Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৩ পৌষ ১৪১৯, ১৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মাওলানা আযাদের মামলায় যে কোনোদিন রায়

আলমগীর হোসেন
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মামলার রায় যে কোনো দিন ঘোষণা করা হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল। গতকাল চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, রায়ের দু’একদিন আগে উভয়পক্ষকে তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।
গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় দফা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। সকালে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীর যুক্তির পাল্টা যুক্তি হিসেবে সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দুটি পক্ষ ছিল। একটি ছিল স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, আরেকটি ছিল বিরুদ্ধে। ওই যুদ্ধে পক্ষের শক্তির বিজয় হয়েছে। আজ দেরিতে হলেও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে।
পাকিস্তানি ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীকে ফেরত দেয়া হলো। আর এখন যাদের বিচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে। আসামিপক্ষের আইনজীবীর এ বক্তব্যের জবাবে সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, তাদের এ বক্তব্য সঠিক নয়। পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে কলাবরেটর (দালাল আইন) বাতিল করা হয়েছিল। কারা বাতিল করেছিল, তা সবাই জানে। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে আইন করার পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য ছিল বিচার করার। প্রসিকিউটরও নিয়োগ করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের পর যারা ক্ষমতায় এলো, তারা এ বিচার করতে চায়নি।
১৯৫ পাকসেনাকে ফেরত দেয়া প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর বলেন, ১৯৭২ সালের ৩ জুলাই জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে প্রথম সিমলা চুক্তি হয়। পরে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। তিনি বলেন, উপমহাদেশে শান্তি বজায় রাখার জন্যই এ চুক্তি করা হয়েছিল।
সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, আমরা কেন এ চুক্তিতে গেলাম, এখানে প্রশ্ন আসে। আমাদের ৪ লাখ মানুষ তখন পাকিস্তানে ছিল। তখন পরিস্থিতি বাধ্য করেছিল চুক্তি করতে। পাকিস্তান সরকার ১৯৫ জনের তাদের আইনে বিচার করার কথা ছিল। কিন্তু তারা করেনি। তিনি বলেন, এখনও ওই ১৯৫ জন পাক যুদ্ধাপরাধীর বিচার আমাদের বর্তমান এ আইনে হতে পারে। তাদের বিচার করার সুযোগ রয়েছে। এ সময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৯৬ সালে আপনারা তো ক্ষমতায় ছিলেন তখন এ বিচার করলেন না কেন? জবাবে হায়দার আলী বলেন, তখন আমাদের মেজরটি ছিল না। তারপর দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছি। ট্রাইব্যুনাল বলেন, ১৯৯৬ সালে জামায়াত আপনাদের সঙ্গে ছিল। এক সঙ্গে আন্দোলন করেছেন সেজন্য? ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সবসময় বলেন, ২০০৮ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছে। এ কারণে আপনারা তাদের নেতাদের বিচার করতে চাচ্ছেন। জবাবে হায়দার আলী বলেন, আমরা কোন পার্টির বিচার করছি না। এখানে বিএনপি নেতাও আছেন। আমরা অপরাধের বিচার করছি। আইনে যারা পড়েন, তাদের বিচার করছি। পরে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী আসামি মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। এ সময় ট্রাইব্যুনাল বিচারের রায় সিএভি করে বলেন, যে কোনোদিন ঘোষণা করা হবে। রায়ের দু’একদিন আগে উভয়পক্ষকে তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।
ট্রাইব্যুনাল শেষে প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আসামি মাওলানা আযাদের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিটি চার্জ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন সাক্ষীরা। তিনি মাওলানা আযাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস শুকুর খান বলেন, আসামি মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে একটি চার্জও রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই মাওলানা আযাদ বেকসুর খালাস পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
গত ২৬ নভেম্বর আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ৩৩ পৃষ্ঠার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। এরপর ওইদিনই তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মাওলানা আযাদের বিরুদ্ধে ২২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে নেপাল চন্দ্র পাঠক, জ্যোত্স্না রানী দাস, মো. মোজাহের সিকদার, ধলা মাতব্বর, প্রফুল্ল কুমার মণ্ডল, রঞ্জিত কুমার নাথ ওরফে বাবুনাথ, ভক্ত রঞ্জন বিশ্বাস, নগেন চন্দ্র মণ্ডল, তুষ্ট কুমার মণ্ডল, মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন, দেবকুমার দাস, রওশন আলী বিশ্বাস, বিনোদ চন্দ্র বিশ্বাস, প্রবোধ কুমার এবং তদন্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন সাক্ষ্য প্রদান করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে এক নারী সাক্ষী ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর শুকুর খান তাদের জেরা শেষ করেন। আসামিপক্ষে কোনো সাক্ষী হাজির করতে না পারায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি।
এর আগে গত ৪ নভেম্বর মাওলানা আযাদের বিরুদ্ধে ৮টি সুনির্দিষ্ট ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, দেশান্তরিত, ধর্মান্তরিতকরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান। তার বিরুদ্ধে ১০টি ঘটনায় ২২টি অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ৪৪৮ পৃষ্ঠার অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল মাওলানা আবুল কালাম আযাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে তার পক্ষে আইনি লড়াই করতে সরকারের খরচে মো. আবদুর শুকুর খানকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। একই সঙ্গে ১১ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলার নথিপত্র (ডকুমেন্ট) ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিতে প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দেয়া হয়। ৯ সেপ্টেম্বর মাওলানা আযাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ২৬ জুলাই তদন্ত সংস্থা মাওলানা আযাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজ শেষ করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়। গত ৩ এপ্রিল মাওলানা আযাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। পরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ডেইলি স্টার ও জনকণ্ঠ পত্রিকায় তাকে আদালতে হাজির হওয়ার হুলিয়া জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনাল। প্রসঙ্গত, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচারের পর এবার আরও একটি মামলার রায়ের ঘোষণা এলো।