Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৩ পৌষ ১৪১৯, ১৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিভাগীয় শহরে গণসংযোগে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ : ‘আওয়ামী চাপাতি’র আঘাতে দেশ আজ ক্ষতবিক্ষত

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
গতকাল দেশব্যাপী ১৮ দলের পূর্ব ঘোষিত গণসংযোগ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হযেছে। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতে এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ১৮ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শেষ হওয়া গণসংযোগ কর্মসূচিতে বিরোধী দলের নেতারা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ডিজিটাল দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার তাদের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর হাতে চাপাতি তুলে দিয়ে মানুষ খুন করাচ্ছে। দেশ আজ ‘আওয়ামী চাপাতি’র আঘাতে ক্ষতবিক্ষত। এরা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও রংপুরে গণসংযোগ কর্মসূচির বিস্তারিত খবর আমাদের অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে :
চট্টগ্রামে ১৮ দলের গণসংযোগে মানুষের ঢল : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ডিজিটাল দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার তাদের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর হাতে চাপাতি তুলে দিয়ে মানুষ খুন করাচ্ছে। দেশের সর্বত্র আজ আওয়ামী চাপাতির আঘাত। এরা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। তিনি বলেন, সরকারের অব্যাহত দুর্নীতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লুটপাট, প্রশাসনে দলীয়করণসহ নানাবিধ অনিয়মের কারণে দেশের জনগণের জীবনমান বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকার তাদের পর্যায়ক্রমিক ব্যর্থতার চিত্র ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল চট্টগ্রামে গণসংযোগ ও বিভিন্ন পথসভা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ এসব কথা বলেন। চারটি পথসভায় হাজার হাজার মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে জনসভায় রূপ নেয়।
গতকাল বেলা ৩টায় নগরীর বন্দর থানার নিমতলা চত্বরে প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। নিমতলার বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, মোস্তাফা কামাল পাশা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, উত্তর জেলার সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, আসলাম চৌধুরী, জামায়াতের আমির আ.ন.ম শামসুল ইসলাম এমপি, মাহবুবের রহমান শামীম, নূরী আরা সাফা, আবু মোজাফফর আনাছ, আবদুর রহমান প্রমুখ।
এদিকে নগরীর মুরাদপুরের পথসভায় সভাপতিত্ব করেন নাজিম উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সামনের চত্বরের পথসভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্পপতি শামসুল আলম।
সিলেটে স্বতঃস্ফূর্ত গণসংযোগ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার বলেছেন, দেশ অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সর্বোচ্চ বিচারালয় দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। মানুষ কোনো বিচার পাচ্ছে না। জুলম-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় মানুষ আজ অতিষ্ঠ। তিনি গতকাল সিলেটের রংমহল পয়েন্টে ১৮ দলের গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি বিএনপি বা ১৮ দলের দাবি নয়, এটা আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
১৮ দলের গণসংযোগকে কেন্দ্র করে নগরীতে গতকাল সকাল ১০টা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে সমবেত হতে থাকে রংমহলের দিকে। এ সময় সিটি পয়েন্ট ও কোর্টপয়েন্টসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জনস্রোতের সৃষ্টি হয়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে নগরীর কেন্দ্রস্থল বন্দরবাজার, কোর্টপয়েন্ট ও জিন্দাবাজার এলাকা। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, জমিয়ত, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা মিছিলসহ গণসংযোগে অংশ নেয়। মিছিলকারীরা দোকানে দোকানে ও পথচারীদের কাছে লিফলেট বিতরণ করতে থাকে। গণসংযোগ কর্মসূচিতে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। গণসংযোগ কর্মসূচি একপর্যায়ে গণমিছিলে রূপ নেয়।
