Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জেপির কাউন্সিলে জাতীয় নেতারা : জামায়াত ঘুঘু দেখেছে ফাঁদ দেখেনি : কাদের সিদ্দিকী

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
জাতীয় পার্টি-জেপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জাতীয় নেতারা বলেছেন, কোনো অজুহাতেই গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা যাবে না। যে কোনো মূল্যে এ প্রক্রিয়া অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। আমরা এমন নির্বাচন চাই, যে নির্বাচনের সব রাজনৈতিক দল এবং ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিকব প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। গতকাল রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টি- জেপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল-২০১২ এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এ আহ্বান জানান। কাউন্সিল উদ্বোধন করেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এতে সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলনে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান পদে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মহাসচিব পদে শেখ শহীদুল ইসলাম পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। কাউন্সিলে বিশ্ব নেতাদের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম। এর আগে দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, জেপি নেতাদের আমি দীর্ঘদিন ধরে জানি। তারা সত্, নিষ্ঠাবান এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। একমাত্র জেপি দেশে একটি পরিচ্ছন্ন সরকার দিতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। জেপিকে বিকল্প সরকার তৈরির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমি আশা করি, জনগণ ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাবেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, সশস্ত্রবাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে দুই নেত্রীর মধ্যে দেখা ও কুশল বিনিময় না হওয়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার (খালেদা জিয়া) ভূমিকাই দায়ী। কারণ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের বাধাগ্রস্ত করাসহ বিভিন্ন কারণে তার (বিরোধীদলীয় নেতা) মধ্যে কিছু শঙ্কা, বিব্রতবোধ ও লজ্জা কাজ করেছিল। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সামনে আসেননি।
তিনি বলেন, বক্তব্য শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী যখন সামিয়ানার ভেতরে ভিভিআইপি অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন, তখন বিরোধীদলীয় নেতাও অন্যদিকে কুশল বিনিময় শুরু করেন। আমরা ভেবেছিলাম ওই পাশে কুশল বিনিময় শেষে বিরোধীদলীয় নেতা আবার তার আসনের দিকে আসবেন; কিন্তু তা না করে তিনি পাশ কাটিয়ে চলে যান। এজন্যই দুই নেত্রীর দেখা-সাক্ষাত্ হয়নি।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দেশের রাজনীতি আজ দু’ভাগে বিভক্ত—একদিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি; অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। সুতরাং আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোনদিকে থাকব। মাঝামাঝি থাকার আর সময় নেই।
জেএসডি সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম আবদুর রব বলেন, দেশের অবস্থা খুবই খারাপ। দেশের পরিস্থিতি এভাবে থাকতে পারে না। প্রকৃতিও এটা গ্রহণ করবে না। রাজনীতিবিদদের হাত থেকে রাজনীতি ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এ বিড়ম্বনা আর দেখতে চাই না। এ সঙ্কট থেকে একা মুক্তিলাভ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, একসময় আওয়ামী লীগের বিকল্প ধরা হতো জাসদকে। বলা হতো, আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে জাসদই ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি চক্রের বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে জাসদের ক্ষমতায় যাওয়ার সে পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। এখন আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে বিএনপিকে মনে করা হয়, মহাজেটের বিকল্প ধরা হয় ১৮ দলকে। তারা এক দল আরেক দলকে হটাতে চায়। কিন্তু এ দুটি জোটের জনগণকে কিছু দেয়ার আছে বলে আমরা মনে করি না।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত-ছাত্রশিবিরের ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে বলে অনুষ্ঠানে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন কৃষক-শ্রমিক জনতা পার্টির সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, জামায়াত ঘুঘু দেখেছে, ফাঁদ দেখেনি। ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে ফিরে যেতে পেরেছিল। কিন্তু জামায়াত পুলিশের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে ১২শ’ মাইল দূরে পাকিস্তানে পালিয়ে যেতে পারবে না। তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও আমার বোন শেখ হাসিনা যদি জামায়াতিদের এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ না করতে পারেন, তবে আমরা কোমরে গামছা বেঁধে তাদের প্রতিরোধ করব।’ মহাজোট এবং চারদলীয় জোটের বাইরে থাকতে চান উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করেছি, কিন্তু কোনো স্বীকৃতি পাইনি। তাই কৃষক-শ্রমিক জনতা পার্টি গঠন করেছি। জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
কাউন্সিলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মফিজুল হক বেবু, আবু সাঈদ খান, মিসেস আমেনা বারী, এজাজ আহমেদ মুক্তা, কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ, বীর মুক্তিযোদ্ধ আজিজ বাঙ্গাল প্রমুখ। উদ্বোধনী পর্বে ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
কাউন্সিলের দ্বিতীয় পর্বে সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আদর্শহীন রাজনীতি দিয়ে দেশ ও জনগণের কোনো কল্যাণ সাধন করা সম্ভব নয়। কারণ রাজনীতি হলো আদর্শের বিষয়। যেখানে আদর্শের প্রতি বিশ্বাস থাকতে হয়, সেখানে কী পেলাম, কী পেলাম না, তা কখনও প্রাধান্য পায় না।
দ্বিতীয় পর্বে দলের সাংগঠনিক ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। জেপির কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সমাগমের কারণে পুরো ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তন ছাড়িয়ে আশপাশেও নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। সকাল থেকে রঙ-বেরঙের পতাকা ও ঢোল-বাদ্যের বর্ণাঢ্য মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন। কাউন্সিলে মহিলা কর্মীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।