মার্কিন উপদেষ্টা হত্যাকারী মহিলা পুলিশ ইরানি : আফগানিস্তানে মার্কিন ঘাঁটিতে তালেবান হামলা : নিহত ৩

রয়টার্স, গার্ডিয়ান
পরের সংবাদ» ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

আফগানিস্তানের খোস্ত শহরে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো এক আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। তিন বছর আগে একই ঘাঁটিতে চালানো আরেকটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় সিআইএ’র ৭ কর্মী নিহত হয়েছিল। গতকাল সকালে চালানো এ হামলায় নিহতরা সবাই আফগান নাগরিক। হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে আফগান তালেবান জানিয়েছে, ঘাঁটিটিতে হামলা চালানোর জন্য বিস্ফোরকে ঠাসা একটি গাড়িসহ এক আত্মঘাতী হামলাকারীকে পাঠিয়েছিল তারা। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ঘাঁটিতে অবস্থানরত আমেরিকানদের সহয়তাকারীরা হামলার লক্ষ্য ছিল। আফগানিস্তানে মোতায়েন ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বাহিনী জানিয়েছে, ঘাঁটিতে প্রবেশ তো দূরে থাক, হামলাকারী ঘাঁটির কাছাকাছিও পৌঁছতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তিনজন ঘাঁটির বাইরে ছিলেন। পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত খোস্তের এই মার্কিন সেনাঘাঁটিতে একটি বিমানক্ষেত্রও আছে। খোস্তে আল কায়দার ঘনিষ্ঠ হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রভাবাধীন এলাকা। তিন বছর আগে আল কায়দার এক ছদ্মবেশী সদস্যের আত্মঘাতী বোমা হামলায় খোস্তের এই মার্কিন ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাত গোয়েন্দা ও এক জর্দানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। তবে এবারের হামলায় সিআইএ’র সঙ্গে জড়িত কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন খোস্তের পুলিশ প্রধান জেনারেল আবদুল কাসিম।
এদিকে আফগান কর্মকর্তারা বলেছেন, কাবুলে মার্কিন উপদেষ্টাকে হত্যাকারী মহিলা পুলিশ ইরানি। দশ বছর আগে তিনি তার স্বামীর সঙ্গে আফগানিস্তানে আসেন। স্বামীর মাধ্যমে ভুয়া এক পরিচয়পত্র নিয়ে ওই মহিলা আফগানিস্তানে আসেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেদিক সেদিকি বলেন, তার (ঘাতক মহিলা পুলিশ) আচরণে অস্থিরতা দেখা গেলেও এর সঙ্গে জঙ্গিদের কোনো যোগসাজশের তথ্য তদন্তে উদঘাটিত হয়নি। সোমবার মহিলা পুলিশের পরিচয় জানা যায়, তার নাম নার্গিস। পেশায় একজন সার্জেন্ট। জর্জিয়ায় ম্যান্সফিল্ডের জোসেফ গ্রিফিনকে (৪৯) তিনি গুলি করেন। এই প্রথম কোনো নারী বিদেশি মিত্রদের বিরুদ্ধে গুলি চালান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডিন করপোরেশন ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, গ্রিফিন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। এর আগে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব পালন করেছেন। কাবুলে তিনি আফগান পুলিশ বাহিনীকে পরামর্শ দিতেন। সোমবার সকালে তিনি মহিলা পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। আফগানিস্তানে জঙ্গিদের মধ্যে মহিলা যোদ্ধার সংখ্যা খুবই নগণ্য। তালেবান অবশ্য তাত্ক্ষণিকভাবে ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। এই মুখপাত্র বলেন, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। চলতি বছর ৪৬টি গুলির ঘটনায় ৬০ জনেরও বেশি সেনা ও বেসামরিক উপদেষ্টা এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন। ২০১১ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৫। কোনো মহিলার এমন উঁচু পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাকে গুলি করার ঘটনা নজিরবিহীন। অবশ্য চলতি বছরের গোড়ার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই কর্মকর্তা গুলিতে নিহত হন। ওই মহিলা পুলিশ বিভ্রান্ত ও কান্নাকাটি করছেন। পুলিশের এক সূত্রে একথা জানা গেছে। ‘তিনি কাঁদছেন আর নাকি বলছেন আমি কী করলাম।’

সাতমহাদেশ এর আরও সংবাদ

সাপ্তাহিকী


উপরে

X