১৮ দলীয় জোট সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি আলহাজ এমএ হকের সভাপতিত্বে ও জোটের সদস্য সচিব এবং নগর জামায়াতের নায়েবে আমির হাফিজ আবদুল হাই হারুনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখায়াত হোসেন জীবন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাবেক এমপি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকি, মহানগর সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, তারেক আহমদ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সমপদাক হুমায়ুন কবির শাহীন, জেলা সংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ, জেলা যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জামায়াতের সিলেট মহানগর আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম শাহীন, জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি শাহীনুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মজলিস মহানগর সহ-সভাপতি আবদুল হান্নান তাপাদার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান, ইসলামী ঐক্যজোট সিলেট মহানগর সভাপতি মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, জাগপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি মকসুদ হোসেন, এলডিপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি সায়েদুর রহমান চৌধুরী রুপা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ প্রমুখ।
খুলনায় স্মরণকালের বৃহত্তম গণসংযোগ কর্মসূচি : খুলনায় ১৮ দলীয় জোটের গণসংযোগ কর্মসূচিতে গণমানুষের ঢল নেমেছে। সকালে নগরীর রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে দুপুরে নিউমার্কেট চত্বরে গিয়ে পৌঁছায়। দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। বেলা সাড়ে ৩টায় একইভাবে খালিশপুর প্লাটিনাম গেট থেকে গণসংযোগ শুরু হয়ে পৌঁছে ফুলবাড়ি গেট জনতা মার্কেট চত্বরে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খান প্রধান অতিথি হিসেবে খুলনায় গণসংযোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সকাল ১১টায় রূপসা ট্রাফিক মোড়ে, দুপুর ১২টায় ময়লাপোতা মোড়ে এবং বেলা ১টায় নিউমার্কেট এরফান চত্বরে পৃথক ৩টি সমাবেশে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খুলনা মহানগর কমিটির সভাপতি এবং ১৮ দলীয় জোট খুলনা সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপির সভাপতিত্বে এসব সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক এমপি এম নূরুল ইসলাম দাদু ভাই। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক হুইপ মসিউর রহমান।
রূপসার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. মঈন খান বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ৪ বছরে প্রমাণ করেছে তারা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ, দুর্নীতিবাজ, জুলুমবাজ ও মিথ্যাচারী একটি সরকার। এ সরকারের একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গত ৪ বছরে বাস্তবায়ন হয়নি। তারা জানে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা শুধু পরাজিতই হবে না, জামানতও বাজেয়াপ্ত হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার সহিংস রাজনীতির প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোট গণতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন ঘটাবে।
কর্মসূচির প্রধান বক্তা বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মসিউর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা কবরস্থান থেকে গণভবন পর্যন্ত সবকিছু দখল করে নিচ্ছে। এরা একটি ওয়াদা খেলাপি-লুটেরা সরকার। তারা আবার ক্ষমতায় এলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না।
সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি বলেন, আওয়ামী দুঃশাসনের জবাব দিতে খুলনার লাখো মানুষ আজ রাজপথে নেমে এসেছে।
বিকালে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের প্লাটিনাম জুট মিল গেটে সমাবেশ ও বিআইডিসি রোডে গণসংযোগ করেন নেতারা। বিকাল পৌনে ৫টায় খানজাহানআলী থানার জনতা মার্কেট চত্বরে সমাবেশ এবং গণসংযোগ চলে মাগরিব পর্যন্ত্ম। এসব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের জেলা আমির মাওলানা এমরান হোসাইন, বিজিপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু, জামায়াতের সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মুহাদ্দেস আবু সাইদ, পিপলস পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সৈয়দ আফতাব হোসেন, পিপলস লীগের লোকমান হাকিম, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী প্রমুখ।
