Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৩ পৌষ ১৪১৯, ১৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পদ্মা সেতু দুর্নীতির মামলায় সচিব মোশাররফ ও ফেরদৌস গ্রেফতার : আজ রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে হাজির

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার অন্যতম দুই আসামি সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (নদী শাসন) প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌসকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনের সড়ক থেকে তাদের আটক করে দুদক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুদকের ৫ সদস্যের তদন্ত দল দুই আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গতকাল মূলত পরামর্শক নিয়োগে মূল্যায়ন কমিটি কেন চার দফায় ভাঙা হয়েছে, এসবের নেপথ্যে কারা ছিল—ওই বিষয়ে জেরা করা হয়েছে। তবে গতকালের জিজ্ঞাসাবাদে তারা মন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেননি। আজ তাদের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে হাজির করা হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। এর আগে এ দুই আসামি হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে জামিন আবেদন করলেও আদালত সেটি ফিরিয়ে দেয়। তাদের নিয়মিত বেঞ্চে আবেদন করতে বলেন।
আসামিদের গ্রেফতার করে দুদক কার্যালয়ে নেয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল জাহিদের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের তদন্ত টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কমিটির অপর তিন সদস্য ছিলেন কমিশনের উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নাল আবেদীন শিবলী, গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ও মির্জা জাহিদুল আলম। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মূলত কেন চারবার মূল্যায়ন কমিটি ভাঙা হয়েছে, সেখানে সরকারের কোনো চাপ ছিল কি না—এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া চতুরতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিলেও অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
গ্রেফতার অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা দুদকের উইং কমান্ডার তাওহিদুল ইসলাম জানান, গত ১৭ ডিসেম্বর বনানী থানায় মামলা দায়েরর পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছিল। তারা পালাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। গতকাল গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে, তারা গাড়িতে করে শাহবাগ এলাকা দিয়ে যাবেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার নেতৃেত্ব দুদকের তদন্ত দল শাহবাগের চারুকলা ইনস্টিউিটের সামনের সড়ক থেকে একটি গাড়িতে করে যাওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারের পরই তাদের দুদক কার্যালয়ে নিয়ে অনুসন্ধান টিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে। রাতে তাদের শাহবাগ থানা হেফাজতে রাখা হয়।
মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে—উল্লেখ করে উইং কমান্ডার জানান, এ মামলায় বাংলাদেশে থানা আসামি মোট চারজন। আরও দুই আসামি সড়ক ও জনপথ বিভাগের ব্রিজ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ডিভিশন-৪এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও টেন্ডার কমিটির সদস্য প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের এবং এসএনসি-লাভালিনের স্থানীয় এজেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালটেন্টের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা বাংলাদেশেই আছেন। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া কানাডায় থাকা তিন আসামিকে বাংলাদেশে আনা ও তাদের সাক্ষ্য নেয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মাধ্যমে এমএলআর পাঠানো হয়েছে বলে উইং কমান্ডার তাওহীদ জানিয়েছেন।
দুদকের কমিশনার শাহাবুদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারেও শিগগিরই দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে। মামলার এজহারে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসানকে সহযোগী হিসেবে বলা হয়েছে। এছাড়া দুদক তাদের নজরদারিতে রেখেছে। এখন তদন্তে তাদের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না—এ প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার বলেন, তাদের বিষয়ে প্রণিধানযোগ্য কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে সেতু বিভাগ থেকে আবুল হোসেন যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে দু’মন্ত্রীর বিষয়ে দালিলিক কোনো তথ্য পাওয়া গেলেই তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ অর্থাত্ চার্জশিটে আসামি করা হবে।
কানাডিয়ান আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন, দুদকের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আমরা মূলত আসামিদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছি। যেহেতু কানাডিয়ান আসামিরাও একই মামলার এবং তারাও একই অপরাধে অপরাধী, তাই তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এরই মধ্যে তারা কানাডার আদালতে বিচারের সম্মুখীন। সেক্ষেত্রে তাদের বিষয়ে আমরা কী প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে পারি, সে বিষয়ে আইনি বিষয়গুলো বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। তাদের জ্ঞািসাবাদও জরুরি। কারণ তারা এ মামলায় প্রত্যক্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ আসামি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ না করলে আমাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া দুষ্কর হবে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা যে এমএলআর পাঠিয়েছি, আমরা আশা করছি, শিগগিরই কানাডিয়ান সরকার তার জবাব দেবে। এমএলআর পাঠানোর অনেক দিন অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু এখনও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আদৌ পাওয়া যাবে কি—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাবুদ্দীন চুপ্পু বলেন, আমরা খুব জোরেশোরে চেষ্টা করছি, যাতে দ্রুত তারা সাড়া দেয়। কারণ এ মামলা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আমরা তাদের সিদ্ধান্ত এখনও পাইনি, তাই এ বিষয়ে এখনই কোনো ডেফিনিট মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
মামলার আসামিদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, আরও দুই আসামি গ্রেফতার হয়েছে। তদন্ত দল তদন্ত করছে। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
জামিন আবেদন ফেরত : গত ১৭ ডিসেম্বর সাত আসামির বিরুদ্ধে দুদক বনানী থানায় মামলা দায়েরের পর দুই আসামি মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও কাজী ফেরদৌসের পক্ষে তাদের আইনজীবী ব্যরিস্টার রফিক-উল হক গত ১৯ ডিসেম্বর হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জমা দেন। গতকাল বুধবার ওই আবেদন হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। জামিন আবেদন শুনানি উপলক্ষে গতকাল সকালেই হাইকোর্টে যান দুই আসামি মোশাররফ ও ফেরদৌস। গতকাল হাইকোর্টের অবকাশকালীন বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এ দু’জনের জামিন আবেদনের শুনানি না করে তা নিয়মিত বেঞ্চে উত্থাপন করার নির্দেশ দেয়।
এ সময় আদালত জানতে চায়, আবেদনটি কী নিয়ে করা। জবাবে র্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, এটা পদ্মা সেতুর বিষয়।
আদালত বলে, এটা ফেরত নিয়ে যান। নিয়মিত বেঞ্চে আবেদন করেন। এরপর আবেদন নিয়ে আদালত থেকে ফিরে যান রফিক-উল হক। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, জামিনের জন্য এখন আমরা নিয়মিত বেঞ্চে যাব। আগামি ২ জানুয়ারি অবকাশ শেষে হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চগুলোর কার্যক্রম হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালত প্রাঙ্গণে আগেই নজরদারিতে ছিলেন মামলার দুই আসামি। জামিন আবেদন শুনানি শেষে বের হয়ে চলে যাওয়ার পথে গাড়ি থামিয়ে দুদকের তদন্ত দল তাদের গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু দুর্নীতির বিষয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর বনানী থানায় দায়ের করা মামলায় মোট আসামি ৭ জন। মোশাররফ ও কাজী ফেরদৌস ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের ব্রিজ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ডিভিশন-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও টেন্ডার কমিটির সদস্য প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের, এসএনসি-লাভালিনের স্থানীয় এজেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালটেন্টের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা, এনএসসি-লাভালিনের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, একই প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহা ও এসএনসি-লাভালিনের কানাডিয়ান কর্মকর্তা কেভিন ওয়ালেস।