Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৩ পৌষ ১৪১৯, ১৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মিসরে গণভোটে শরিয়ার পক্ষে রায় : ফের রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা : নয়া সংবিধান গণতন্ত্রকে নিরাপদ করবে : মুরসি

বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
মিসরে খসড়া সংবিধানের ওপর গণভোটের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। দু’দফায় অনুষ্ঠিত এ গণভোটে চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী ৬৩ দশমিক ৮ ভাগ ভোটার সংবিধানের পক্ষে রায় দিয়েছেন। সরকার নিয়ন্ত্রিত নিল নিউজ টিভিতে ফলাফল ঘোষণা সরাসরি দেখানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ৩২ দশমিক ৯ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ফল ঘোষণার পর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি বলেছেন, ‘নতুন সংবিধান গণতন্ত্রকে আরও নিরাপদ এবং স্থিতিশীলতাকে টেকসই করবে।’ প্রধানমন্ত্রী হিসাম কান্দিল বলেছেন, ‘এই গণভোটে কেউ হারেনি, বরং সবারই জয় হয়েছে।’ এদিকে নির্বাচনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করে এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দলগুলো। ফল ঘোষণার পর বিক্ষোভ করেছে নতুন সংবিধানবিরোধীরাও। কায়রোতে একটি প্রধান সেতু অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে তারা। গণভোট ও নতুন সংবিধান নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক সংঘাত আবারও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। গত নভেম্বরে ইসলামী শরিয়াকে আইনের প্রধান উত্স ঘোষণা করে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করে মোহাম্মদ মুরসি সরকার। এ নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দেশটির উদারপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো এবং প্রগতিশীল ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নাগরিকরা। অব্যাহত আন্দোলনের মুখে গণভোটের ডাক দেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। ১৫ ও ২২ ডিসেম্বর দু’দফায় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী প্রথম দফায় ৫৬ দশমিক ৫ ভাগ এবং দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৭৪ ভাগ হ্যাঁ ভোট পড়ে। নতুন সংবিধানের পক্ষে বেশি ভোট পড়াকে মোহাম্মদ মুরসি ও তার দল মুসলিম ব্রাদারহুডের জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইসলামী শরিয়াভিত্তিক সংবিধান অনুমোদন হওয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতৃত্বে দেশটি একটি কট্টর ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। গণভোটের ফলাফল ঘোষণা করেছেন দেশটির নির্বাচন কমিশনের প্রধান বিচারপতি সামির আবু আল-মা’তি। এ ফলাফলের পর মিসরের জন্য ইসলামী ভাবধারার নতুন একটি সংবিধান তৈরি হলো। এ সংবিধানে বলা হয়েছে—এখন থেকে মিসরের জন্য সব আইনের উত্স হবে ইসলামী শরিয়া এবং আরবি হবে মিসরের রাষ্ট্রভাষা। ১৫ ও ২২ ডিসেম্বর দু’দফায় এ নির্বাচন হয়। এছাড়া তার আগে প্রবাসী মিসরীরাও গণভোটে অংশ নিয়েছেন। ২০১১ সালে মিসর বিপ্লব সফল হওয়ার পর এটাই দেশটির জন্য প্রথম সংবিধান। এর আগে সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের আমলে মিসরে এ ধরনের জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সংবিধান ছিল না। মুরসি ও তার দল মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত নতুন এই সংবিধান মিসরকে একটি নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচনের ক্ষমতা দেবে। নতুন সংবিধান অনুযায়ী দু’মাসের মধ্যে দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে মুরসিবিরোধীরা ভোটে কারচুপির অভিযোগ করেছেন। দেশটির নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচনে অনিয়মের সব অভিযোগই খতিয়ে দেখা হয়েছে। এদিকে বিতর্কিত নয়া সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর মুরসির সমর্থকরা একযোগে কাজ করার জন্য সব মিসরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ বাদেই বলেছেন, স্বাধীন আকাঙ্ক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নর-নারী, মুসলিম-খ্রিস্টান সবাইকে দেশের নবজন্মের জন্য কাজ করতে হবে।
আলোচকরা বলেছেন, এই সংবিধান ইসলামপন্থীদের পক্ষে গেছে; একইসঙ্গে এর মধ্য দিয়ে বিপ্লবের প্রতি করা হয়েছে বেইমানি। রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে দেশটিতে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভের মুখে ৮ ডিসেম্বর জারি করা ওই ডিক্রি বাতিল করেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। এরপরও আন্দোলনকারীরা না দমলে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেন মুরসি।
এরপর থেকে এই প্রস্তাবিত খসড়া সংবিধান প্রণয়ন নিয়ে মিসরে গত এক মাস ধরে বিতর্ক আর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির প্রস্তাবিত এ সংবিধান নিয়ে গোটা দেশই প্রায় দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর একদিকে রয়েছে ইসলামপন্থীরা। আর অন্যদিকে রয়েছে সংখ্যালঘু, উদারনৈতিক ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা।
প্রস্তাবিত সংবিধানের সমর্থকরা বলছেন, এ সংবিধান মিসরের গণতান্ত্রিক উত্তরণে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মধ্য দিয়ে মিসরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
কিন্তু বিরোধীরা বলছেন, প্রস্তাবিত সংবিধানটি অতিরিক্ত ইসলামনির্ভর এবং এতে মুসলিম ব্রাদারহুডের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে সংবিধানটি প্রণীত হলেও সমস্যা মিটবে না বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, আরব বসন্তের ছোঁয়ায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি মিসরে গণতান্ত্রিক বিপ্লব শুরু হয়। কমপক্ষে সাড়ে আটশ’ বিপ্লবীর প্রাণের বিনিময়ে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি হোসনি মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হন। ওইদিনই ক্ষমতা নেয় দেশটির সেনা কাউন্সিল।