Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৩ পৌষ ১৪১৯, ১৩ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পারস্য উপসাগরে ইরানের সামরিক মহড়া শুরু : কোনো হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান : আহমাদিনেজাদ

রয়টার্স, ইরনা
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ইরান শত্রুদের কোনো হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। মঙ্গলবার খুজেস্তান প্রদেশে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন। আহমাদিনেজাদ পাশ্চাত্যের দেশগুলোর উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনারা ইরানের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করছেন তা কোনো কাজে আসবে না।’ তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শত্রুতার ক্ষেত্রে পরমাণু কর্মসূচি কেবলই অজুহাত মাত্র। এ বিষয়টি শত্রুরাও ভালো করেই জানে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, শত্রুরা হঠাত্ করেই দেখতে পাচ্ছে ইরান আলোর গতিতে উন্নয়ন করে যাচ্ছে। উন্নয়নের এ গতি আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত থাকলে শত্রুরা আর কোনো দিন ইরানের ক্ষতি করতে পারবে না।
এদিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির প্রতি নতুন করে সমর্থন জানিয়েছে ভারত ও রাশিয়া। দেশ দু’টি বলেছে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার তেহরানের রয়েছে।
সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তারা আরও বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কট কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করতে হবে। ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার ১৩তম বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের পর দু’নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্য রাখেন। গতকালই রুশ প্রেসিডেন্ট একদিনের সফরে ভারত যান এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে ২৯০ কোটি ডলারের অস্ত্র ও প্রযুক্তি চুক্তি সই করেন। শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনার অভিযোগে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর আওতায় ইরানের কয়েকটি কোম্পানি এবং একজন ব্যক্তিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ইইউ। এর আগে, গত ১৩ ডিসেম্বর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের কয়েকটি কোম্পানি ও পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এদিকে ইরানের ইসলামী রেভ্যুলুশনারি গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ পার্স গ্যাসফিল্ডের কাছে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। ফজর-৯১ নামের এ মহড়া গতকাল আসালুয়ে এবং দক্ষিণ পার্স এলাকায় শুরু হয়েছে এবং তা আগামী চারদিন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশের পানি সীমার মধ্যে আইআরজিসির নিয়মিত মহড়ার অংশ হিসেবে ফজর-৯১ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহড়া চলাকালে স্থল অভিযান, স্থল থেকে সাগরে অবতরণ, কমান্ডো হামলা, স্থল যানবাহন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলো নানা সামরিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করবে।
আইআরজিসি’র কমান্ডার আলী রেজা নাসেরি বলেছেন, সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে এ অঞ্চলে মোতায়েন সেনাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার জন্য এ মহড়া চালানো হচ্ছে।
এ মহড়ায় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালানোর বিষয়ে এবং এর পাল্টা হিসেবে শত্রুরা যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করে তাও খতিয়ে দেখা হবে।
ইসলামী রেভ্যুলুশনারি গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র সেকেন্ড ইন কমান্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসাইন সালামি, আইআরজিসি’র ডেপুটি নৌ কমান্ডার রিয়াল অ্যাডমিরাল আলি রেজা তাংসিরি, আইআরজিসি’র ডেপুটি চিফ অব অপারেশনস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মেহদি রাব্বানিসহ শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা এ মহড়া পর্যালোচনা করবেন।
এদিকে আগামীকাল থেকে সপ্তাহব্যাপী বিশাল নৌ-মহড়া শুরু হচ্ছে। ওমান সাগরে হরমুজ প্রণালীর পূর্বপাশে ১০ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ওই মহড়া চলবে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি এ কথা বলেন। এ নৌ মহড়ার নাম দেয়া হয়েছে ‘বেলায়াত-৯১’। হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি আরও বলেছেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর নৌ সীমানা মেনে চলার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও আইন মেনেই মহড়া চালানো হবে।’ মহড়ায় সাবমেরিন, ডেস্ট্রয়ার, ক্ষেপণাস্ত্র, টর্পেডো, ড্রোন এবং ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। ওই মহড়ায় নতুন কিছু যুদ্ধ সরঞ্জামের পরীক্ষা চালানো হবে বলে তিনি জানান। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ‘বেলায়াত-৯০’ নামের ১০ দিনব্যাপী নৌ-মহড়া চালায় ইরানের নৌবাহিনী। এর মাধ্যমে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেয়। ইরান ঘোষণা করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম এবং এ অঞ্চলে বিদেশি সেনা উপস্থিতির প্রয়োজন নেই।