Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯, ২৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পেশাদার ফুটবলাররা মানসিক বিষাদে ভোগেন

খেলা ডেস্ক
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
যুক্তরাজ্যের ফুটবল পত্রিকা ফের টু একটি সমীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টিকে আবার জনমানসে তুলে ধরেছে। যে ১০০ খেলোয়াড়ের মতামত চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ৭৮ জনই স্বীকার করেছেন, পেশাদারি ফুটবলে মানসিক বিষাদ একটা সমস্যা। ২০০৯ সালে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন জার্মান জাতীয় একাদশের গোলরক্ষক রবার্ট এনকে। পরে প্রকাশ পায়, তার মানসিক বিষাদের সূচনা ২০০৩ সালে, যখন তিনি বার্সেলোনার হয়ে খেলছিলেন। এরপর ২০০৬ সালে আসে একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি : এনকের শিশু কন্যাসন্তান একটি মারাত্মক অসুখে মারা যায়। এনকে তলিয়ে যান বিষাদের অতলে। আশ্চর্যের কথা এই যে, খেলার মাঠে কিন্তু এনকের এই অসুখের কোনো চিহ্ন দেখেনি কেউ। বরং তিনি যেন খেলা থেকে খেলায় ক্রমে আরও দুর্ধর্ষ হচ্ছিলেন।
২০১১ সালে ইংল্যান্ডের গ্যারি স্পিড গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে ঠিক একই রকম বিমূঢ়তার সৃষ্টি করেন। স্পিড ছিলেন এভার্টন, নিউক্যাসল ইউনাইটেড এবং ওয়েলসের সাবেক প্লেয়ার। মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা আগেও কিন্তু স্পিড বিবিসির ফুটবল ফোকাস অনুষ্ঠানে খোশমেজাজে কথাবার্তা বলেছেন। মানসিক বিষাদে সাধারণ মানুষেরাও যেমন ভোগে, তেমনই ভোগেন ফুটবলের আপাতদৃষ্টিতে সফল এবং আর্থিক বিচারে অতীব সচ্ছল পেশাদাররা। কিন্তু ফুটবল খেলা এবং খেলোয়াড়দের যে পুরুষ, এমনকি বীরপুরুষসুলভ ভাবমূর্তি আছে, তার সঙ্গে মানসিক বিষাদের ছবিটা বিশেষ মেলে না, বিশেষ করে যদি ফুটবল ফ্যানদের কথা ভাবা যায়।
অথচ একজন পেশাদারি ফুটবল খেলোয়াড়কে অতি কম বয়সে এক ধরনের বিরাট দায়িত্ব এবং প্রত্যাশার চাপ সহ্য করতে হয়; তার সংক্ষিপ্ত খেলোয়াড়ি জীবনে ভবিষ্যতের সংস্থান করে নেয়ার চাপ যুক্ত হয় সেইসঙ্গে। এছাড়া থাকে প্রতি সপ্তাহান্তে মাঠে প্রতিপক্ষ এবং ফ্যানদের সঙ্গে মোলাকাত, সুউচ্চ সাফল্যের আশা এবং সুগভীর ব্যর্থতার আশঙ্কা। এসব মিলিয়ে যত সঙ্গোপনেই হোক না কেন, মানসিক বিষাদের মেঘ ঘনিয়ে আসাটা কিছু আশ্চর্যের নয়।
এতদিনে লিভারপুলের সাবেক স্ট্রাইকার স্ট্যান কলিমোরের মতো ফুটবলাররা ডিপ্রেশন বা মানসিক বিষাদ প্রসঙ্গে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। মাঠে একজন ভীত, সন্ত্রস্ত তরুণ ফুটবলারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফুটবলের টেস্টেস্টেরন-পরিপূর্ণ জগত্টাকে দেখাতে শুরু করেছেন। পারফর্ম না করতে পারার শঙ্কা, মারমুখী ফ্যানদের আতঙ্ক। এমন একটা জগত্, যেখানে কোচই একমাত্র ভরসা।
কাজেই সৈন্যদের ক্ষেত্রে ‘পোস্ট ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার’কে স্বীকৃতি দিতে যেমন বহুদিন সময় লেগেছে, ফুটবলের ক্ষেত্রে ডিপ্রেশনেরও স্বীকৃতি পেতে সম্ভবত ঠিক ততটাই সময় লাগবে।
সূত্র : গার্ডিয়ান