Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৩ পৌষ ১৪১৯, ১৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে পিটিশন : বিচারপতি মানিকের রুল আপিল বিভাগের চেম্বারে স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বহুল আলোচিত স্কাইপ সংলাপ প্রকাশের অভিযোগে দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ ও পত্রিকাটির প্রকাশনা বাতিলের বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম-কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিয়া গতকাল হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত করেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজহারউল্লাহ ভূঁইয়ার একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিতর্কিত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গত ১৩ ডিসেম্বর সরকার পক্ষের আইনজীবীদের একতরফা শুনানি শেষে স্কাইপ কথোপকথন হ্যাকিং ও তা প্রকাশে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজিপি এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের দু’সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাটি মুদ্রন ও প্রকাশনা আইনের কোনো ধারা লঙ্ঘন করেছে কীনা তা খতিয়ে দেখতে ঢাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। প্রয়োজন হলে বিষয়টি প্রেস কাউন্সিলের বিবেচনার জন্যও পাঠাতে বলা হয় হাইকোর্টের ওই আদেশে। বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আপিল বিভাগের চেম্বার বেঞ্চে একটি আবেদন করেন। গতকাল এই আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী টিএইচ খান, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী। এ সময় আমার দেশ-এর পক্ষে চেম্বার জজ আদালতে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, অ্যাডভোকেট ফয়সাল এইচ খান, অ্যাডভোকেট এএইচএম মোশফিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট রোবাইয়াত হোসেন, ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তৌফিক হোসেন প্রমুখ। সরকার পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. খলিলুর রহমান (এমকে রহমান) ও অ্যাডভোকেট আজহারউল্লাহ ভূঁইয়া (হাইকোর্টে মামলার বাদী) ও মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
শুনানি শেষে চেম্বার জজ আদালত বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের আদেশ আগামী ৬ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে এবং এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত আপিল আবেদন দাখিল করার জন্য আবেদনকারীর প্রতি নির্দেশ দেয়।
আদালতের আদেশের পর আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, বিচারপতি মানিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো আদেশ প্রদান তো দূরের কথা, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো মামলা শুনানিরই এখতিয়ার নেই। কেননা মাহমুদুর রহমান বেশ কিছুদিন আগে বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে তার অপসারণের প্রার্থনা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে একটি আবেদন করেছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এ আবেদন গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে একটি চিঠিও দিয়েছে। কাজেই এই বিচারপতি মানিক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আমলে নেয়া কিংবা শুনানি করতে পারেন না। তাছাড়া বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপ সংলাপ আমার দেশ হ্যাকিং করেনি। আমার দেশে প্রকাশের আগে এ সংলাপ বিভিন্ন সামাজিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে। প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট তা প্রকাশও করেছে। কাজেই আমার দেশ বিচারপতি নাসিমের সংলাপ প্রকাশ করে কোনো দোষ করেনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম তার প্রবাসী বন্ধু ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতা ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে স্কাইপ ও ই-মেইলে যোগাযোগ ও কথোপকথন করেন। শুনানি শুরুর আগেই কমপক্ষে দুটি বিচারের রায় লিখে রাখার কথাও তারা তাদের সংলাপে উল্লেখ করেন। দ্রুত রায় দেয়ার জন্য সরকারের মন্ত্রীদের চাপ এবং দ্রুত রায় দিলে তাকে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে পদোন্নতি দেয়া হবে বলেও আপিল বিভাগের একজন সিনিয়র বিচারপতির আশ্বাসের কথা সংলাপে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের মধ্যকার বিস্তারিত সংলাপের কিছু অংশ ৫ কিস্তিতে আমার দেশ প্রকাশ করার পর বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেন। গত ১৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী হাইকোর্টে আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি রিট আবেদন করেন। এ আবেদন গ্রহণ করে বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক রুল জারি করেন।