রাজশাহীতে শরিক দল ছাড়াই বিএনপির গণসংযোগ : জোটের ১৭ শরিক দল ছাড়াই রাজশহীতে গতকাল বুধবার বিএনপি নগরীর ৬টি পয়েন্টে গণসংযোগ ও পথসভা কর্মসূচি পালন করেছে। কেন্দ্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী ১৮ দলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে শরিক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে এই ব্যানারে কোনো কর্মসূচি হয়নি। সমন্বয়ের অভাবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পৃথকভাবে এই কর্মসূচি পালন করে। এ নিয়ে তাদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ১৮ দলীয় ঐক্যজোটের রাজশাহীর শীর্ষ নেতা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাদের নিয়ে সভা করা যাচ্ছে না। তবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডা. জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানার কারণে সভা করা যাবে না এটা ঠিক নয়। কারণ জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক দল, কোনো নেতার অনুপস্থিতিতে দলের কার্যক্রম থেমে থাকে না। রাজশাহী মহানগর জামায়াত কেন্দ্রীয় সব কর্মসূচিই পালন করে আসছে। ১৮ দলীয় ঐক্যজোটের গণসংযোগ কর্মসূচির বিষয়ে বলেন, গতকাল নগরীর উপশহর নিউমার্কেট এলাকায় আমরা পৃথকভাবে গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছি। সেখানে পথসভায় নগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সারোয়ার জাহান প্রিন্স ও মাইনুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
এদিকে অন্যান্য কর্মসূচিতে পুলিশ মারমুখী থাকলেও গতকাল গণসংযোগ চলাকালে পুলিশের তেমন তত্পরতা লক্ষ্য করা যায়নি। পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতকে সঙ্গে না নেয়ার শর্তেই মহানগর বিএনপিকে ৬টি পয়েন্টে গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের মৌখিক অনুমতি দিয়েছে আরএমপি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহী নগর পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে নগর বিএনপির নেতারা এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও রাজশাহীর বিএনপির নেতারা নগরীর ৬টি পয়েন্টে গণসংযোগ এবং পথসভা করেছেন। পথসভায় নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠাকারী আওয়ামী লীগ নতুন করে স্বৈরাচারকে সঙ্গী করে একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চায়।
বরিশালে গণসংযোগ সফলভাবে সম্পন্ন : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, যুদ্ধাপরাধ মামলা আওয়ামী লীগের বাহানা ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ এই মুহূর্তে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাধলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা থাকবে না। তিনি গতকাল কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালে ১৮ দল আয়োজিত গণসংযোগ-পূর্বক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় বিএনপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি বলেন, মহাজোট সরকারের ৪ বছরের শাসনামলে বরিশালসহ দেশজুড়ে কোথাও কোনো উন্নয়ন হয়নি। হয়েছে দুর্নীতি আর লুটপাট। তাদের দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। সরোয়ার বলেন, পায়ের তলায় মাটিবিহীন সরকার আবারও ক্ষমতায় যেতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলার মাটিতে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ এমপি, মহানগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জম হোসাইন হেলাল, মহানগর খেলাফত মজলিস সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম শাহজাহান, মহানগর বিএনপি সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহিন, মহানগর জামায়াত সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান, অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল, মনিরুজ্জামান ফারুক, জেলা যুবদলের সম্পাদক শাহেদ আকন সম্রাট, যুবদল নেতা শাহ মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুদ হাসান মামুন, মহানগর শিবির সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নাহিয়ান প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে ১৮ জোট নেতাদের নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। তাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক কর্মীও যোগ দেন।
রংপুরে গণসংযোগে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেছেন, এ সরকারকে অনেক ছাড় দিয়েছি। আর তাদের ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি গতকাল দুপুরে রংপুর মহানগরীতে বিএনপির গণসংযোগের আগে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই হুমকি দেন। মাহবুব বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু দেশের জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না।
পরে নগরীর গ্রান্ডহোটেল মোড় থেকে জেনারেল (অব.) মাহবুবের নেতৃত্বে গণসংযোগ শুরু হয়। গণসংযোগটি পায়রা চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে জেনারেল মাহবুবুর রহমান, আখতারুজ্জামান মিয়া, অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী, রেজিনা ইসলাম, লুত্ফর রহমানসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।