Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৩ পৌষ ১৪১৯, ১৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সিপিজের তথ্য : এ বছর বিশ্বে পেশাগত কারণে ১০১ সাংবাদিক খুন

এনা, নিউইয়র্ক
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
গত বছরের চেয়ে এবার (২০১২) বিশ্বে সাংবাদিক খুনের ঘটনা ৪২% বেড়েছে। খুন হওয়া সাংবাদিকের এ সংখ্যা ৬৭। এর মধ্যে বাংলাদেশের গ্রামের কাগজের জামালউদ্দিনও রয়েছেন। তবে এটিএন বাংলার মেহেরুন রুনি এবং মাছরাঙা টিভির গোলাম মোস্তফা সারওয়ারের নাম এ তালিকায় নেই। কারণ এ সাংবাদিক দম্পতি যে সাংবাদিকতার জন্যই খুন হয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত নিউইয়র্কভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)। ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী সিপিজে এ সংবাদ এনাকে দিয়েছে ২৫ ডিসেম্বর। সিপিজে বলেছে, ১৯৯২ সাল থেকে তারা সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রশ্নে নিরন্তর কাজ করছে। ১৯৯২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে পেশাগত কারণে ১৩ সাংবাদিক খুন হয়েছেন। এছাড়া আরও ৭ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন ভিন্ন কারণে। ১৯৯২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ২০ বছরে বাংলাদেশে যেসব সাংবাদিক খুন হয়েছেন, তার ৭৭% ক্রাইম রিপোর্টিংয়ের জন্য, ৪৬% খুন হয়েছেন দুর্নীতির সংবাদের জন্য, রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের সংবাদের জন্য ৩১%, ব্যবসায়িক রিপোর্টের জন্য ৮% এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংবাদ প্রকাশের জন্য খুন হয়েছেন ৮% সাংবাদিক। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক খুনের সংখ্যা বাড়ারর মূল কারণ চিহ্নিত হয়েছে সিরিয়ায় যুদ্ধ এবং সোমালিয়ায় শ্যুটিং ও পাকিস্তানে অব্যাহত দাঙ্গা-হাঙ্গামার জন্য। এছাড়া ব্রাজিলেও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বেড়েছে। এ বছর ইন্টারনেট সাংবাদিকতার ওপরও হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে সিপিজে মন্তব্য করেছে। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হয়েছেন উল্লেখযোগ্য হারে। সিপিজের বার্ষিক পর্যালোচনামূলক এ প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ব্যাপারে এরই মধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিপিজে। সিপিজে ১৯৯২ সাল থেকেই এ তথ্য সংগ্রহ করছে। সে সময় থেকে চলতি ২০১২ সাল পর্যন্ত সারাবিশ্বে ৯৬২ সাংবাদিক খুন হয়েছেন প্রকাশিত সংবাদে সংশ্লিষ্ট দুর্বৃত্তের হাতে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ১৩ সাংবাদিকও রয়েছেন। এছাড়া উপরোক্ত সময়ে বাংলাদেশে আরও ৬ সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত উদ্ঘাটিত হয়নি যে তারা প্রকাশিত সংবাদে ক্ষুব্ধ মহল কর্তৃক খুন হয়েছেন। চলতি ২০১২ সালে পেশাগত কারণে বাংলাদেশে খুন হওয়া সাংবাদিকের নাম জামালউদ্দিন। তিনি গ্রামের কাগজ নামের একটি পত্রিকার রিপোর্টার ছিলেন। এ বছর পাকিস্তানে ৭, ভারতে ১, সিরিয়ায় ২৮, সোমালিয়ায় ১২, ব্রাজিলে ৪, রাশিয়ায় ১, থাইল্যান্ডে ১, নাইজেরিয়ায় ১, মিসরে ১, ইরানে ১, ইকুয়েডরে ১, মেক্সিকোতে ১, বাহরাইনে ১, কলম্বিয়ায় ১, তানজানিয়ায় ১, কম্বোডিয়ায় ১, ইন্দোনেশিয়ায় ১, ফিলিপাইনে এবং লেবাননে ১ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। সংবাদের কারণে খুন হয়েছেন কি না, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত না হওয়া খুনের তালিকায় ৩২ জনের মধ্যে মেক্সিকোর ৫, সিরিয়ার ৪, ফিলিপাইনের ৩, ইরাক ৩, বাংলাদেশ ২, ইসরাইল ২, সোমালিয়ার ২ জন রয়েছেন। পেশাগত কারণে ১৯৯৬ সালের পর থেকে বাংলাদেশে খুন হওয়া ১৩ সাংবাদিক হলেন গ্রামের কাগজের জামালউদ্দিন (২০১২ সালের ১৫ জুন), সমকালের গৌতম দাস (২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর), সংগ্রামের শেখ বেলালউদ্দিন (২০০৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি), আজকের কাগজের কামাল হোসেন (২০০৪ সালের ২২ আগস্ট), জন্মভূমির হুমায়ূন কবির (২০০৪ সালের ২৭ জুন), নিউএজের মানিক সাহা (২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি), অনির্বাণের শুকুর হোসেন (২০০২ সালের ৫ জুলাই), দৈনিক পূর্বাঞ্চলের হারুনর রশীদ (২০০২ সালের ২ মার্চ), অনির্বাণের নাহার আলী (২০০১ সালের ২১ এপ্রিল), জনকণ্ঠের শামসুর রহমান (২০০০ সালের ১৬ জুলাই), দৈনিক বীর দর্পণের মীর ইলিয়াস হোসেন (২০০০ সালের ১৫ জানুয়ারি), দৈনিক রানারের সাইফুল আলম মুকুল (১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট) এবং নীল সাগরের মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (১৯৯৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি)। পেশাগত কারণে খুন হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এমন ৬ সাংবাদিক হলেন এটিএন বাংলার মেহেরুন রুনি (২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি), মাছরাঙা টেলিভিশনের গোলাম মোস্তফা সারওয়ার (২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি), দুর্জয় বাংলার দিপঙ্কর চক্রবর্তী (২০০৪ সালের ২ অক্টোবর), পূবালী বার্তার সৈয়দ ফারুক আহমেদ (২০০২ সালের ৩ আগস্ট), ফ্রিল্যান্সার আহসান আলী (২০০১ সালের ২০ জুলাই) এবং অগ্রদূতের এস এম আলাউদ্দিন (১৯৯৬ সালের ১৯ জুন)। ১৯৯২ সাল থেকে এ বছর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক খুন হয়েছেন ইরাকে। এ সংখ্যা ১৫১। দ্বিতীয় শীর্ষে ফিলিপাইন ৭৩। এর পরের ক্রমিকে রয়েছে আলজেরিয়া ৬০, রাশিয়া ৫৪, সোমালিয়া ৪৮, পাকিস্তান ৪৮, কলম্বিয়া ৪৪, সিরিয়া ৩০, ভারত ২৮, মেক্সিকো ২৮, ব্রাজিল ২৪, আফগানিস্তান ২৪, তুরস্ক ২০, শ্রীলঙ্কা ১৯, বসনিয়া ১৯, তাজিকিস্তান ১৭, রুয়ান্ডা ১৭, সিয়েরা লিওন ১৬, বাংলাদেশ ১৩ এবং থাইল্যান্ডে ১০।