও চলছে অনিয়ম। এখানে ডা. আলাউদ্দিন ছাড়া আর কোনো এমবিবিএস ডাক্তার নেই। তিনি নিজে গাইনি বিশেষজ্ঞ না হয়েও এখানে রোগীদের সিজারিয়ান অপারেশন করে থাকেন। বিশ্বরোডের দেশবাংলা ক্লিনিক, রাজাপুরের সোহাগ ক্লিনিক, কাঁঠালিয়া আমুয়ার ইসলামীয়া ক্লিনিক ও নলছিটির শেফা ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নেই। বিশেষ করে এসব ক্লিনিকে অ্যানেসথেশিয়ার ডাক্তার নেই। ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজটি অনেক ক্লিনিকই টেকনিশিয়ান দিয়ে করে থাকে। ক্লিনিকগুলোতে বেশিরভাগ সিজারের রোগী থাকলেও নবজাতকের চিকিত্সার কোনো ব্যবস্থা নেই ক্লিনিকগুলোতে। এভাবেই ক্লিনিকগুলো বছরের পর বছর স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মাসুম আলী আমার দেশকে বলেন, আমরা যখন ভিজিট করতে যাই, তখন তারা ঠিকই ডাক্তার এনে হাজির করে, যার কারণে আমরা কিছু করতে পারি না।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল প্যাথোলজি রিপোর্টের মহামারি
ঝালকাঠি শহরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে চলছে রমরমা বাণিজ্য। এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার বিভিন্ন টেস্টের নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিলেও প্যাথোলজি রিপোর্টের মান নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
অধিকাংশ ক্লিনিকে অশিক্ষিত টেকনিশিয়ান দ্বারা যাবতীয় টেস্টের রিপোর্ট তৈরি করা হয়। এতে অধিকাংশ সময় রোগীদের ভুল রিপোর্ট নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। শহরের বৃহত্ পরিসরের কালীবাড়ী রোডের নিউ মমতাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই যাবতীয় প্যাথোলজি রিপোর্ট করানো হয় রিয়াজুল ইসলাম ও শহিদুল নামের দুই টেকনিশিয়ান দিয়ে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই রিয়াজুল ইসলাম ও শহিদুল এসএসসি পাসও করেননি।
এদিকে এই ক্লিনিকে সম্প্রতি চালু হওয়া ডিজিটাল এক্সরে ও অ্যানালাইজার মেশিনে টেস্টের রিপোর্টও করেন রিয়াজুল ও শহিদুল। এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি শাখা পূর্ব চাঁদকাঠি চৌমাথায়ও রয়েছে। ঝালকাঠি জজ কোর্টের কর্মচারী মো. ইউসুফ আলী খান গত ৪ ডিসেম্বর মমতাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এনালাইজার মেশিনে লিপিট প্রফাইল টেস্ট করালে তাতে ভুল ধরা পরে। ইউসুফ জানান, মমতাজ ডায়াগনস্টিকে তার টিজি রিপোর্ট এসেছে ১৯০। তার এই রিপোর্ট দেখে চিকিত্সকের সন্দেহ হলে পরে তিনি চিকিত্সকের পরামর্শে একই টেস্ট বরিশালের মেডিনোভায় করালে সেখানে তার টিজি রিপোর্ট আসে ৩৯১। শহরের উইনটেক কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী পলাশ আমার দেশকে জানান, তিনি মমতাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কয়েক মাস আগে একই টেস্ট করালে তাতেও ভুল ধরা পরে। মমতাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তার টিজি রিপোর্ট আসে ৩২০ এবং বরিশাল মেডিনোভার রিপোর্টে আসে ২১০। এভাবেই ঝালকাঠি শহরে ক্লিনিকগুলো রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এছাড়া ক্লিনিকগুলো ডাক্তারদের পার্সেন্টেজ দেয়ায় অনেক অপ্রয়োজনীয় টেস্টও করাতে হচ্ছে রোগীদের। মমতাজ ডায়াগনস্টিক ছাড়াও শহরের ঊষা ডায়াগনস্টিক এবং বাণী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৫০ এমএল এক্সরে মেশিন দিয়ে রোগীদের এক্সরে করা হচ্ছে। এসব মেশিন বর্তমানে অচল হলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় তারা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে। ঊষা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবায়ন নেই বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডা. মাসুম আলী বলেন, আমরা যখন ভিজিট করতে যাই তখন তারা টেস্টের জন্য উপযুক্ত লোক এনেই হাজির করে, তাই কিছু করতে পারি না।

হাতুড়ে চিকিত্সার মহোত্সব
জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে চিকিত্সার নামে ডিগ্রিবিহীন ডাক্তারের হাতুড়ে চিকিত্সা। শহরের বিশ্বরোডে বিশাল সাইনবোর্ড রয়েছে কলকাতা হারবাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের। প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে যৌন রোগসহ যে কোনো রোগের চিকিত্সা করার কথা বলা হয়েছে। জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই এবং ঢাকায় কলিকাতা হারবাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঝালকাঠি নতুন কলেজ রোডে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে মো. শেখ শহিদুল ইসলাম নামের একজন এলএমএফ ডাক্তার চিকিত্সা করছেন পাইলসের। তিনি বিনা অপারেশনে শরীর থেকে পাইলস অপসারণ করেন। তার অভিনব চিকিত্সা সম্পর্কে জানা যায়, তিনি অ্যাসিডজাতীয় পদার্থ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে পাইলস অপসারণ করে থাকেন। এ কারণে রোগীর ক্যান্সারসহ মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরের বিআইপি রোডে রয়েছে আল মদিনা পিনাকল হারবাল সেন্টার নামে সব অসুখের সমাধানের আরেকটি চেম্বার। এখানে ডাক্তার রোগীর অপারেশনও করে থাকেন। এখানকার ডাক্তার মাওলানা আবদুল জব্বার সিভিল সার্জন অফিস থেকে মাত্র এক মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে আরএমপি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এক মাসের আরএমপি ডিগ্রি অর্জন করেই তিনি সার্জারিও করছেন। এভাবে ঝালকাঠি শহরের বেশকিছু জায়গায় বর্তমানে ব্যাঙের ছাতার মতো হাতুড়ে ডাক্তারদের চেম্বার গজিয়ে উঠেছে। এদের চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রতারিত হচ্ছে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ। এছাড়া রাস্তার পাশে সব রোগের মহা ওষুধের পসরা বসিয়ে একশ্রেণীর হাকিম পরিচয়ধারী লোক গ্রাম থেকে শহরে মামলাসহ নানা কাজে আসা সহজ-সরল মানুষকে প্রতারিত করছেন। শহরের পোস্ট অফিস রোডে, ডিসি অফিসের সামনে, বারচলার সামনে ও কলেজ খেয়াঘাটে প্রায় প্রতিদিনই এসব ওষুধ বিক্রেতার আসর জমতে দেখা যায়। ৩০ ডিসেম্বর এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় ডিসি কোর্টের সামনে যৌন ওষুধের পসরা সাজিয়ে বসা হাকিম জাহাঙ্গীরের সঙ্গে। জাহাঙ্গীর জানান, গ্রিন লাইফ হারবাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করছেন তিনি। এসব ওষুধে ওষুধ প্রশাসন বা বিএসটিআইয়ের কোনো অনুমোদন নেই বলে জানান জাহাঙ্গীর। নানা বাহারি নাম দিয়ে তিনি এই শহরে প্রায় বছরখানেক ধরে রাস্তার পাশে পসরা সাজিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলার রাজাপুর উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামের ঠাকুরবাড়ীর হাতুড়ে ডাক্তার শান্তি ডাকুয়া যেকোনো হাত ও পা-ভাঙা রোগীকে অভিনব পন্থায় চিকিত্সা দেন। তার রোগীর সংখ্যাও কম নয়। হাত-পা ফ্র্যাকচার হলে তিনি গাছগাছড়া, বাঁশের কঞ্চি ও নেকড়া দিয়ে পেঁচিয়ে হাত ব্যান্ডেজ করে দেন। বছরের পর বছর এই চিকিত্সা চললেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ কেউই এই অপচিকিত্সা বন্ধের উদ্যোগ নেননি। এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডা. মাসুম আলী বলেন, অনুমোদনহীন ক্ষতিকর ওষুধ বন্ধ করতে পারে ওষুধ প্রশাসন। আমরা পারি তাদের ডাক্তার দিয়ে সহযোগিতা করতে। হাতুড়ে চিকিত্সা সম্পর্কে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমার কিছু করার ক্ষমতা নেই। জেলা প্রশাসন এ বিষয় মোবাইল কোর্ট দিয়ে অভিযান চালালে আমি তাদের সাহায্য করতে পারি।

সর্বত্র ভুয়া ডেন্টাল সার্জন
