গালিব

২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

বিখ্যাত উর্দু ও ফারসি কবি মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব ১৭৭৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর তত্কালীন মোগল শাসিত আগ্রায় জন্মগ্রহণ করেন। তার সময়ে মোগল সাম্রাজ্য ঔজ্জ্বল্য হারায় এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পতনের মধ্য দিয়ে মোগল সূর্য অস্তমিত হয়ে পড়ে। তার রচিত গজলের আবেদন উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্থান-কাল অতিক্রম করে গেছে। গালিব জীবিকার জন্য কাজ করেননি। সারাজীবনই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কিংবা ধারকর্জ করে জীবন পাড়ি দিয়েছেন। গালিবের পূর্বপুরুষরা সমরখন্দ থেকে ভারতে আগমন করেন। তারা বিভিন্ন রাজা-বাদশাহর আমলে সামরিক কাজে নিযুক্ত ছিলেন। গালিবের বাবা আবদুল্লাহ বেগ খান যখন মারা যান তখন গালিবের বয়স ছিল ৪। এ সময় চাচা নসরুল্লাহ বেগ খান গালিবদের পারিবারিক দায়িত্ব নেন। মাদরাসায় গালিব যুক্তিবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা ও চিকিত্সা শাস্ত্রে পড়াশোনা করেন। কিন্তু তার ঝোঁক ছিল ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি। ৯ বছর বয়সেই গালিব ফারসিতে কবিতা লিখতেন। বিখ্যাত ও মেজাজি কবি মীর তকি মীর গালিবের মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলেন। ১৮১০ সালে গালিব মাত্র ১৩ বছর বয়সে ওমরাও বেগমকে বিয়ে করেন। এর কিছুদিন পর তিনি দিল্লিতে চলে আসেন। এসময় ‘মারুফ’ ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন তিনি। তার প্রথম দিকের কবিতা ফারসি ঘেঁষা ছিল। ফারসি কবি বুলারি, আসির ও বেদির প্রভাব ছিল তার ওপর। তার কবিতা অপূর্ব ছন্দময়। কিন্তু সমালোচনাকে তিনি বরদাশত করতেন না। দরবারি মেজাজের গালিব ভাবতেন, কম লোকই তার কবিতার মূল্যায়ন করতে সক্ষম। গালিব কখনও পালকি ছাড়া কোথাও যেতেন না। যারা তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আসতেন, কেবল তাদেরই সাক্ষাত্ দিতেন। সুরা পানকালেই সাধারণত তিনি কবিতা লিখতেন। জুয়াও খেলতেন তিনি। তবে কোনো বিচ্যুতিই অস্বীকার করতেন না তিনি। এর জন্য কারাবাসও করতে হয় তাকে। মুক্ত হয়ে তিনি লিখেছেন ‘যদি বাঁচতেই হয় আর হিন্দুস্তানে নয়। এ সময় রোম, মিসর, ইরান, মক্কার কথা তার লেখায় উঠে এসেছে। ১৮৫৪ সালে গালিব বাহাদুর শাহ জাফরের উস্তাদ হিসেবে মর্যাদা লাভ করেন। এ সময় আর্থিক সচ্ছলতা কিছুটা ফিরে এলেও তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছিল। মোগল বাদশাহর সময় তিনি যে ভাতা পেতেন, ব্রিটিশরা এসে তা বাতিল করে দেয়। এসময় মানবেতর জীবনের সম্মুখীন হন তিনি। ১৮৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন। নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারের কাছে পারিবারিক গোরস্তানে শায়িত তিনি। গালিব লিখে গেছেন—‘যে কখনও সুরা স্পর্শ করেনি, প্রেমিকার পাদুকাঘাত সহ্য করেনি সে কীভাবে কবি হয়?’ — ইমরান রহমান

ফিরে দেখা এর আরও সংবাদ

সাপ্তাহিকী


উপরে

X