Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির খোঁজ পায় না দুদক : ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আরাফাত রহমান কোকোর নামে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন মিথ্যাচার করছে বলে আবারও অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ সংস্থাটি আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যখন সারাদেশে সরকারের দুর্নীতি সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে, তখন দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের (সরকার) দুর্নীতির কোনো খোঁজ পায় না। তিনি বলেন, এই দুদক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও সৈয়দ আবুল হোসেনের মতো মন্ত্রীদের ভালো মানুষের সনদপত্র দিয়েছে। অন্যদিকে দুদক বিরোধীদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
গতকাল সকালে নয়া পল্টনের হোটেল ভিক্টোরির হলরুমে দলের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তৃতা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা আলমগীর। অনুষ্ঠানে এসব বিষয় তুলে ধরে জনগণের কাছে তা প্রচার করতে দলীয় নেতাদের পরামর্শ দেন তিনি।
সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে মির্জা আলমগীর বলেন, বিরোধীদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ না করে নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির দায় নিয়ে পদত্যাগ করুন। যুক্তরাষ্ট্রে কে ডলারসহ ধরা পড়েছিল জাতি তা জানতে চায়। পত্র-পত্রিকায় পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের জড়িত থাকার যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য কি না জাতি জানতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপার্সনের ছেলের পাচার করা অর্থ আনার ঘটনাটি ‘ভুয়া’ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে সরকার বিরোধীদলের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। একজন ব্যক্তিকে তার অনুপস্থিতিতে কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শাস্তি দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, হলমার্ক, ডেসটিনি, পুঁজিবাজার থেকে সরকারের লোকজন লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। দেশের মানুষ আর বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই তাদের বলব, ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।
চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম জেলা (উত্তর-দক্ষিণ), রাজশাহী মহানগর, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পাবনা, বরিশাল (দক্ষিণ), নেত্রকোনা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা (দক্ষিণ), নোয়াখালী, খুলনা, ময়মনসিংহ (উত্তর)সহ ২১ জেলার ৭৯ জন প্রতিনিধি এই কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। এতে মহিলা দলের ২৫ জন প্রতিনিধিও অংশ নিচ্ছেন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় বিএনপির রাজনীতি, জিয়াউর রহমানের জীবনালেখ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারের দুঃশাসন, ’৭৫ পূর্ব রাষ্ট্রের মূলনীতি ও সরকার, বাকশাল, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র উত্তরণ প্রভৃতি বিষয়ের ওপর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বক্তৃতা করেন।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কবীর মুরাদ, কাজী আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে এবার পঞ্চমবারের মতো ‘রাজনৈতিক কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হলো। ২০১১ সালের ১৬ অক্টোবর জেলা ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের এই কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার সিনিয়র নেতারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।