ঝালকাঠি শহরে রয়েছে অখ্যাত ডিগ্রিধারী অথবা ডিগ্রি ছাড়া ডাক্তারের ডেন্টাল কেয়ার সেন্টার। এসব সেন্টারের বিভিন্ন নাম দিয়ে ও আকর্ষণীয় ডেকোরেশন করে দাঁতের চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে রোগীদের। স্বল্পমেয়াদি কোনো ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে অথবা না নিয়ে নিজেকে দাঁতের ডাক্তার হিসেবে জাহির করছেন এখানকার চিকিত্সকরা। হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের হাজার হাজার টাকা। কোনো কোনো ডেন্টাল কেয়ারের সাইনবোর্ডে ডাক্তারের নাম নেই, আছে শুধু প্রতিষ্ঠানের নাম। আবার কোনো ডেন্টাল কেয়ারের সাইনবোর্ডে বিডিএস ডিগ্রিপ্রাপ্ত ঝালকাঠির বাইরের কোনো ডাক্তারের নাম লেখা থাকলেও দেখা যায়, সে ডাক্তার আদৌ ওই ডেন্টাল ক্লিনিকে আসছেন না, অথবা মাসে দু-এক বার আসছেন। সাইনবোর্ডে বিডিএস ডাক্তারের নাম দিয়ে রোগীদের চিকিত্সা দিচ্ছেন টেকনোলজিস্ট অথবা টেকনোলজিস্টের হেলপার। সরেজমিনে শহরের বেশ কয়েকটি ডেন্টাল কেয়ার সেন্টার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
ঝালকাঠি শহরের কালীবাড়ি রোডে রয়েছে নিরাময় ডেন্টাল হাসপাতাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান। হাসপাতাল নাম দেয়া হলেও এখানে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো বিডিএস ডাক্তার নেই। নেই কোনো বেডও। এখানে সোমবার বিডিএস ডাক্তার ঢাকা থেকে আসে বলা হলেও গত ৩১ ডিসেম্বর সোমবার গিয়ে কোনো বিডিএস ডাক্তার পাওয়া যায়নি। সার্বক্ষণিক এখানে রাজীব নামে একজন টেকনিশিয়ান রোগী দেখেন। তিনিই রোগীদের যে কোনো জটিল সার্জারির কাজ করে থাকেন। শহরের পোস্ট অফিস রোডে ‘মা ডেন্টাল কেয়ার’-এ আর্কষণীয় সাইনবোর্ড থাকলেও এখানে চিকিত্সা দেন একজন বেসরকারি ডিপ্লোমাধারী একজন। মাসে একজন বিডিএস ডাক্তার দু-এক দিনের জন্য এখানে আসেন বলে জানা গেছে। এগুলো ছাড়াও শহরে আরও কিছু ডেন্টাল কেয়ার সেন্টার রয়েছে যেগুলোর কোনো সরকারি রেজিস্ট্রেশন নেই। পোস্ট অফিস রোডে সেবা ডেন্টাল কেয়ার, নতুন কলেজ রোডে মায়ের দোয়া ডেন্টাল কেয়ার ও রোনালসে রোডে জয়িতা ডেন্টাল কেয়ারেরও কোনো সরকারি রেজিস্ট্রেশন নেই। শুধু টেকনোলজিস্ট এবং হেলপাররাই এসব প্রতিষ্ঠানে রোগীদের সব ধরনের দাঁতের চিকিত্সা দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদি ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী টেকনোলজিস্টদের শুধু ‘লুজ টিথ এক্সট্রাকশন’সহ ছোট-খাটো কিছু কাজ করার অনুমোদন রয়েছে। কোনো ধরনের জটিল সার্জারির কাজ করার জন্য তাদের অনুমোদন নেই। কিন্তু শহরের উল্লিখিত ডেন্টাল কেয়ারগুলো সহজ-সরল গ্রামের রোগীদের সব ধরনের চিকিত্সা গ্যারান্টিসহ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এক্ষেত্রে গ্রামের সহজ-সরল রোগীরা শুধু প্রতারিতই হচ্ছেন না, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাঁত নিয়ে আরও জটিল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

অনিয়মই নিয়ম পরিবার পরিকল্পনায়
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে মাঠপর্যায়ে কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীদের দ্বারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না তৃণমূল পর্যায়ের জনগণ। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধু কীর্তিপাশা ইউনিয়ন বাদে বাকি নয়টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়োগ করা ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর (এফডব্লিউভি) এবং মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টরা কেউই নিজ নিজ ইউনিয়নে থাকেন না। তারা সবাই শহরে বাস করেন। অথচ এদের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে সরকারিভাবে আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সব ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর এবং মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের তাদের কর্মস্থলে বাস করার কথা। কিন্তু এই নির্দেশনা কেউই মানছেন না। এদিকে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটররা নিজ নিজ এলাকায় না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তারা বছরের পর বছর কর্মস্থলে আবাসিকভাবে না থেকে শহরে বাসা ভাড়া করে থাকছেন।

  • চারদিকে দেখ চাহি